৯/৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৫২৫ - ফিতনা থেকে বাঁচার আমল ও সতর্কতা
সালাত হল (গুনাহর) কাফফারা।
ফিতনা সম্পর্কে হাদিস: সালাত, সিয়াম ও সদাকার মাধ্যমে সতর্ক জীবন
সহীহ বুখারী : ৫২৫
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫২৫
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ الأَعْمَشِ، قَالَ حَدَّثَنِي شَقِيقٌ، قَالَ سَمِعْتُ حُذَيْفَةَ، قَالَ كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ عُمَرَ ـ رضى الله عنه ـ فَقَالَ أَيُّكُمْ يَحْفَظُ قَوْلَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فِي الْفِتْنَةِ قُلْتُ أَنَا، كَمَا قَالَهُ. قَالَ إِنَّكَ عَلَيْهِ ـ أَوْ عَلَيْهَا ـ لَجَرِيءٌ. قُلْتُ «فِتْنَةُ الرَّجُلِ فِي أَهْلِهِ وَمَالِهِ وَوَلَدِهِ وَجَارِهِ تُكَفِّرُهَا الصَّلاَةُ وَالصَّوْمُ وَالصَّدَقَةُ وَالأَمْرُ وَالنَّهْىُ ".قَالَ لَيْسَ هَذَا أُرِيدُ، وَلَكِنِ الْفِتْنَةُ الَّتِي تَمُوجُ كَمَا يَمُوجُ الْبَحْرُ. قَالَ لَيْسَ عَلَيْكَ مِنْهَا بَأْسٌ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، إِنَّ بَيْنَكَ وَبَيْنَهَا بَابًا مُغْلَقًا. قَالَ أَيُكْسَرُ أَمْ يُفْتَحُ قَالَ يُكْسَرُ. قَالَ إِذًا لاَ يُغْلَقَ أَبَدًا. قُلْنَا أَكَانَ عُمَرُ يَعْلَمُ الْبَابَ قَالَ نَعَمْ، كَمَا أَنَّ دُونَ الْغَدِ اللَّيْلَةَ، إِنِّي حَدَّثْتُهُ بِحَدِيثٍ لَيْسَ بِالأَغَالِيطِ. فَهِبْنَا أَنْ نَسْأَلَ حُذَيْفَةَ، فَأَمَرْنَا مَسْرُوقًا فَسَأَلَهُ فَقَالَ الْبَابُ عُمَرُ
হুযাইফাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা আমরা ‘উমর (রাঃ) এঁর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম। তখন তিনি বললেন, ফিতনা-ফাসাদ সম্পর্কে রাসূল্লুলাহ (ﷺ) -এর বক্তব্য তোমাদের মধ্যে কে মনে রেখেছো? হুযাইফা (রাঃ) বললেন, ‘যেমনভাবে তিনি বলেছিলেন হুবুহু তেমনিই আমি মনে রেখেছি।’ ‘উমর (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) -এর বাণী মনে রাখার ব্যাপারে তুমি খুব দৃঢ়তার পরিচয় দিচ্ছো। আমি বললাম (রাসূল্ললাহ (ﷺ) বলেছিলেন) মানুষ নিজের পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি, পাড়া-প্রতিবেশীদের ব্যাপারে যে ফিতনায় পতিত হয়- সালাত, সিয়াম, সদাকা (ন্যায়ের) আদেশ ও অন্যায়ের নিষেধ তা দূরীভূত করে দেয়।'উমর (রাঃ) বললেন, তা আমার উদ্দেশ্য নয়। বরং আমি সেই ফিতনার কথা বলছি যা সমুদ্র তরঙ্গের ন্যায় ভয়াল হবে। হুযাইফা (রাঃ) বললেন, হে আমিরুল মুমিনীন! সে ব্যাপারে আপনার ভয়ের কোন কারণ নেই। কেননা, আপনার ও সে ফিতনার মাঝখানে একটি বন্ধ দরজা রয়েছে। ‘উমর (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, সে দরজাটি কি ভেঙ্গে ফেলা হবে, না খুলে দেয়া হবে? হুযাইফা (রাঃ) বললেন, ভেঙ্গে ফেলা হবে। ‘উমর (রাঃ) বললেন, তাহলে তো আর কোনদিন তা বন্ধ করা যাবে না।[হুযাইফা (রাঃ) এঁর ছাত্র শাক্বীক (রহঃ) বলেন,] আমরা জিজ্ঞেস করলাম, ‘উমর (রাঃ) কি সে দরজাটি সম্বন্ধে জানতেন? হুযাইফা (রাঃ) বললেন, হাঁ, দিনের পূর্বে রাতের আগমন যেমন সুনিশ্চিত, তেমনি নিশ্চিতভাবে তিনি জানতেন। কেননা, আমি তাঁর কাছে এমন একটি হাদীস বর্ণনা করেছি, যা মোটেও ত্রুটিযুক্ত নয়। (দরজাটি কী) এ বিষয়ে হুযাইফা (রাঃ) এর নিকট জানতে ভয় পাচ্ছিলাম। তাই আমরা মাসরূক (রহঃ)- কে বললাম এবং তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, দরজাটি ‘উমর (রাঃ) নিজেই।
সহীহ বুখারী হাদিস ৫২৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উমর (রাঃ) ও হুযাইফা (রাঃ)-এর কথোপকথনের মাধ্যমে ফিতনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কথা এসেছে। হুযাইফা (রাঃ) বলেন, মানুষের পরিবার, সম্পদ, সন্তান ও প্রতিবেশীর ব্যাপারে যে ফিতনা হয়, সালাত, সিয়াম, সদাকা, সৎ কাজের আদেশ এবং অন্যায় থেকে নিষেধ—এসব তা দূর করে। পরে উমর (রাঃ) বলেন, তিনি এমন ফিতনার কথা জানতে চান, যা সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো ভয়াবহ হবে। হুযাইফা (রাঃ) জানান, উমর (রাঃ)-এর ও সেই ফিতনার মাঝে একটি বন্ধ দরজা আছে। পরে জানা যায়, সেই দরজা ছিলেন উমর (রাঃ) নিজেই। এই হাদিসে ব্যক্তিগত ফিতনা, আমলের প্রভাব এবং বড় ফিতনার ব্যাপারে সতর্কতার শিক্ষা রয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পরিবার, সম্পদ, সন্তান ও প্রতিবেশী সম্পর্কেও মানুষ পরীক্ষায় পড়তে পারে।
- সালাত, সিয়াম ও সদাকা গুনাহ দূর হওয়ার কারণ হতে পারে।
- সৎ কাজের আদেশ ও অন্যায়ের নিষেধ গুরুত্বপূর্ণ আমল।
- বড় ফিতনার ব্যাপারে সাহাবিরা গভীরভাবে সতর্ক ছিলেন।
