৬৫/২৫৬. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৭৭৭ - ঈমান, ইসলাম ও ইহসানের পরিচয়
আল্লাহ তা‘আলার বাণী: নিশ্চয় আল্লাহরই কাছে রয়েছে কেয়ামত সংক্রান্ত জ্ঞান (অর্থাৎ কখন ঘটবে)। (সূরা লুকমান ৩১/৩৪)
ঈমান, ইসলাম ও ইহসান: জিবরীল (আঃ)-এর শিক্ষামূলক হাদিস
সহীহ বুখারী : ৪৭৭৭
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৭৭৭
إِسْحَاقُ عَنْ جَرِيْرٍ عَنْ أَبِيْ حَيَّانَ عَنْ أَبِيْ زُرْعَةَ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ كَانَ يَوْمًا بَارِزًا لِلنَّاسِ إِذْ أَتَاهُ رَجُلٌ يَمْشِيْ فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ مَا الإِيْمَانُ قَالَ الإِيْمَانُ أَنْ تُؤْمِنَ بِاللهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَلِقَائِهِ وَتُؤْمِنَ بِالْبَعْثِ الآخِرِ قَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ مَا الإِسْلَامُ قَالَ الإِسْلَامُ أَنْ تَعْبُدَ اللهَ وَلَا تُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَتُقِيْمَ الصَّلَاةَ وَتُؤْتِيَ الزَّكَاةَ الْمَفْرُوْضَةَ وَتَصُوْمَ رَمَضَانَ قَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ مَا الإِحْسَانُ قَالَ الإِحْسَانُ أَنْ تَعْبُدَ اللهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ قَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ مَتَى السَّاعَةُ قَالَ مَا الْمَسْئُوْلُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنْ السَّائِلِ وَلَكِنْ سَأُحَدِّثُكَ عَنْ أَشْرَاطِهَا إِذَا وَلَدَتْ الْمَرْأَةُ رَبَّتَهَا فَذَاكَ مِنْ أَشْرَاطِهَا وَإِذَا كَانَ الْحُفَاةُ الْعُرَاةُ رُءُوْسَ النَّاسِ فَذَاكَ مِنْ أَشْرَاطِهَا فِيْ خَمْسٍ لَا يَعْلَمُهُنَّ إِلَّا اللهُ {إِنَّ اللهَ عِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنْزِلُ الْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ} ثُمَّ انْصَرَفَ الرَّجُلُ فَقَالَ رُدُّوْا عَلَيَّ فَأَخَذُوْا لِيَرُدُّوْا فَلَمْ يَرَوْا شَيْئًا فَقَالَ هَذَا جِبْرِيْلُ جَاءَ لِيُعَلِّمَ النَّاسَ دِيْنَهُمْ.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদিন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) লোকদের সঙ্গে উপবিষ্ট ছিলেন। এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে জিজ্ঞেস করল, ঈমান কী? তিনি বললেন, “আল্লাহ্তে ঈমান আনবে এবং তাঁর মালায়িকাহ, তাঁর নাবী-রাসূলগণের প্রতি ঈমান আনবে এবং আল্লাহ্র দর্শন ও পুনরুত্থানের ওপর ঈমান আনবে।” লোকটি জিজ্ঞেস করল, ইসলাম কী? তিনি বললেন, ইসলাম (হল) আল্লাহ্র ‘ইবাদাত করবে ও তাঁর সঙ্গে অন্য কাউকে শরীক করবে না এবং সালাত কায়িম করবে, ফারয্ যাকাত দিবে ও রমাযানের সিয়াম পালন করবে। লোকটি জিজ্ঞেস করল, ইহ্সান কী? তিনি বললেন, ইহ্সান হচ্ছে আল্লাহ্র ‘ইবাদাত এমন নিষ্ঠার সঙ্গে করবে, যেন তুমি তাঁকে দেখছ। আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও, তবে (জানবে) আল্লাহ্ তোমাকে দেখছেন।লোকটি আরও জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহ্র রাসূল! কখন কিয়ামত ঘটবে? রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, এ ব্যাপারে প্রশ্নকারীর চেয়ে যাকে প্রশ্ন করা হয়েছে, সে অধিক জানে না। তবে আমি তোমার কাছে এর কতগুলো নিদর্শন বলছি। তা হল, যখন দাসী তার মনিবকে জন্ম দিবে, এটা তার একটি নিদর্শন। আর যখন দেখবে, নগ্নপদ ও নগ্নদেহ বিশিষ্ট লোকেরা মানুষের নেতা হবে, এও তার একটি নিদর্শন। এটি ঐ পাঁচটি বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, যা আল্লাহ্ ব্যতীত আর কেউ জানেন না ঃ(১) কিয়ামত সম্পর্কিত জ্ঞান কেবল আল্লাহ্র নিকটই রয়েছে।(২) তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন,(৩) তিনিই জানেন, মাতৃগর্ভে কী আছে।এরপরে সে লোকটি চলে গেল। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, তাঁকে আমার নিকট ফিরিয়ে আন। সাহাবীগণ তাঁকে ফিরিয়ে আনতে গেলেন, কিন্তু কিছুই দেখতে পেলেন না। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, তিনি হলেন জিব্রীল (আঃ), লোকেদেরকে শিক্ষা দেয়ার জন্য এসেছিলেন।
[৫০] র
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৭৭৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক ব্যক্তি এসে নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে ঈমান, ইসলাম, ইহসান ও কিয়ামত সম্পর্কে প্রশ্ন করেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, ঈমান হলো আল্লাহ, ফেরেশতা, কিতাব, রাসূল, আল্লাহর সাক্ষাৎ ও শেষ পুনরুত্থানে বিশ্বাস করা। ইসলাম হলো আল্লাহর ইবাদত করা, তাঁর সঙ্গে কাউকে শরীক না করা, সালাত কায়িম করা, ফরজ যাকাত দেওয়া এবং রমজানের সিয়াম পালন করা। ইহসান হলো এমনভাবে ইবাদত করা যেন তুমি আল্লাহকে দেখছ; না দেখলেও তিনি তোমাকে দেখছেন। কিয়ামতের সময় সম্পর্কে নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, প্রশ্নকারী ও উত্তরদাতা কেউই তা বেশি জানে না। পরে জানা যায়, তিনি ছিলেন জিবরীল (আঃ), মানুষকে দীন শেখাতে এসেছিলেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঈমান, ইসলাম ও ইহসান দীন বোঝার মূল ভিত্তি।
- ইবাদতে আল্লাহর দেখার অনুভূতি রাখা ইহসানের শিক্ষা।
- কিয়ামতের নির্দিষ্ট সময় আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না।
