৬৫/১৯৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৭০৩ - সূরা ফাতিহা কুরআনের মহান সূরা
আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ আর আমি তো আপনাকে দিয়েছি সাতটি আয়াত যা বারবার পাঠ করা হয় এবং দিয়েছি মহা কুরআন। (সূরা হিজর ১৫/৮৭)
সূরা ফাতিহার মর্যাদা: কুরআনের মহান সূরা সম্পর্কে হাদিস
সহীহ বুখারী : ৪৭০৩
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৭০৩
مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ خُبَيْبِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ حَفْصِ بْنِ عَاصِمٍ عَنْ أَبِيْ سَعِيْدِ بْنِ الْمُعَلَّى قَالَ مَرَّ بِيَ النَّبِيُّ ﷺ وَأَنَا أُصَلِّيْ فَدَعَانِيْ فَلَمْ آتِهِ حَتَّى صَلَّيْتُ ثُمَّ أَتَيْتُ فَقَالَ مَا مَنَعَكَ أَنْ تَأْتِيَنِيْ فَقُلْتُ كُنْتُ أُصَلِّيْ فَقَالَ أَلَمْ يَقُلْ اللهُ ﴾يٰٓأَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوا اسْتَجِيْبُوْا لِلهِ وَلِلرَّسُوْلِ﴿ إِذَا دَعَاكُمْ لِمَا يُحْيِيْكُمْ ثُمَّ قَالَ أَلَا أُعَلِّمُكَ أَعْظَمَ سُوْرَةٍ فِي الْقُرْآنِ قَبْلَ أَنْ أَخْرُجَ مِنَ الْمَسْجِدِ فَذَهَبَ النَّبِيُّ ﷺ لِيَخْرُجَ مِنَ الْمَسْجِدِ فَذَكَّرْتُهُ فَقَالَ الْحَمْدُ لِلهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ هِيَ السَّبْعُ الْمَثَانِيْ وَالْقُرْآنُ الْعَظِيْمُ الَّذِيْ أُوْتِيْتُهُ.
আবূ সা'ঈদ ইবনুল মু'আল্লা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমার পার্শ্ব দিয়ে গেলেন, তখন আমি সালাত আদায় করছিলাম। তিনি আমাকে ডাক দিলেন। আমি সালাত শেষ না করে আসিনি। তারপর আমি বললাম। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে বললেন, আমার কাছে আসতে তোমাকে কিসে বাধা দিয়েছিল। আমি আসলাম, আমি সালাত আদায় করছিলাম। তিনি বললেন, আল্লাহ্ তা‘আলা কি এ কথা বলেননি, “হে ঈমানদারগণ! আল্লাহ্ এবং রাসূলের ডাকে সাড়া দাও?” তারপর তিনি বললেন, আমি মসজিদ থেকে বের হয়ে যাওয়ার আগেই কি তোমাকে কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ সূরাটি শিখিয়ে দেব না।তারপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যখন মসজিদ থেকে বের হতে উদ্যত হলেন, আমি তাঁকে কথাটি মনে করিয়ে দিলাম। তিনি বললেন, সে সূরাটি হল, “আল্ হামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন।” এটি হল, বারবার পঠিত সাতটি আয়াত এবং মহা কুরআন যা আমাকে দেয়া হয়েছে।
[১] সূরায়ে ফাতিহাকে ‘মহা কুরআন’ বলা হয়েছে। কারণ, কুরআনের সকল বিষয়বস্তুর মূল কথা এর মধ্যে রয়েছে।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৭০৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবু সাঈদ ইবনুল মু’আল্লা (রাঃ)-এর ঘটনা এসেছে। তিনি সালাত আদায় করছিলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে ডাকেন। সালাত শেষে তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে গেলে নবীজি তাকে আল্লাহ ও রাসূলের ডাকে সাড়া দেওয়ার আয়াত স্মরণ করিয়ে দেন। এরপর তিনি বলেন, মসজিদ থেকে বের হওয়ার আগে তিনি তাকে কুরআনের সবচেয়ে মহান সূরা শেখাবেন। পরে তিনি জানান, সেই সূরা হলো আল হামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামিন, অর্থাৎ সূরা ফাতিহা। হাদিসে সূরা ফাতিহাকে বারবার পঠিত সাত আয়াত এবং মহান কুরআন বলা হয়েছে। তাই সূরা ফাতিহার ফজিলত, উম্মুল কুরআন, সাত আয়াত এবং মহান কুরআন—এসব বিষয় এখানে স্পষ্টভাবে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহ ও রাসূলের ডাকে সাড়া দেওয়ার গুরুত্ব এই হাদিসে বোঝানো হয়েছে।
- সূরা ফাতিহা বারবার পঠিত সাত আয়াত হিসেবে বিশেষ মর্যাদার অধিকারী।
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সাহাবীদের গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান সহজভাবে শিক্ষা দিতেন।
- সালাত ও কুরআনের সম্পর্ক এই হাদিসে সুন্দরভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
