৬৫/৩৬২. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৯২৬ - ওহী পুনরায় শুরু ও ধারাবাহিক নাযিল
আল্লাহর বাণীঃ وَالرِّجْزَ فَاهْجُرْ এবং অপবিত্রতা থেকে দূরে থাকুন- (সূরাহ আল-মুদ্দাস্সির ৭৪/৫)।
ওহী পুনরায় শুরু: সূরা মুদ্দাসসির ও কুরআন নাযিলের ধারাবাহিকতা
সহীহ বুখারী : ৪৯২৬
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৯২৬
عَبْدُ اللهِ بْنُ يُوْسُفَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ عَنْ عُقَيْلٍ قَالَ ابْنُ شِهَابٍ سَمِعْتُ أَبَا سَلَمَةَ قَالَ أَخْبَرَنِيْ جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللهِ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ يُحَدِّثُ عَنْ فَتْرَةِ الْوَحْيِفَبَيْنَا أَنَا أَمْشِيْ سَمِعْتُ صَوْتًا مِنْ السَّمَاءِ فَرَفَعْتُ بَصَرِيْ قِبَلَ السَّمَاءِ فَإِذَا الْمَلَكُ الَّذِيْ جَاءَنِيْ بِحِرَاءٍ قَاعِدٌ عَلَى كُرْسِيٍّ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ فَجَئِثْتُ مِنْهُ حَتَّى هَوَيْتُ إِلَى الْأَرْضِ فَجِئْتُ أَهْلِيْ فَقُلْتُ زَمِّلُوْنِيْ زَمِّلُوْنِيْ فَزَمَّلُوْنِيْ فَأَنْزَلَ اللهُ تَعَالَى {يٰٓأَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ قُمْ فَأَنْذِرْ} إِلَى قَوْلِهِ ﴾فَاهْجُرْ﴿ قَالَ أَبُوْ سَلَمَةَ وَالرِّجْزَ الْأَوْثَانَ ثُمَّ حَمِيَ الْوَحْيُ وَتَتَابَعَ
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি রাসূল (ﷺ)-কে ওহী বন্ধ হওয়া সম্পর্কে আলোচনা করতে শুনেছেন। তিনি বলেছেন, একদা আমি পথ চলছিলাম, এমন সময় আকাশ থেকে একটি আওয়াজ শুনতে পেলাম। এরপর আমি আকাশের দিকে চোখ তুলে দেখলাম, যে ফেরেশতা হেরা গুহায় আমার কাছে আসত, সে আসমান-যমীনের মাঝে একটি কুরসীতে উপবিষ্ট আছে। তাঁকে দেখে আমি ভীষণ ভয় পেলাম। এমনকি যমীনে পড়ে গেলাম। তারপর আমি আমার স্ত্রীর কাছে গেলাম এবং বললাম, আমাকে বস্ত্রাবৃত কর। আমাকে বস্ত্রাবৃত কর। তারা আমাকে বস্ত্রাবৃত করল। এরপর আল্লাহ্ অবতীর্ণ করলেন ঃ “হে বস্ত্রাবৃত!.....অপবিত্রতা হতে দূরে থাক।” আবূ সালামাহ (রহঃ) বলেন, الرِّجْزَ মূর্তিসমূহ। এরপর অধিক হারে ওহী অবতীর্ণ হতে লাগল এবং লাগাতার ওহী আসতে থাকল।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৯২৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর ওহী বন্ধ হওয়া এবং পরে আবার ওহী আসার ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, একদিন চলার সময় আকাশ থেকে আওয়াজ শুনলেন। আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখলেন, যে ফেরেশতা হেরা গুহায় তাঁর কাছে আসত, সে আসমান ও জমিনের মাঝে একটি কুরসিতে বসে আছে। তাকে দেখে তিনি খুব ভয় পেলেন, এমনকি জমিনে পড়ে গেলেন। এরপর তিনি নিজের পরিবারের কাছে গিয়ে বলেন, ‘আমাকে বস্ত্রাবৃত কর।’ তারা তাঁকে বস্ত্রাবৃত করে। তারপর আল্লাহ নাযিল করেন: ‘হে বস্ত্রাবৃত! ... অপবিত্রতা হতে দূরে থাক।’ আবু সালামা (রহঃ) বলেন, ‘রিজয’ বলতে মূর্তি বোঝানো হয়েছে। এরপর ওহী অধিক হারে এবং লাগাতার আসতে থাকে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ওহী বন্ধ থাকার পর আল্লাহর ইচ্ছায় আবার ওহী নাযিল হয়।
- নবী صلى الله عليه وسلم-এর ওপর ওহীর অভিজ্ঞতা গভীর ও ভারী ছিল।
- আয়াতে মূর্তি থেকে দূরে থাকার নির্দেশের অর্থ এসেছে।
- এরপর ওহী নিয়মিত ও ধারাবাহিকভাবে আসতে থাকে।
