৬৫/৩৫৭. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৯২১ - জিনদের কুরআন শ্রবণ ও ঈমান
পরিচ্ছেদ নাই।
জিনদের কুরআন শ্রবণ: কুরআনের হিদায়াত ও তাওহীদের শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৪৯২১
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৯২১
مُوْسَى بْنُ إِسْمَاعِيْلَ حَدَّثَنَا أَبُوْ عَوَانَةَ عَنْ أَبِيْ بِشْرٍ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ انْطَلَقَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ فِيْ طَائِفَةٍ مِنْ أَصْحَابِهِ عَامِدِيْنَ إِلَى سُوْقِ عُكَاظٍ وَقَدْ حِيْلَ بَيْنَ الشَّيَاطِيْنِ وَبَيْنَ خَبَرِ السَّمَاءِ وَأُرْسِلَتْ عَلَيْهِمْ الشُّهُبُ فَرَجَعَتْ الشَّيَاطِيْنُ فَقَالُوْا مَا لَكُمْ فَقَالُوْا حِيْلَ بَيْنَنَا وَبَيْنَ خَبَرِ السَّمَاءِ وَأُرْسِلَتْ عَلَيْنَا الشُّهُبُ قَالَ مَا حَالَ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَ خَبَرِ السَّمَاءِ إِلَّا مَا حَدَثَ فَاضْرِبُوْا مَشَارِقَ الْأَرْضِ وَمَغَارِبَهَا فَانْظُرُوْا مَا هَذَا الْأَمْرُ الَّذِيْ حَدَثَ فَانْطَلَقُوْا فَضَرَبُوْا مَشَارِقَ الْأَرْضِ وَمَغَارِبَهَا يَنْظُرُوْنَ مَا هَذَا الْأَمْرُ الَّذِيْ حَالَ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ خَبَرِ السَّمَاءِ قَالَ فَانْطَلَقَ الَّذِيْنَ تَوَجَّهُوْا نَحْوَ تِهَامَةَ إِلَى رَسُوْلِ اللهِ ﷺ بِنَخْلَةَ وَهُوَ عَامِدٌ إِلَى سُوْقِ عُكَاظٍ وَهُوَ يُصَلِّيْ بِأَصْحَابِهِ صَلَاةَ الْفَجْرِ فَلَمَّا سَمِعُوا الْقُرْآنَ تَسَمَّعُوْا لَهُ فَقَالُوْا هَذَا الَّذِيْ حَالَ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَ خَبَرِ السَّمَاءِ فَهُنَالِكَ رَجَعُوْا إِلَى قَوْمِهِمْ فَقَالُوْا يَا قَوْمَنَا إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآنًا عَجَبًا يَهْدِيْ إِلَى الرُّشْدِ فَآمَنَّا بِهِ وَلَنْ نُشْرِكَ بِرَبِّنَا أَحَدًا وَأَنْزَلَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ عَلَى نَبِيِّهِ ﷺ﴾قُلْ أُوْحِيَ إِلَيَّ أَنَّهُ اسْتَمَعَ نَفَرٌ مِّنَ الْجِنِّ﴿ وَإِنَّمَا أُوْحِيَ إِلَيْهِ قَوْلُ الْجِنِّ.
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূল (ﷺ) একদল সাহাবীকে নিয়ে উকায বাজারের দিকে রওয়ানা হলেন। এ সময়ই জিনদের আসমানী খবরাদি শোনার ব্যাপারে বাধা সৃষ্টি করে দেয়া হয়েছে এবং ছুঁড়ে মারা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে লেলিহান অগ্নিশিখা। ফলে জিন শয়তানরা ফিরে আসলে অন্য জিনরা তাদেরকে বলল, তোমাদের কী হয়েছে? তারা বলল, আসমানী খবরাদি সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে আমাদের উপর বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে এবং আমাদের প্রতি লেলিহান অগ্নিশিখা ছুঁড়ে মারা হয়েছে।তখন শয়তান বলল, আসমানী খবরাদি সংগ্রহের ব্যাপারে তোমাদের প্রতি যে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে, অবশ্যই তা কোন নতুন ঘটনা ঘটার কারণেই হয়েছে। সুতরাং তোমরা পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিম দিগন্ত পর্যন্ত সফর কর এবং দেখ ব্যাপারটা কী ঘটেছে? তাই আসমানী খবরাদি সংগ্রহের ক্ষেত্রে যে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে, এর কারণ খুঁজে বের করার জন্য তারা সকলেই পৃথিবীর পূর্ব এবং পশ্চিমে অনুসন্ধানে বেরিয়ে পড়ল।‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, যারা তিহামার উদ্দেশে বেরিয়েছিল, তারা ‘নাখলা’ নামক স্থানে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর কাছে এসে উপস্থিত হল। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এখান থেকে উকায বাজারের দিকে যাওয়ার মনস্থ করেছিলেন। এ সময় রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সাহাবীদেরকে নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করছিলেন। জিনদের ঐ দলটি কোরআন মাজীদ শুনতে পেয়ে আরো বেশি মনোযোগ দিয়ে তা শুনতে লাগল এবং বলল, আসমানী খবর আর তোমাদের মাঝে এটাই সত্যিকারে বাধা সৃষ্টি করেছে।এরপর তারা তাদের কওমের কাছে ফিরে এসে বলল, হে আমাদের কওম! আমরা এক আশ্চর্যজনক কোরআন শ্রবণ করেছি, যা সঠিক পথ নির্দেশ করে। এতে আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি। আমরা কখনও আমাদের প্রতিপালকের কোন শরীক স্থির করব না। এরপর আল্লাহ তাঁর নবীর প্রতি অবতীর্ণ করলেন ঃ বল, আমার প্রতি ওহী প্রেরিত হয়েছে যে জিনদের একটি দল মনোযোগ দিয়ে শুনেছে। জিনদের উপরোক্ত কথা নবী (ﷺ)-কে ওহীর মারফত জানিয়ে দেয়া হয়েছিল।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৯২১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জিনদের কুরআন শ্রবণের ঘটনা এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সাহাবীদের নিয়ে উকায বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। নাখলা নামক স্থানে তিনি ফজরের সালাত পড়ছিলেন। তখন জিনদের একটি দল কুরআন শুনে মনোযোগ দিয়ে শুনতে থাকে। তারা বুঝতে পারে, আসমানের খবর শোনার পথে যে বাধা এসেছে, তার সঙ্গে এই নতুন বিষয়ের সম্পর্ক আছে। পরে তারা নিজেদের কওমের কাছে ফিরে গিয়ে বলে, আমরা এক আশ্চর্য কুরআন শুনেছি, যা সঠিক পথ দেখায়। তারা ঈমান আনে এবং ঘোষণা করে যে তারা তাদের রবের সঙ্গে কাউকে শরীক করবে না। এই হাদিস কুরআনের হিদায়াত, মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং তাওহীদের দিকে ফিরে আসার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরআন মনোযোগ দিয়ে শুনলে হিদায়াতের দরজা খুলে যেতে পারে।
- জিনদের মধ্যেও কুরআনের দাওয়াত পৌঁছেছে।
- সত্য বুঝলে তা নিজের কওমের কাছে পৌঁছে দেওয়া ভালো কাজ।
- তাওহীদের মূল কথা হলো আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরীক না করা।
