৬৫/৩৪৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৯০৬ - আনসারদের জন্য দোয়ার ফজিলত
আল্লাহর বাণী: এরাই তারা যারা বলে, আল্লাহর রাসূলের সাহচর্যে যারা রয়েছে তাদের জন্য ব্যয় করো না, যতক্ষণ না তারা সরে পড়ে। আসমান ও জমিনের ধনভাণ্ডার তো আল্লাহরই। কিন্তু মুনাফিকরা তা বুঝে না। (সূরা মুনাফিকুন ৬৩/৭)
আনসারদের জন্য নবী صلى الله عليه وسلم-এর ক্ষমার দোয়ার হাদিস
সহীহ বুখারী : ৪৯০৬
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৯০৬
. إِسْمَاعِيْلُ بْنُ عَبْدِ اللهِ قَالَ حَدَّثَنِيْ إِسْمَاعِيْلُ بْنُ إِبْرَاهِيْمَ بْنِ عُقْبَةَ عَنْ مُوْسَى بْنِ عُقْبَةَ قَالَ حَدَّثَنِيْ عَبْدُ اللهِ بْنُ الْفَضْلِ أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يَقُوْلُ حَزِنْتُ عَلَى مَنْ أُصِيْبَ بِالْحَرَّةِ فَكَتَبَ إِلَيَّ زَيْدُ بْنُ أَرْقَمَ وَبَلَغَهُ شِدَّةُ حُزْنِيْ يَذْكُرُ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ اللهُمَّ اغْفِرْ لِلْأَنْصَارِ وَلِأَبْنَاءِ الْأَنْصَارِ وَشَكَّ ابْنُ الْفَضْلِ فِيْ أَبْنَاءِ أَبْنَاءِ الْأَنْصَارِ فَسَأَلَ أَنَسًا بَعْضُ مَنْ كَانَ عِنْدَهُ فَقَالَ هُوَ الَّذِيْ يَقُوْلُ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ هَذَا الَّذِيْ أَوْفَى اللهُ لَهُ بِأُذُنِهِ.
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
র্হারায় যাদেরকে শহীদ করা হয়েছিল তাদের খবর শুনে শোকে মুহ্যমান হয়েছিলাম। আমার এ শোকের সংবাদ যায়দ ইব্নু আরকাম (রাঃ)-এর কাছে পৌঁছলে তিনি আমার কাছে পত্র লিখেন। পত্রে তিনি উল্লেখ করেন যে, তিনি রাসূলকে বলতে শুনেছেন, হে আল্লাহ্! আনসার ও আনসারদের সন্তানদেরকে তুমি ক্ষমা করে দাও। এ দোয়ায় রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আনসারদের সন্তানদের সন্তানদের জন্য দোয়া করেছেন কিনা এ ব্যাপারে ইব্নু ফায্ল (রাঃ) সন্দেহ করেছেন। এ ব্যাপারে আনাস (রাঃ)-এর কাছে উপস্থিত ব্যক্তিদের কেউ তাঁকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, যায়দ ইব্নু আরকাম (রাঃ) ঐ ব্যক্তি যার শ্রবণকে আল্লাহ্ তা‘আলা সত্য বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৯০৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আনাস (রাঃ)-এর শোকের কথা এসেছে। হাররায় যারা নিহত হয়েছিলেন তাদের সংবাদে তিনি খুব দুঃখিত হন। যায়দ ইবন আরকাম (রাঃ) তাঁর দুঃখের কথা জানতে পেরে চিঠি লিখলেন। সেই চিঠিতে তিনি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم থেকে শোনা একটি দোয়া উল্লেখ করলেন: হে আল্লাহ! আনসার ও আনসারদের সন্তানদের তুমি ক্ষমা করে দাও। বর্ণনায় আনসারদের সন্তানদের সন্তানদের কথায় সন্দেহের কথাও এসেছে। এরপর উপস্থিত একজন স্মরণ করিয়ে দেন যে, যায়দ (রাঃ) সেই ব্যক্তি, যার শ্রবণকে আল্লাহ সত্য বলে ঘোষণা করেছেন। এই হাদিসে আনসারদের মর্যাদা, দোয়ার গুরুত্ব এবং নির্ভরযোগ্য বর্ণনার মূল্য বোঝা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শোকের সময় সান্ত্বনামূলক কথা ও দোয়া মানুষের মনকে শক্ত করে।
- আনসারদের জন্য নবী صلى الله عليه وسلم ক্ষমার দোয়া করেছেন।
- নির্ভরযোগ্য বর্ণনা গ্রহণে রাবীর পরিচয় গুরুত্বপূর্ণ।
- দুঃখের সংবাদে মুমিন দোয়ার দিকে ফিরে যায়।
