৬৫/৩৪৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৯০৫ - জাহিলী ডাকাডাকি থেকে সতর্কতা
আল্লাহর বাণী: আপনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন অথবা তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা না করেন উভয়ই তাদের জন্য সমান। আল্লাহ তাদেরকে কখনও ক্ষমা করবেন না। আল্লাহ তো পাপাচারী লোকদেরকে হিদায়াতের তাওফিক দান করেন না। (সূরা মুনাফিকুন ৬৩/৬)
জাহিলী ডাকাডাকি ত্যাগ করার হাদিস
সহীহ বুখারী : ৪৯০৫
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৯০৫
عَلِيٌّ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ قَالَ عَمْرٌو سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ كُنَّا فِيْ غَزَاةٍ قَالَ سُفْيَانُ مَرَّةً فِيْ جَيْشٍ فَكَسَعَ رَجُلٌ مِنَ الْمُهَاجِرِيْنَ رَجُلًا مِنَ الْأَنْصَارِ فَقَالَ الْأَنْصَارِيُّ يَا لَلْأَنْصَارِ وَقَالَ الْمُهَاجِرِيُّ يَا لَلْمُهَاجِرِيْنَ فَسَمِعَ ذَلِكَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ فَقَالَ مَا بَالُ دَعْوَى الْجَاهِلِيَّةِ قَالُوْا يَا رَسُوْلَ اللهِ كَسَعَ رَجُلٌ مِنَ الْمُهَاجِرِيْنَ رَجُلًا مِنَ الْأَنْصَارِ فَقَالَ دَعُوْهَا فَإِنَّهَا مُنْتِنَةٌفَسَمِعَ بِذَلِكَ عَبْدُ اللهِ بْنُ أُبَيٍّ فَقَالَ فَعَلُوْهَا أَمَا وَاللهِ لَئِنْ رَجَعْنَا إِلَى الْمَدِيْنَةِ لَيُخْرِجَنَّ الْأَعَزُّ مِنْهَا الْأَذَلَّ فَبَلَغَ النَّبِيَّ ﷺ فَقَامَ عُمَرُ فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ دَعْنِيْ أَضْرِبْ عُنُقَ هَذَا الْمُنَافِقِ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ دَعْهُ لَا يَتَحَدَّثُ النَّاسُ أَنَّ مُحَمَّدًا يَقْتُلُ أَصْحَابَهُ وَكَانَتْ الْأَنْصَارُ أَكْثَرَ مِنَ الْمُهَاجِرِيْنَ حِيْنَ قَدِمُوا الْمَدِيْنَةَ ثُمَّ إِنَّ الْمُهَاجِرِيْنَ كَثُرُوْا بَعْدُقَالَ سُفْيَانُ فَحَفِظْتُهُ مِنْ عَمْرٍو قَالَ عَمْرٌو سَمِعْتُ جَابِرًا كُنَّا مَعَ النَّبِيِ ﷺ
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক যুদ্ধে আমরা উপস্থিত ছিলাম। বর্ণনাকারী সুফ্ইয়ান (রহঃ) একবার جَيْشٍ এর স্থলে غَزَاةٍ বর্ণনা করেছেন। এ সময় জনৈক মুহাজির এক আনসারীর নিতম্বে আঘাত করলেন। তখন আনসারী হে আনসারী ভাইগণ! বলে সাহায্য প্রার্থনা করলেন এবং মুহাজির সহাবী, ওহে মুহাজির ভাইগণ! বলে সাহায্য প্রার্থনা করলেন। রাসূল (ﷺ) তা শুনে বললেন, কী খবর, জাহিলী যুগের মত ডাকাডাকি করছ কেন? তখন উপস্থিত লোকেরা বললেন, এক মুহাজির এক আনসারীর নিতম্বে আঘাত করেছে। তিনি বললেন, এমন ডাকাডাকি পরিত্যাগ কর। এটা অত্যন্ত গন্ধময় কথা।এরপর ঘটনাটি ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু উবায়র কানে পৌঁছল, সে বলল, আচ্ছা, মুহাজিররা এমন কাজ করেছে? “আল্লাহ্র কসম! আমরা মদিনায় ফিরলে সেখান থেকে প্রবল লোকেরা দুর্বল লোকেদেরকে অবশ্যই বের করে দিবে।” এ কথা নবী (ﷺ)-এর কাছে পৌঁছল। তখন ‘উমর (রাঃ) উঠে দাঁড়ালেন এবং বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনি আমাকে অনুমতি দিন। আমি এক্ষুণি এ মুনাফিকের গর্দান উড়িয়ে দিচ্ছি। নবী (ﷺ) বললেন, তাকে ছেড়ে দাও। ভবিষ্যতে যাতে কেউ এ কথা বলতে না পারে যে, মুহাম্মাদ (ﷺ) তাঁর সঙ্গী-সাথীদেরকে হত্যা করেন। বলেন, মুহাজিররা যখন মদিনায় হিজরাত করে আসেন, তখন মুহাজিরদের তুলনায় আনসাররা সংখ্যায় বেশি ছিলেন। অবশ্য পরে মুহাজিররা সংখ্যায় বেশি হয়ে যান।সুফ্ইয়ান (রহঃ).....বলেন, এ হাদীসটি আমি আম্র (রহঃ) থেকে মুখস্থ করেছি। ‘আম্র (রহঃ) বলেন, আমি জাবির (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, আমরা নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে ছিলাম।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৯০৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে যুদ্ধের সময় একটি ঘটনার কথা এসেছে। এক মুহাজির একজন আনসারীর নিতম্বে আঘাত করলে উভয় পক্ষ নিজ নিজ দলের নামে ডাকাডাকি শুরু করল। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم শুনে বললেন, এটি জাহিলী যুগের মতো ডাকাডাকি। তিনি আরও বললেন, এ ধরনের ডাকাডাকি ছেড়ে দাও; এটি গন্ধময় কথা। এরপর আবদুল্লাহ ইবন উবাই ঘটনাটি শুনে মদিনায় ফিরে প্রবলরা দুর্বলদের বের করে দেবে বলে কথা বলল। উমর (রাঃ) কঠোর ব্যবস্থা নিতে চাইলে নবী صلى الله عليه وسلم তাকে ছেড়ে দিতে বললেন, যাতে মানুষ এ কথা না বলে যে মুহাম্মদ صلى الله عليه وسلم তাঁর সাথীদের হত্যা করেন। এই হাদিসে গোত্রবাদ, দলীয় উত্তেজনা এবং নবী صلى الله عليه وسلم-এর দূরদর্শিতা স্পষ্ট।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দলীয় বা গোত্রের নামে উত্তেজনা ছড়ানো জাহিলী আচরণের কাছাকাছি।
- বিবাদ হলে উত্তেজক ডাকাডাকি বন্ধ করা দরকার।
- মুনাফিকরা ছোট ঘটনার সুযোগ নিয়ে বিভেদ বাড়াতে পারে।
- নবী صلى الله عليه وسلم সিদ্ধান্তে মানুষের ভুল ধারণার দিকও বিবেচনা করেছেন।
