১/৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৫ - কুরআন শোনার আদব ও সংরক্ষণ
কুরআন শোনার আদব: মনোযোগ, নীরবতা ও আল্লাহর সংরক্ষণ
সহীহ বুখারী : ৫
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ أَبِي عَائِشَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، فِي قَوْلِهِ تَعَالَى ﴾لاَ تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ﴿ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يُعَالِجُ مِنَ التَّنْزِيلِ شِدَّةً، وَكَانَ مِمَّا يُحَرِّكُ شَفَتَيْهِ ـ فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَأَنَا أُحَرِّكُهُمَا لَكُمْ كَمَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يُحَرِّكُهُمَا.وَقَالَ سَعِيدٌ أَنَا أُحَرِّكُهُمَا كَمَا رَأَيْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ يُحَرِّكُهُمَا. فَحَرَّكَ شَفَتَيْهِ ـ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى ﴾لاَ تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ* إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ﴿ قَالَ جَمْعُهُ لَهُ فِي صَدْرِكَ، وَتَقْرَأَهُ ﴾فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ﴿ قَالَ فَاسْتَمِعْ لَهُ وَأَنْصِتْ ﴾ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ﴿ ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا أَنْ تَقْرَأَهُ. فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ بَعْدَ ذَلِكَ إِذَا أَتَاهُ جِبْرِيلُ اسْتَمَعَ، فَإِذَا انْطَلَقَ جِبْرِيلُ قَرَأَهُ النَّبِيُّ ﷺ كَمَا قَرَأَهُ.
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
মহান আল্লাহর বাণীঃ “ওহী দ্রুত আয়ত্ত করার জন্য আপনি ওহী নাযিল হওয়ার সময় আপনার জিহ্বা নাড়বেন না”। (সূরা ক্বিয়ামাহ ৭৫/১৬)-এর ব্যাখ্যায় বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ওহী অবতরণের সময় তা আয়ত্ত করতে বেশ কষ্ট করতেন এবং প্রায়ই তিনি তাঁর উভয় ঠোঁট নড়াতেন’। ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, ‘আমি তোমাকে দেখানোর জন্য ঠোঁট দুটি নাড়ছি যেভাবে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তা নড়াতেন’। সা’ঈদ (রহঃ) (তাঁর শিষ্যদের) বলেন, ‘আমি ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে যেরূপে তাঁর ঠোঁট দুটি নড়াতে দেখেছি, সেভাবেই আমার ঠোঁট দুটি নড়াচ্ছি’। এই বলে তিনি তাঁর ঠোঁট দুটি নড়ালেন।এ সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা অবতীর্ণ করলেনঃ “ওহী দ্রুত আয়ত্ত করার জন্য আপনি ওহী নাযিল হবার সময় আপনার জিহ্বা নড়াবেন না, এর সংরক্ষণ ও পাঠ করানোর দায়িত্ব আমার”। (সূরা ক্বিয়ামাহ ৭৫/১৬)।ইব্নু 'আব্বাস (রাঃ) বলেন, “এর অর্থ হলোঃ তোমার অন্তরে তা হেফাযত করা এবং তোমার দ্বারা তা পাঠ করানো। “সুতরাং আমি যখন তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন”- (সূরা ক্বিয়ামাহ ৭৫/১৮)। ইব্নু আব্বাস (রাঃ) বলেন, অর্থাৎ মনোযোগ সহকারে শুন এবং চুপ থাক। “তারপর এর বিশদ বর্ণনার দায়িত্ব তো আমারই”-(সূরা ক্বিয়ামাহ ৭৫/১৯)। অর্থাৎ তুমি তা পাঠ করবে, এটাও আমার দায়িত্ব।তারপর যখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ)- এর নিকট জিবরীল (আঃ) আসতেন, তখন তিনি মনোযোগ দিয়ে কেবল শুনতেন। জিবরীল (আঃ) চলে যাবার পর তিনি যেমন পাঠ করেছিলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-ও তদ্রূপ পাঠ করতেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কুরআন গ্রহণের সময় নবী صلى الله عليه وسلم-এর অবস্থা এবং আল্লাহর নির্দেশ এসেছে। ওহী নাযিল হলে তিনি তা দ্রুত আয়ত্ত করার জন্য ঠোঁট নড়াতেন। ইবন আব্বাস (রাঃ) সেই ভঙ্গি দেখিয়েছেন, আর তাঁর শিষ্য সাঈদও তা দেখিয়েছেন। তখন আল্লাহ নাযিল করেন, দ্রুত আয়ত্ত করার জন্য জিহ্বা নড়াবেন না; এর সংরক্ষণ ও পাঠ করানোর দায়িত্ব আমার। এরপর নির্দেশ হলো, যখন আমি তা পাঠ করি, আপনি সেই পাঠ অনুসরণ করুন; অর্থাৎ মনোযোগ দিয়ে শুনুন এবং চুপ থাকুন। তারপর এর ব্যাখ্যার দায়িত্বও আল্লাহর। এরপর জিবরীল (আঃ) ওহী নিয়ে এলে নবী صلى الله عليه وسلم মনোযোগ দিয়ে শুনতেন, আর তিনি চলে গেলে ঠিক সেভাবে পাঠ করতেন। এই হাদিসের মূল কীওয়ার্ড: কুরআন সংরক্ষণ, ওহী শোনার আদব, জিহ্বা নড়াবেন না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরআন সংরক্ষণ ও পাঠ করানোর দায়িত্ব আল্লাহর বলে হাদিসে এসেছে।
- ওহী শুনতে মনোযোগ ও নীরবতার শিক্ষা আছে।
- নবী صلى الله عليه وسلم প্রথমে দ্রুত আয়ত্তের চেষ্টা করতেন, পরে আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী শুনতেন।
- জিবরীল (আঃ) চলে গেলে নবী صلى الله عليه وسلم তদ্রূপ কুরআন পাঠ করতেন।
