৬৫/৩৮২. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৯৪৬ - তাকদীরের সঙ্গে আমলের সম্পর্ক
আমি তার জন্য সুগম করে দেব সহজ পথ। (সূরা আল-লাইল ৯২/৭)
তাকদীরের উপর ভরসা নয়, আমল করতে থাকার শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৪৯৪৬
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৯৪৬
بِشْرُ بْنُ خَالِدٍ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ سُلَيْمَانَ عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ عَنْ أَبِيْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ كَانَ فِيْ جَنَازَةٍ فَأَخَذَ عُوْدًا يَنْكُتُ فِي الْأَرْضِ فَقَالَ مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا وَقَدْ كُتِبَ مَقْعَدُهُ مِنْ النَّارِ أَوْ مِنَ الْجَنَّةِ قَالُوْا يَا رَسُوْلَ اللهِ أَفَلَا نَتَّكِلُ قَالَ اعْمَلُوْا فَكُلٌّ مُيَسَّرٌ ﴾فَأَمَّا مَنْ أَعْطٰى وَاتَّقٰى لا (5) وَصَدَّقَ بِالْـحُسْنٰى﴿ الْآيَةَقَالَ شُعْبَةُ وَحَدَّثَنِيْ بِهِ مَنْصُوْرٌ فَلَمْ أُنْكِرْهُ مِنْ حَدِيْثِ سُلَيْمَانَ.
আলী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি কোন একটি জানাযায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। এরপর তিনি একটি কাঠি হাতে নিয়ে এর দ্বারা মাটি খোঁচাতে খোঁচাতে বললেন, তোমাদের মাঝে এমন কেউ নেই, যার স্থান জান্নাতে বা জাহান্নামে নির্দিষ্ট হয়নি। এ কথা শুনে সকলেই বললেন, তাহলে কি আমরা ভাগ্যের উপর ভরসা করে বসে থাকব? উত্তরে তিনি বললেন, তোমরা আমল করতে থাক। কারণ, যাকে যে আমলের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, তার জন্য সে আমলকে সহজ করে দেয়া হবে।এরপর তিনি পাঠ করলেন, সুতরাং কেউ দান করলে, মুত্তাকী হলে এবং যা উত্তম তা গ্রহণ করলে, আমি তার জন্য সুগম করে দেব সহজপথ। আর কেউ কার্পণ্য করলে, নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করলে ও যার যা উত্তম তা ত্যাগ করলে তার জন্য আমি সুগম করে দেব কঠোর পরিণামের পথ।শু‘বাহ (রহঃ) বলেন, উপরোক্ত হাদীসটি আমার কাছে মানসূর বর্ণনা করেছেন। তাকে আমি সুলায়মানের হাদীসের উল্টো মনে করেনি।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৯৪৬-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় নবী صلى الله عليه وسلم এক জানাজায় ছিলেন। তাঁর হাতে একটি কাঠি ছিল এবং তিনি মাটি খুঁচাতে খুঁচাতে বললেন, প্রত্যেক মানুষের জান্নাত বা জাহান্নামের স্থান নির্দিষ্ট করা আছে। সাহাবিরা তখন জানতে চাইলেন, তাহলে কি তারা ভাগ্যের উপর নির্ভর করে বসে থাকবে। নবী صلى الله عليه وسلم স্পষ্টভাবে বললেন, তোমরা আমল করতে থাক। যাকে যে আমলের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, তার জন্য সে আমল সহজ করে দেওয়া হবে। এরপর তিনি সূরা আল-লাইলের আয়াত পাঠ করেন। সেখানে দান, তাকওয়া, উত্তম বিষয় গ্রহণ, কার্পণ্য, নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করা এবং উত্তম বিষয় ত্যাগ করার কথা এসেছে। হাদিসটি তাকদীরকে অজুহাত বানিয়ে আমল ছাড়তে নিষেধ করে এবং মানুষকে দায়িত্বশীলভাবে চলতে শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তাকদীরের জ্ঞান মানুষকে আমল থেকে বিরত করার জন্য নয়।
- ভালো কাজের পথে এগোলে সেই পথ সহজ হওয়া আল্লাহর দয়া।
- দান ও তাকওয়ার বিপরীতে কার্পণ্য ও অবহেলা ক্ষতির কারণ হতে পারে।
