৬৭/৯৬. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৫২০৬ - স্বামী-স্ত্রীর আপোষ
এবং যদি কোন নারী স্বীয় স্বামী হতে রূঢ়তা কিংবা উপেক্ষার আশঙ্কা করে। (সূরা আন-নিসা ৪/১২৮)
স্বামী-স্ত্রীর আপোষ: রূঢ়তা ও উপেক্ষার সময়ে সমঝোতার শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৫২০৬
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫২০৬
حَدَّثَنَا ابْنُ سَلاَمٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ ﴾وَإِنِ امْرَأَةٌ خَافَتْ مِنْ بَعْلِهَا نُشُوزًا أَوْ إِعْرَاضًا﴿ قَالَتْ هِيَ الْمَرْأَةُ تَكُونُ عِنْدَ الرَّجُلِ، لاَ يَسْتَكْثِرُ مِنْهَا فَيُرِيدُ طَلاَقَهَا، وَيَتَزَوَّجُ غَيْرَهَا، تَقُولُ لَهُ أَمْسِكْنِي وَلاَ تُطَلِّقْنِي، ثُمَّ تَزَوَّجْ غَيْرِي، فَأَنْتَ فِي حِلٍّ مِنَ النَّفَقَةِ عَلَىَّ وَالْقِسْمَةِ لِي، فَذَلِكَ قَوْلُهُ تَعَالَى ﴾فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْهِمَا أَنْ يَصَّالَحَا بَيْنَهُمَا صُلْحًا وَالصُّلْحُ خَيْرٌ﴿
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
“এবং যদি কোন নারী স্বীয় স্বামী হতে রূঢ়তা কিংবা উপেক্ষার আশঙ্কা করে” এ আয়াত প্রসঙ্গে বলেন, এ আয়াত হচ্ছে ঐ মহিলা সম্পর্কে, যার স্বামী তার স্ত্রীকে নিজের কাছে রাখতে চায় না; বরং তাকে তালাক দিয়ে অন্য কোন মহিলাকে বিয়ে করতে চায়। তখন তার স্ত্রী তাকে বলে, আমাকে রাখ এবং তালাক দিও না বরং অন্য কোন মহিলাকে বিয়ে করে নাও এবং তুমি ইচ্ছে করলে আমাকে খোরপোষ না-ও দিতে পার, আর আমাকে শয্যাসঙ্গিনী না-ও করতে পার। আল্লাহ্ তা’আলার উক্ত আয়াত দ্বারা বোঝা যায় যে, “তবে তারা পরস্পর আপোষ করলে তাদের কোন গুনাহ নেই, বস্তুতঃ আপোষ করাই উত্তম।” (সূরা আন-নিসাঃ ৪/১২৮)
সহীহ বুখারী হাদিস ৫২০৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সূরা আন-নিসার একটি আয়াতের ব্যাখ্যায় আয়েশা (রাঃ) একটি দাম্পত্য অবস্থার কথা বলেন। কোনো নারী যদি দেখে স্বামী তাকে রাখতে আগ্রহী নয়, বরং তালাক দিয়ে অন্য নারীকে বিয়ে করতে চায়, তখন স্ত্রী আপোষের প্রস্তাব দিতে পারে। যেমন—আমাকে রাখো, তালাক দিও না; চাইলে অন্য স্ত্রী গ্রহণ করো, আর আমার ভরণপোষণ বা পালার বিষয়ে ছাড় থাকতে পারে। এখানে মূল শিক্ষা হলো, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ভাঙনের মুখে গেলে পরস্পর সম্মত সমাধান করা যায়। তবে হাদিসটি কাউকে জোর করে অধিকার ছাড়াতে বলছে না; বরং স্ত্রী নিজে প্রস্তাব করলে আপোষের কথা বলছে। ‘আপোষ উত্তম’—এ কথাটিই এখানে মূল বার্তা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দাম্পত্য সংকটে পারস্পরিক সম্মত আপোষের সুযোগ আছে।
- স্ত্রীর নিজের প্রস্তাব ও সম্মতি এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
- তালাকের আগে শান্তিপূর্ণ সমাধান খোঁজা ভালো।
- হাদিসের সীমা রেখে অধিকার ছাড়ার বিষয়টি বুঝতে হবে।
