৬৫/১৭৭. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৬৮৪ - আল্লাহর পথে খরচ ও রিজিকের আশা
আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ এবং তাঁর আরশ ছিল পানির ওপরে। (সূরা হূদ ১১/৭)
দান করার ফজিলত: খরচ কর, আল্লাহ দান করবেন
সহীহ বুখারী : ৪৬৮৪
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৬৮৪
أَبُو الْيَمَانِ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ عَنِ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ قَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ أَنْفِقْ أُنْفِقْ عَلَيْكَ وَقَالَ يَدُ اللهِ مَلْأَى لَا تَغِيْضُهَا نَفَقَةٌ سَحَّاءُ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ وَقَالَ أَرَأَيْتُمْ مَا أَنْفَقَ مُنْذُ خَلَقَ السَّمَاءَ وَالأَرْضَ فَإِنَّهُ لَمْ يَغِضْ مَا فِيْ يَدِهِ وَكَانَ عَرْشُهُ عَلَى الْمَاءِ وَبِيَدِهِ الْمِيْزَانُ يَخْفِضُ وَيَرْفَعُ ﴾اعْتَرَاكَ﴿ افْتَعَلَكَ مِنْ عَرَوْتُهُ أَيْ أَصَبْتُهُ وَمِنْهُ يَعْرُوْهُ وَاعْتَرَانِيْ ﴾اٰخِذٌ بِنَاصِيَتِهَا﴿ أَيْ فِيْ مِلْكِهِ وَسُلْطَانِهِ عَنِيْدٌ وَعَنُوْدٌ وَعَانِدٌ وَاحِدٌ هُوَ تَأْكِيْدُ التَّجَبُّرِ اسْتَعْمَرَكُمْ جَعَلَكُمْ عُمَّارًا أَعْمَرْتُهُ الدَّارَ فَهِيَ عُمْرَى جَعَلْتُهَا لَهُ نَكِرَهُمْ وَأَنْكَرَهُمْ وَاسْتَنْكَرَهُمْ وَاحِدٌ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ كَأَنَّهُ فَعِيْلٌ مِنْ مَاجِدٍ مَحْمُوْدٌ مِنْ حَمِدَ سِجِّيْلٌ الشَّدِيْدُ الْكَبِيْرُ سِجِّيْلٌ وَسِجِّيْنٌ وَاللَّامُ وَالنُّوْنُ أُخْتَانِ وَقَالَ تَمِيْمُ بْنُ مُقْبِلٍ وَرَجْلَةٍ يَضْرِبُوْنَ الْبَيْضَ ضَاحِيَةً ضَرْبًا تَوَاصَى بِهِ الْأَبْطَالُ سِجِّيْنَا.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তুমি খরচ কর। আমি তোমার উপর খরচ করব এবং [রাসূলুল্লাহ (ﷺ)] বললেন, আল্লাহ তা‘আলার হাত পরিপূর্ণ। রাতদিন অনবরত খরচেও তা কমবে না। তিনি বলেন, তোমরা কি দেখ না, যখন থেকে আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন, তখন থেকে কী পরিমাণ খরচ করেছেন? কিন্তু এত খরচ করার পরও তাঁর হাতের সম্পদ কমে যায়নি। আর আল্লাহ তা‘আলার ‘আরশ পানির উপর ছিল। তাঁর হাতেই রয়েছে দাঁড়িপাল্লা। তিনি নিচু করেন, তিনি উপরে তোলেন।اعْتَرَاكَ افْتَعَلَتَ-এর বাব থেকে। عَرَوْتُهُ-এ অর্থে বলা হয়, তাকে পেয়েছি। তা থেকে يَعْرُوهُ (তার উপর ঘটেছে) ও اعْتَرَانِي (আমার উপর ঘটেছে) ব্যবহার হয়। آخِذٌ بِنَاصِيَتِهَا অর্থাৎ তাঁর রাজত্ব এবং عَنِيدٌ-عَنُودٌ-عَانِدٌ সবগুলোর একই অর্থ স্বেচ্ছাচারী। ওটি দাম্ভিকতা অর্থের প্রতি জোর দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। اسْتَعْمَرَكُمْ তোমাদের বসতি দান করলেন। আরবগণ বলত أَعْمَرْتُهُ الدَّارَ فَهِيَ عُمْرَى আমি এ ঘর তাকে জীবন ধারণের জন্য দিলাম।نَكِرَهُمْ وَأَنْكَرَهُمْ এবং اسْتَنْكَرَهُمْ সবগুলো একই অর্থে ব্যবহৃত। فَعِيلٌ-مَجِبْدٌ-حَمِيدٌ-مَجِيدٌ-এর ওযনে مَاجِدٌ (মর্যাদা সম্পন্ন) থেকে حَمِيدٌ (প্রশংসিত) এর অর্থে مَحْمُوْدٌ থেকে سِجِّيلٌ অতি কঠিন বা শক্ত। سِجِّيلٌ এবং سِجِّينٌ উভয় রূপেই ব্যবহৃত হয়। لاَمُ এবং نُوْنٌ যেন দুই বোন। তামীম ইবনু মুকবেল বলেন, “বহু পদাতিক বাহিনী মধ্যাহ্নে স্কন্ধে শুভ্র ধারালো তলোয়ার দ্বারা আঘাত হানে। কঠিন প্রস্তর দ্বারা তার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য বিপক্ষের বীর পুরুষগণ পরস্পরকে ওসীয়ত করে থাকে।”
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৬৮৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আল্লাহর পথে খরচ করার বড় উৎসাহ আছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তুমি খরচ কর, আমি তোমার উপর খরচ করব। এরপর বলা হয়েছে, আল্লাহর হাত পরিপূর্ণ; রাতদিন অনবরত দানেও তা কমে না। আসমান ও জমিন সৃষ্টির পর থেকে কত দান হয়েছে, তবু তাঁর কাছে যা আছে তা কমেনি। এখানে মূল শিক্ষা হলো, বান্দা আল্লাহর পথে ব্যয় করতে ভয় পাবে না। তবে হাদিসের ভাষা অনুযায়ী কথা বলা জরুরি; অতিরিক্ত নিশ্চয়তার দাবি করা ঠিক নয়। দান, ইনফাক, আল্লাহর রিজিক, খরচ করার ফজিলত এবং আল্লাহর অসীম দান—এসব বিষয় এই হাদিসের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর পথে খরচ করা বান্দার জন্য কল্যাণের কারণ।
- আল্লাহর দান ও ভান্ডার মানুষের খরচে কমে না।
- রিজিকের মালিক আল্লাহ; তাই দানে কৃপণতা কমানো উচিত।
