২/৩৮. অধ্যায়ঃ

সহীহ বুখারী হাদিস ৫০ - ঈমান ইসলাম ইহসান

জিবরীল (আঃ) কর্তৃক আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নিকট ঈমান, ইসলাম, ইহসান ও কেয়ামতের জ্ঞান সম্পর্কে প্রশ্ন।

وَبَيَانِ النَّبِيِّ ﷺ لَهُ ثُمَّ قَالَ جَاءَ جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَام يُعَلِّمُكُمْ دِينَكُمْ فَجَعَلَ ذَلِكَ كُلَّهُ دِينًا وَمَا بَيْنَ النَّبِيُّ ﷺ لِوَفْدِ عَبْدِ الْقَيْسِ مِنَ الْإِيمَانِ وَقَوْلُهُ ﴾تَعَالَى وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ﴿জিবরীল (আঃ) কর্তৃক আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নিকট ঈমান, ইসলাম, ইহসান ও কিয়ামতের জ্ঞান সম্পর্কে প্রশ্ন আর তাঁকে দেয়া আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর উত্তর। তারপর তিনি বললেন: জিবরীল (আঃ) তোমাদের দীন শিক্ষা দিতে এসেছিলেন। তিনি এসব বিষয়কে দীন বলে আখ্যায়িত করেছেন। ঈমান সম্পর্কে আব্দুল কায়স গোত্রের প্রতিনিধি দলকে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যে বিবরণ দিয়েছেন এবং আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন: “কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্ম গ্রহণ করতে চাইলে তা কখনো কবুল করা হবে না।” (সূরা আলে ‘ইমরান ৩/৮৫)

ঈমান, ইসলাম ও ইহসান: জিবরীলের হাদিসের সহজ ব্যাখ্যা

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫০

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا أَبُو حَيَّانَ التَّيْمِيُّ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بَارِزًا يَوْمًا لِلنَّاسِ، فَأَتَاهُ جِبْرِيلُ فَقَالَ مَا الإِيمَانُ قَالَ ‏"‏ الإِيمَانُ أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَمَلاَئِكَتِهِ وَبِلِقَائِهِ وَرُسُلِهِ، وَتُؤْمِنَ بِالْبَعْثِ ‏"‏‏.‏ قَالَ مَا الإِسْلاَمُ قَالَ ‏"‏ الإِسْلاَمُ أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ وَلاَ تُشْرِكَ بِهِ، وَتُقِيمَ الصَّلاَةَ، وَتُؤَدِّيَ الزَّكَاةَ الْمَفْرُوضَةَ، وَتَصُومَ رَمَضَانَ ‏"‏‏.‏ قَالَ مَا الإِحْسَانُ قَالَ ‏"‏ أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ، فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ ‏"‏‏.‏ قَالَ مَتَى السَّاعَةُ قَالَ ‏"‏ مَا الْمَسْئُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ، وَسَأُخْبِرُكَ عَنْ أَشْرَاطِهَا إِذَا وَلَدَتِ الأَمَةُ رَبَّهَا، وَإِذَا تَطَاوَلَ رُعَاةُ الإِبِلِ الْبُهْمُ فِي الْبُنْيَانِ، فِي خَمْسٍ لاَ يَعْلَمُهُنَّ إِلاَّ اللَّهُ ‏"‏‏.‏ ثُمَّ تَلاَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏{‏إِنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ‏}‏ الآيَةَ‏.‏ ثُمَّ أَدْبَرَ فَقَالَ ‏"‏ رُدُّوهُ ‏"‏‏.‏ فَلَمْ يَرَوْا شَيْئًا‏.‏ فَقَالَ ‏"‏ هَذَا جِبْرِيلُ جَاءَ يُعَلِّمُ النَّاسَ دِينَهُمْ ‏"‏‏.‏ قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ جَعَلَ ذَلِكَ كُلَّهُ مِنَ الإِيمَانِ‏

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

একদা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) জনসমক্ষে উপবিষ্ট ছিলেন, এমন সময় তাঁর নিকট জনৈক ব্যক্তি এসে জিজ্ঞেস করলেন ‘ঈমান কি?’ তিনি বললেনঃ ‘ঈমান হল, আপনি বিশ্বাস রাখবেন আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, (ক্বিয়ামাতের দিন) তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের প্রতি এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি। আপনি আরো বিশ্বাস রাখবেন পুনরুত্থানের প্রতি।’ তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘ইসলাম কি?’ তিনি বললেনঃ ‘ইসলাম হল, আপনি আল্লাহর ইবাদত করবেন এবং তাঁর সাথে অংশীদার স্থাপন করবেন না, সালাত প্রতিষ্ঠা করবেন, ফরজ যাকাত আদায় করবেন এবং রমযান-এর সিয়ামব্রত পালন করবেন।’ঐ ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেন, ‘ইহসান কি?’ তিনি বললেনঃ ‘আপনি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করবেন যেন আপনি তাঁকে দেখছেন, আর যদি আপনি তাঁকে দেখতে না পান তবে (মনে করবেন) তিনি আপনাকে দেখছেন।’ ঐ ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেন, ‘কেয়ামত কবে?’ তিনি বললেনঃ ‘এ ব্যাপারে যাকে জিজ্ঞেস করা হচ্ছে, তিনি জিজ্ঞেসকারী অপেক্ষা অধিক জ্ঞাত নন। তবে আমি আপনাকে ক্বিয়ামাতের আলামতসমূহ বলে দিচ্ছিঃ বাঁদী যখন তার প্রভুকে প্রসব করবে এবং উটের নগণ্য রাখালেরা যখন বড় বড় অট্টালিকা নির্মাণে প্রতিযোগিতা করবে। (ক্বিয়ামাতের জ্ঞান) সেই পাঁচটি জিনিসের অন্তর্ভুক্ত, যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না।’অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এই আয়াতটি শেষ পর্যন্ত তিলাওয়াত করলেনঃ ‘কেয়ামতের জ্ঞান কেবল আল্লাহরই নিকট.......।’ (সূরা লুক্বমান ৩১/৩৪)এরপর ঐ ব্যক্তি চলে গেলে তিনি বললেনঃ ‘তোমরা তাকে ফিরিয়ে আন।’ তারা কিছুই দেখতে পেল না। তখন তিনি বললেন, ‘ইনি জিবরীল (আঃ); লোকদেরকে তাদের দ্বীন শেখাতে এসেছিলেন।’আবূ ‘আবদুল্লাহ বুখারী (রহঃ) বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এসব বিষয়কে ঈমানের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

সহীহ বুখারী হাদিস ৫০-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে দ্বীনের বড় বিষয়গুলো একসঙ্গে এসেছে—ঈমান, ইসলাম, ইহসান এবং কেয়ামতের জ্ঞান। এক ব্যক্তি এসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে জিজ্ঞেস করলেন, ঈমান কী। তিনি বললেন, আল্লাহ, ফেরেশতা, আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ, রাসূলগণ এবং পুনরুত্থানে বিশ্বাস। ইসলাম সম্পর্কে বললেন, আল্লাহর ইবাদত করা, শিরক না করা, সালাত প্রতিষ্ঠা করা, ফরজ যাকাত দেওয়া এবং রমজানের সাওম রাখা। ইহসান হলো এমনভাবে ইবাদত করা যেন বান্দা আল্লাহকে দেখছে; আর না দেখলেও মনে রাখা, আল্লাহ তাকে দেখছেন। শেষে জানা গেল, তিনি ছিলেন জিবরীল (আঃ), মানুষকে দ্বীন শেখাতে এসেছিলেন। এই হাদিস মুসলিমকে বিশ্বাস, আমল ও অন্তরের সচেতনতা একসঙ্গে শেখায়। তাই দ্বীন বোঝার জন্য শুধু তথ্য জানা নয়, বিশ্বাস, আমল ও আল্লাহভীতিকে একসঙ্গে রাখা জরুরি।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • ঈমানের ভিত্তি বিশ্বাসের বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত।
  • ইসলাম বাহ্যিক আমল ও ইবাদতের দায়িত্ব শেখায়।
  • ইহসান হলো আল্লাহর নজরদারির অনুভব নিয়ে ইবাদত করা।
  • কিয়ামতের সঠিক সময় আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন