৬৫/২৫৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৭৭৬ - শিরক হলো বড় যুলম
আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরীক কর না। নিশ্চয়ই শিরক তো মহাপাপ। (সূরা লুকমান ৩১/১৩)
শিরক বড় যুলম: ঈমানকে কলুষিত না করার হাদিস
সহীহ বুখারী : ৪৭৭৬
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৭৭৬
قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيْدٍ حَدَّثَنَا جَرِيْرٌ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ إِبْرَاهِيْمَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ {الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا وَلَمْ يَلْبِسُوْآ إِيْمَانَهُمْ بِظُلْمٍ} شَقَّ ذَلِكَ عَلَى أَصْحَابِ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ وَقَالُوْا أَيُّنَا لَمْ يَلْبِسْ إِيْمَانَهُ بِظُلْمٍ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنَّهُ لَيْسَ بِذَاكَ أَلَا تَسْمَعُ إِلَى قَوْلِ لُقْمَانَ لِابْنِهِ {إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيْمٌ}.
‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
যখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হল (আল্লাহ্র বাণী) ঃ যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে যুল্ম দ্বারা কলুষিত করেনি। এটি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সাহাবীদের উপর খুবই কঠিন মনে হল। তখন তাঁরা বললেন, আমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে, তারা তাদের ঈমানকে যুল্ম দ্বারা কলুষিত করেনি? রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, এ আয়াত দ্বারা এ অর্থ বুঝানো হয়নি। তোমরা কি লুকমানের কথা শুননি যা তিনি তাঁর পুত্রকে বলেছিলেন? إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ নিশ্চয় শিরক হচ্ছে বড় যুল্ম।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৭৭৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সাহাবীদের কুরআন বোঝার আন্তরিকতা দেখা যায়। যখন আয়াত নাযিল হলো—যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে যুলম দ্বারা কলুষিত করেনি—তখন সাহাবীদের মনে কষ্ট হলো। তারা ভাবলেন, আমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে কোনো যুলম করেনি? তখন রাসুলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বললেন, এখানে সাধারণ যুলম বোঝানো হয়নি। তিনি লুকমান (আঃ)-এর উপদেশের আয়াত স্মরণ করালেন: নিশ্চয় শিরক বড় যুলম। এই হাদিস আমাদের শেখায়, কুরআনের শব্দ কখনও বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত হয়। ঈমানের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো শিরক। তাই তাওহীদ রক্ষা করা এবং আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরীক না করা একজন মুমিনের প্রধান দায়িত্ব।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শিরক ঈমানের জন্য বড় বিপদ।
- কুরআনের শব্দের সঠিক ব্যাখ্যা নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছ থেকে শেখা দরকার।
- সাহাবীরা আয়াত নাযিল হলে নিজেদের নিয়ে চিন্তা করতেন।
