৬৫/৩৩৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৮৯১ - নারীদের বায়আত ছিল কথার মাধ্যমে
আল্লাহর বাণী: (হে মুমিনগণ!) যখন তোমাদের কাছে মুমিন নারীরা দেশত্যাগী হয়ে আসে। (সূরা আল-মুমতাহিনা ৬০/১০)
নারীদের বায়আত ও রাসূল (صلى الله عليه وسلم)-এর পবিত্র আদব
সহীহ বুখারী : ৪৮৯১
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৮৯১
إِسْحَاقُ حَدَّثَنَا يَعْقُوْبُ بْنُ إِبْرَاهِيْمَ بْنِ سَعْدٍ حَدَّثَنَا ابْنُ أَخِي ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عَمِّهِ أَخْبَرَنِيْ عُرْوَةُ أَنَّ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا زَوْجَ النَّبِيِّ ﷺ أَخْبَرَتْهُ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ كَانَ يَمْتَحِنُ مَنْ هَاجَرَ إِلَيْهِ مِنَ الْمُؤْمِنَاتِ بِهَذِهِ الآيَةِ بِقَوْلِ اللهِ {يٰٓأَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا جَآءَكَ الْمُؤْمِنٰتُ يُبَايِعْنَكَ} إِلَى قَوْلِهِ {غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ}قَالَ عُرْوَةُ قَالَتْ عَائِشَةُ فَمَنْ أَقَرَّ بِهَذَا الشَّرْطِ مِنَ الْمُؤْمِنَاتِ قَالَ لَهَا رَسُوْلُ اللهِ ﷺ قَدْ بَايَعْتُكِ كَلَامًا وَلَا وَاللهِ مَا مَسَّتْ يَدُهُ يَدَ امْرَأَةٍ قَطُّ فِي الْمُبَايَعَةِ مَا يُبَايِعُهُنَّ إِلَّا بِقَوْلِهِ قَدْ بَايَعْتُكِ عَلَى ذَلِكِتَابَعَهُ يُوْنُسُ وَمَعْمَرٌ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِسْحَاقَ عَنْ الزُّهْرِيِّ وَقَالَ إِسْحَاقُ بْنُ رَاشِدٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ وَعَمْرَةَ.
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ)-এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ (রাঃ) তাকে বলেছেন, কোন মু’মিন মহিলা রাসূল (ﷺ)-এর কাছে হিজরত করে এলে, তিনি তাকে আল্লাহ্র এই আয়াতের ভিত্তিতে পরীক্ষা করতেন- অর্থ ঃ “হে নবী! মু’মিন নারীগণ যখন তোমার কাছে এ মর্মে বায়‘আত করতে আসে যে, তারা আল্লাহ্র সঙ্গে কোন শরীক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না, নিজেদের সন্তানদেরকে হত্যা করবে না, তারা সজ্ঞানে কোন অপবাদ রচনা করে রটাবে না, এবং সৎকার্যে তোমাকে অমান্য করবে না, তখন তাদের বায়‘আত গ্রহণ করবে এবং তাদের জন্য আল্লাহ্র কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে।) আল্লাহ্ তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু” (সূরা আল-মুমতাহিনাহ ৬০/১২)।‘উরওয়াহ (রহঃ) বলেন, ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেছেন, যে মু’মিন মহিলা এসব শর্ত মেনে নিত, রাসূল (ﷺ) তাকে বলতেন, আমি কথার মাধ্যমে তোমাকে বায়‘আত করে নিলাম। আল্লাহ্র কসম! বায়‘আত কালে কোন নারীর হাত নবী (ﷺ)-এর হাতকে স্পর্শ করেনি। নারীদেরকে তিনি শুধু এ কথার দ্বারাই বায়‘আত করতেন قَدْ بَايَعْتُكِ عَلَى ذَلِكِ অর্থাৎ আমি তোমাকে এ কথার ওপর বায়‘আত করলাম।ইউনুস, মা‘মার ও ‘আবদুর রহমান ইব্নু ইসহাক (রহঃ) যুহরীর মাধ্যমে উক্ত বর্ণনার সমর্থন করেছেন। ইসহাক ইব্নু রাশিদ, যুহরী থেকে এবং যুহরী ‘উরওয়াহ ও ‘আমরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৮৯১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মুমিন নারীদের বায়আতের পদ্ধতি এসেছে। কোনো মুমিন মহিলা হিজরত করে রাসূল (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে এলে তিনি সূরা আল-মুমতাহিনার আয়াত অনুযায়ী তাকে পরীক্ষা করতেন। শর্ত ছিল—শিরক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না, সন্তান হত্যা করবে না, অপবাদ রটাবে না এবং সৎ কাজে অবাধ্য হবে না। যে নারী এসব শর্ত মেনে নিত, রাসূল (صلى الله عليه وسلم) বলতেন, আমি কথার মাধ্যমে তোমাকে বায়আত করলাম। আয়েশা (রাঃ) জোর দিয়ে বলেছেন, বায়আতের সময় কোনো নারীর হাত নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর হাতকে স্পর্শ করেনি। এই হাদিসে ঈমানি অঙ্গীকার ও শালীনতার শিক্ষা একসাথে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বায়আত ছিল ঈমান ও সৎ কাজের অঙ্গীকার।
- রাসূল (صلى الله عليه وسلم) নারীদের বায়আত কথার মাধ্যমে গ্রহণ করতেন।
- শিরক, চুরি, ব্যভিচার ও অপবাদ থেকে দূরে থাকা বায়আতের শর্তে এসেছে।
- শালীনতা ও সীমা রক্ষা নববী আদবের অংশ।
