৬৮/১২. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৫২৭৫ - সংসার করতে না পারলে খুলার পথ
খুলার বর্ণনা এবং তালাক হওয়ার নিয়ম।
وَقَوْلُ اللَّهِ تَعَالَى : ﴾وَلَا يَحِلُّ لَكُمْ أَنْ تَأْخُذُوا مِمَّا ءَاتَيْتُمُوهُنَّ شَيْئًا إِلَّا أَنْ يَخَافَا أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ﴿ إِلَى قَوْلِهِ ﴾الظَّالِمُونَ﴿ وَأَجَازَ عُمَرُ الْخُلْعَ دُونَ السُّلْطَانِ وَأَجَازَ عُثْمَانُ الْخُلْعَ دُونَ عِقَاصِ رَأْسِهَا وَقَالَ طَاوُسٌ إِلَّا أَنْ يَخَافَا أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ فِيمَا افْتَرَضَ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا عَلَى صَاحِبِهِ فِي الْعِشْرَةِ وَالصُّحْبَةِ وَلَمْ يَقُلْ قَوْلَ السُّفَهَاءِ لَا يَحِلُّ حَتَّى تَقُولَ لَا أَغْتَسِلُ لَكَ مِنْ جَنَابَةٍ.মহান আল্লাহর বাণী: “তোমাদের পক্ষে তাদেরকে দেয়া মালের কিছুই ফিরিয়ে নেয়া জায়িয হবে না, কিন্তু যদি তারা উভয়ে আশঙ্কা করে যে তারা আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা রক্ষা করে চলতে পারবে না (তাহলে অন্য ব্যবস্থা)। অতঃপর যদি তোমরা (উভয় পক্ষের শালিসগণ) আশঙ্কা কর যে উভয়পক্ষ আল্লাহর আইনসমূহ ঠিক রাখতে পারবে না, তাহলে উভয়ের প্রতি কোনো গুনাহ নেই যদি কোনো কিছুর বিনিময়ে স্ত্রী নিজেকে মুক্ত করতে চায়। এগুলো আল্লাহর আইন, কাজেই তোমরা এগুলোকে লঙ্ঘন করো না, আর যারা আল্লাহর আইনসমূহ লঙ্ঘন করবে, তারাই যালিম।” (সূরা আল-বাকারা ২/২২৯)‘উমার (রাঃ) কাযীর অনুমতি ব্যতীত খুলা‘কে বৈধ বলেছেন। ‘উসমান (রাঃ) মাথার বেণী ব্যতীত অন্য সকল কিছুর পরিবর্তে খুলা‘ করার অনুমতি দিয়েছেন। তাউস (রহঃ) বলেন, যদি তারা উভয়ে আল্লাহর সীমা ঠিক না রাখতে পারার আশঙ্কা করে অর্থাৎ সংসার জীবনে তাদের প্রত্যেকের উপর যে দায়িত্ব আল্লাহ অর্পণ করেছেন সে ব্যাপারে। তিনি বোকাদের মাঝে এ কথা বলেননি যে, খুলা ততক্ষণ বৈধ হবে না, যতক্ষণ না মহিলা বলবে আমি জুনবী হয়ে তোমার জন্য গোসল করব না অর্থাৎ যতক্ষণ না মহিলা তাকে সহবাস থেকে বাধা দান করবে।"
সংসার করতে না পারলে খুলা: সাবিতের স্ত্রীর ঘটনা
সহীহ বুখারী : ৫২৭৫
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫২৭৫
وَعَنْ أَيُّوبَ بْنِ أَبِي تَمِيمَةَ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّه“ قَالَ جَاءَتْ امْرَأَةُ ثَابِتِ بْنِ قَيْسٍ إِلٰى رَسُوْلِ اللهِ ﷺ فَقَالَتْ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنِّي لاَ أَعْتِبُ عَلٰى ثَابِتٍ فِي دِينٍ وَلاَ خُلُقٍ وَلٰكِنِّي لاَ أُطِيقُه“ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ فَتَرُدِّينَ عَلَيْهِ حَدِيقَتَه“ قَالَتْ نَعَمْ.
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
অন্য বর্ণনায় ইবনু আবূ তামীমা ইক্রামাহ সূত্রে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেনঃ সাবিত ইব্নু কায়স (রাঃ)- এর স্ত্রী রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)- এর নিকট এসে বললঃ হে আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)! সাবিতের দীনদারী ও চরিত্রের ব্যাপারে আমি কোন দোষারোপ করছি না, তবে আমি তার সঙ্গে সংসার জীবন নির্বাহ করতে পারছিনা। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, তুমি তার বাগানটি কি ফিরিয়ে দেবে? সে বললঃ হাঁ।
সহীহ বুখারী হাদিস ৫২৭৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সাবিত ইবন কায়সের স্ত্রীর কথা এসেছে। তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে এসে বলেন, সাবিতের দীনদারী বা চরিত্র নিয়ে তাঁর কোনো অভিযোগ নেই। কিন্তু তিনি তার সঙ্গে সংসার জীবন চালাতে পারছেন না। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি কি সাবিতের দেওয়া বাগান ফিরিয়ে দেবেন? তিনি বলেন, হ্যাঁ। এই বর্ণনা খুব নরম ভাষায় দাম্পত্য সমস্যার একটি দিক তুলে ধরে। এখানে স্ত্রী স্বামীর দোষ খুঁজে কথা বলেননি, বরং নিজের অক্ষমতা জানিয়েছেন। খুলা তালাকের আলোচনায় এই হাদিস গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে সম্পর্ক ভাঙার পেছনে সব সময় চরিত্রগত দোষ থাকা জরুরি নয়—এ বিষয়টি দেখা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দাম্পত্য অমিল থাকলে নিজের অবস্থার কথা পরিষ্কারভাবে বলা যায়।
- স্বামীর চরিত্রে দোষ না থাকলেও সংসার চালানো কঠিন হতে পারে।
- খুলার ক্ষেত্রে স্বামীর দেওয়া বাগান ফেরত দেওয়ার কথা এসেছে।
