৬৫/২৮৯. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৮২৩ - দুখান ও বদর দিনের পাকড়াও
আল্লাহর বাণী: তারা কী করে নাসীহাত গ্রহণ করবে? তাদের নিকট তো এসেছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দানকারী এক রাসূল। (সূরা আদ-দুখান ৪৪/১৩)
দুখান হাদিস ও বদর: বড় পাকড়াওয়ের শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৪৮২৩
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৮২৩
سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا جَرِيْرُ بْنُ حَازِمٍ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي الضُّحَى عَنْ مَسْرُوْقٍ قَالَ دَخَلْتُ عَلَى عَبْدِ اللهِ ثُمَّ قَالَ إِنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ لَمَّا دَعَا قُرَيْشًا كَذَّبُوْهُ وَاسْتَعْصَوْا عَلَيْهِ فَقَالَ اللهُمَّ أَعِنِّيْ عَلَيْهِمْ بِسَبْعٍ كَسَبْعِ يُوْسُفَ فَأَصَابَتْهُمْ سَنَةٌ حَصَّتْ يَعْنِيْ كُلَّ شَيْءٍ حَتَّى كَانُوْا يَأْكُلُوْنَ الْمَيْتَةَ فَكَانَ يَقُوْمُ أَحَدُهُمْ فَكَانَ يَرَى بَيْنَهُ وَبَيْنَ السَّمَاءِ مِثْلَ الدُّخَانِ مِنَ الْجَهْدِ وَالْجُوْعِ ثُمَّ قَرَأَ {فَارْتَقِبْ يَوْمَ تَأْتِي السَّمَآءُ بِدُخَانٍ مُّبِيْنٍ لا - يَّغْشَى النَّاسَ ط هٰذَا عَذَابٌ أَلِيْمٌ} أَلِيْمٌ حَتَّى بَلَغَ إِنَّا كَاشِفُو الْعَذَابِ قَلِيْلًا إِنَّكُمْ عَائِدُوْنَ قَالَ عَبْدُ اللهِ أَفَيُكْشَفُ عَنْهُمْ الْعَذَابُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ قَالَ وَالْبَطْشَةُ الْكُبْرَى يَوْمَ بَدْرٍ.
মাসরূক (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি ‘আবদুল্লাহ্র কাছে গেলাম। তারপর তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যখন কুরাইশদের ইসলামের দাওয়াত দিলেন এবং তারা তাঁকে মিথ্যাচারী বলল ও তার নাফরমানী করল, তখন তিনি বললেন, হে আল্লাহ্! ইউসুফ (আঃ)-এর সময়কার সাত বছরের দুর্ভিক্ষের মত দুর্ভিক্ষের দ্বারা তুমি আমাকে তাদের বিরুদ্ধে সাহায্য কর। ফলে দুর্ভিক্ষ তাদের এমনভাবে গ্রাস করল যে, নির্মূল হয়ে গেল সমস্ত কিছু; অবশেষে তারা মৃতদেহ খেতে আরম্ভ করল। তাদের কেউ দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকালে ক্ষুধার জ্বালায় সে তার ও আকাশের মাঝে ধোঁয়ার মতই দেখতে পেত।এরপর তিনি পাঠ করলেন, “অতএব তুমি অপেক্ষা কর সে দিনের, যেদিন স্পষ্ট ধূম্রাচ্ছন্ন হবে আকাশ এবং তা ছেয়ে ফেলবে মানব জাতিকে। এ হবে মর্মন্তুদ শাস্তি। আমি তোমাদের শাস্তি কিছুকালের জন্য সরিয়ে দিচ্ছি, তোমরা তো তোমাদের আগের অবস্থায় ফিরে যাবে।” পর্যন্ত ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) বলেন, কেয়ামতের দিনও কি তাদের থেকে শাস্তি সরিয়ে ফেলা হবে? তিনি বলেন, وَالْبَطْشَةُ الْكُبْرَى দ্বারা বাদরের দিনের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৮২৩-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর দাওয়াতের সামনে কুরাইশদের মিথ্যাচার ও নাফরমানির কথা এসেছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাদের বিরুদ্ধে ইউসুফ (আঃ)-এর সময়ের মতো দুর্ভিক্ষের দোয়া করেন। ফলে দুর্ভিক্ষ তাদের গ্রাস করে, এমনকি তারা মৃতদেহ খেতে শুরু করে। ক্ষুধার কষ্টে আকাশের দিকে তাকালে ধোঁয়ার মতো দেখা যেত। এরপর আবদুল্লাহ (রাঃ) সূরা দুখানের আয়াত পাঠ করেন এবং বলেন, ‘বড় পাকড়াও’ বলতে বদরের দিনকে বোঝানো হয়েছে। এই হাদিসে দুখান, দুর্ভিক্ষ ও বদর যুদ্ধের বিষয় এক ধারায় এসেছে। শিক্ষা হলো, সত্যকে মিথ্যা বলা এবং নবীর দাওয়াত অস্বীকার করা সাধারণ ভুল নয়। আল্লাহ চাইলে মানুষকে এমনভাবে সতর্ক করেন, যা তার চোখের সামনেই প্রকাশ পায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবীর দাওয়াত অস্বীকার করা গুরুতর বিষয়।
- দুর্ভিক্ষের ঘটনা আল্লাহর সতর্কতা স্মরণ করায়।
- বড় পাকড়াও বলতে বর্ণনায় বদরের দিনের কথা এসেছে।
- আল্লাহর নিদর্শন দেখে শিক্ষা নেওয়া দরকার।
