৬৫/৩৩৯. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৯০০ - মুনাফিকদের কথা ও যায়দ (রাঃ)-এর সত্যতা
আল্লাহর বাণী: মুনাফিকরা যখন আপনার কাছে আসে তখন তারা বলে: আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি অবশ্যই আল্লাহর রাসূল। আর আল্লাহ জানেন যে, নিশ্চয় আপনি তো তাঁর রাসূল এবং আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, মুনাফিকরা অবশ্যই মিথ্যাচারী। (সূরা মুনাফিকুন ৬৩/১)
মুনাফিকদের কথা ও সত্যবাদিতার হাদিস
সহীহ বুখারী : ৪৯০০
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৯০০
عَبْدُ اللهِ بْنُ رَجَاءٍ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيْلُ عَنْ أَبِيْ إِسْحَاقَ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ قَالَكُنْتُ فِيْ غَزَاةٍ فَسَمِعْتُ عَبْدَ اللهِ بْنَ أُبَيٍّ يَقُوْلُ لَا تُنْفِقُوْا عَلَى مَنْ عِنْدَ رَسُوْلِ اللهِ حَتَّى يَنْفَضُّوْا مِنْ حَوْلِهِ وَلَئِنْ رَجَعْنَا مِنْ عِنْدِهِ لَيُخْرِجَنَّ الْأَعَزُّ مِنْهَا الْأَذَلَّ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِعَمِّيْ أَوْ لِعُمَرَ فَذَكَرَهُ لِلنَّبِيِّ ﷺ فَدَعَانِيْ فَحَدَّثْتُهُ فَأَرْسَلَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِلَى عَبْدِ اللهِ بْنِ أُبَيٍّ وَأَصْحَابِهِ فَحَلَفُوْا مَا قَالُوْا فَكَذَّبَنِيْ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ وَصَدَّقَهُ فَأَصَابَنِيْ هَمٌّ لَمْ يُصِبْنِيْ مِثْلُهُ قَطُّ فَجَلَسْتُ فِي الْبَيْتِ فَقَالَ لِيْ عَمِّيْ مَا أَرَدْتَ إِلَى أَنْ كَذَّبَكَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ وَمَقَتَكَ فَأَنْزَلَ اللهُ تَعَالَى {إِذَا جَآءَكَ الْمُنٰفِقُوْنَ} فَبَعَثَ إِلَيَّ النَّبِيُّ ﷺ فَقَرَأَ فَقَالَ إِنَّ اللهَ قَدْ صَدَّقَكَ يَا زَيْدُ.
যায়দ ইবনু আরকাম (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক যুদ্ধে আমি শরীক হয়েছিলাম। তখন ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু উবাইকে বলতে শুনলাম, আল্লাহ্র রাসূলের সঙ্গীদের জন্য তোমরা ব্যয় করবে না, যতক্ষণ না তারা তাঁর থেকে সরে পড়ে এবং সে এও বলল, আমরা মদিনায় ফিরলে প্রবল লোকেরা দুর্বল লোকদেরকে অবশ্যই বের করে দিবে। এ কথা আমি আমার চাচা কিংবা ‘উমর (রাঃ)-এর কাছে বলে দিলাম। তিনি তা নবী (ﷺ)-এর কাছে জানালেন। ফলে তিনি আমাকে ডাকলেন। আমি তাঁকে বিস্তারিত এ সব কথা বলে দিলাম।তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু উবাই এবং তার সাথী-সঙ্গীদের কাছে খবর পাঠালেন, তারা সকলেই কসম করে বলল, এমন কথা তারা বলেননি। ফলে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমার কথাকে মিথ্যা ও তার কথাকে সত্য বলে মেনে নিলেন। এতে আমি এমন মনে কষ্ট পেলাম, যেরূপ কষ্ট আর কখনও পাইনি। আমি (মনের দুঃখে) ঘরে বসে গেলাম।আমার চাচা আমাকে বললেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তোমাকে মিথ্যাচারী মনে করেছেন এবং তোমার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছেন বলে তুমি কী করে মনে করলে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা‘আলা অবতীর্ণ করলেন, “যখন মুনাফিকগণ তোমার কাছে আসে।” নবী (ﷺ) আমার কাছে লোক পাঠালেন এবং এ সূরা পাঠ করলেন। এরপর বললেন, হে যায়দ! আল্লাহ্ তা‘আলা তোমাকে সত্যবাদী বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৯০০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মুনাফিকদের কথা, সত্য বলা এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে সত্য প্রকাশের শিক্ষা একসাথে এসেছে। যায়দ ইবন আরকাম (রাঃ) যুদ্ধের সময় আবদুল্লাহ ইবন উবাইয়ের কথা শুনলেন। সে বলেছিল, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর সাথীদের জন্য ব্যয় করা বন্ধ রাখতে এবং মদিনায় ফিরে দুর্বলদের বের করে দিতে। যায়দ (রাঃ) বিষয়টি জানালেন। পরে অভিযুক্তরা কসম করে কথা অস্বীকার করায় যায়দ (রাঃ) খুব দুঃখ পেলেন। কিন্তু সূরা মুনাফিকুন অবতীর্ণ হওয়ার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর সত্যবাদিতা প্রকাশ করলেন। এই বর্ণনা আমাদের শেখায়, সত্য কথা বলা কখনও কখনও কষ্টের কারণ হতে পারে, তবে মিথ্যা ও মুনাফিকী শেষ পর্যন্ত লুকিয়ে থাকে না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সত্য কথা বললে সাময়িক কষ্ট আসতে পারে, তবু সত্য গোপন করা ঠিক নয়।
- কসম করে অস্বীকার করলেই মিথ্যা সত্য হয়ে যায় না।
- আল্লাহ তাঁর ইচ্ছায় বান্দার সত্যতা প্রকাশ করে দেন।
- মুনাফিকী আচরণ মুসলিম সমাজে বিভেদ ও কষ্টের কারণ হয়।
