৬৮/১২. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৫২৭৬ - খুলায় সম্পদ ফেরত ও পৃথক হওয়া
খুলার বর্ণনা এবং তালাক হওয়ার নিয়ম।
وَقَوْلُ اللَّهِ تَعَالَى : ﴾وَلَا يَحِلُّ لَكُمْ أَنْ تَأْخُذُوا مِمَّا ءَاتَيْتُمُوهُنَّ شَيْئًا إِلَّا أَنْ يَخَافَا أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ﴿ إِلَى قَوْلِهِ ﴾الظَّالِمُونَ﴿ وَأَجَازَ عُمَرُ الْخُلْعَ دُونَ السُّلْطَانِ وَأَجَازَ عُثْمَانُ الْخُلْعَ دُونَ عِقَاصِ رَأْسِهَا وَقَالَ طَاوُسٌ إِلَّا أَنْ يَخَافَا أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ فِيمَا افْتَرَضَ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا عَلَى صَاحِبِهِ فِي الْعِشْرَةِ وَالصُّحْبَةِ وَلَمْ يَقُلْ قَوْلَ السُّفَهَاءِ لَا يَحِلُّ حَتَّى تَقُولَ لَا أَغْتَسِلُ لَكَ مِنْ جَنَابَةٍ.মহান আল্লাহর বাণী: “তোমাদের পক্ষে তাদেরকে দেয়া মালের কিছুই ফিরিয়ে নেয়া জায়িয হবে না, কিন্তু যদি তারা উভয়ে আশঙ্কা করে যে তারা আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা রক্ষা করে চলতে পারবে না (তাহলে অন্য ব্যবস্থা)। অতঃপর যদি তোমরা (উভয় পক্ষের শালিসগণ) আশঙ্কা কর যে উভয়পক্ষ আল্লাহর আইনসমূহ ঠিক রাখতে পারবে না, তাহলে উভয়ের প্রতি কোনো গুনাহ নেই যদি কোনো কিছুর বিনিময়ে স্ত্রী নিজেকে মুক্ত করতে চায়। এগুলো আল্লাহর আইন, কাজেই তোমরা এগুলোকে লঙ্ঘন করো না, আর যারা আল্লাহর আইনসমূহ লঙ্ঘন করবে, তারাই যালিম।” (সূরা আল-বাকারা ২/২২৯)‘উমার (রাঃ) কাযীর অনুমতি ব্যতীত খুলা‘কে বৈধ বলেছেন। ‘উসমান (রাঃ) মাথার বেণী ব্যতীত অন্য সকল কিছুর পরিবর্তে খুলা‘ করার অনুমতি দিয়েছেন। তাউস (রহঃ) বলেন, যদি তারা উভয়ে আল্লাহর সীমা ঠিক না রাখতে পারার আশঙ্কা করে অর্থাৎ সংসার জীবনে তাদের প্রত্যেকের উপর যে দায়িত্ব আল্লাহ অর্পণ করেছেন সে ব্যাপারে। তিনি বোকাদের মাঝে এ কথা বলেননি যে, খুলা ততক্ষণ বৈধ হবে না, যতক্ষণ না মহিলা বলবে আমি জুনবী হয়ে তোমার জন্য গোসল করব না অর্থাৎ যতক্ষণ না মহিলা তাকে সহবাস থেকে বাধা দান করবে।"
খুলা তালাকে বাগান ফেরত দিয়ে পৃথক হওয়ার হাদিস
সহীহ বুখারী : ৫২৭৬
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫২৭৬
مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ الْمُبَارَكِ الْمُخَرِّمِيُّ حَدَّثَنَا قُرَادٌ أَبُو نُوحٍ حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ جَاءَتْ امْرَأَةُ ثَابِتِ بْنِ قَيْسِ بْنِ شَمَّاسٍ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ فَقَالَتْ يَا رَسُوْلَ اللهِ مَا أَنْقِمُ عَلٰى ثَابِتٍ فِي دِينٍ وَلاَ خُلُقٍ إِلاَّ أَنِّي أَخَافُ الْكُفْرَ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ فَتَرُدِّينَ عَلَيْهِ حَدِيقَتَه“ فَقَالَتْ نَعَمْ فَرَدَّتْ عَلَيْهِ وَأَمَرَه“ فَفَارَقَهَا.
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
সাবিত ইবনু কায়স ইবনু শাম্মাস (রাঃ)- এর স্ত্রী নবী (ﷺ)- এর কাছে এসে বললঃ হে আল্লাহ্র রাসূল! আমি সাবিতের দ্বীন ও চরিত্রের ব্যাপারে কোন দোষ দিচ্ছি না। তবে আমি কুফরীর আশঙ্কা করছি। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ তুমি কি তার বাগানটি ফিরিয়ে দিতে প্রস্তুত আছ? সে বললঃ হাঁ। অতঃপর সে বাগানটি তাকে (স্বামীকে) ফিরিয়ে দিল। আর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তার স্বামীকে নির্দেশ দিলেন, সে মহিলাকে পৃথক করে দিল।
সহীহ বুখারী হাদিস ৫২৭৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সাবিত ইবন কায়স ইবন শাম্মাসের স্ত্রীর ঘটনা এসেছে। তিনি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে এসে বলেন, সাবিতের দ্বীন বা চরিত্রের বিষয়ে তিনি কোনো দোষ দিচ্ছেন না। তবে তিনি কুফরীর আশঙ্কা করছেন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি কি সাবিতের দেওয়া বাগান ফিরিয়ে দিতে প্রস্তুত? তিনি বলেন, হ্যাঁ। এরপর তিনি বাগানটি স্বামীকে ফিরিয়ে দেন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) স্বামীকে নির্দেশ দেন এবং সে মহিলাকে পৃথক করে দেয়। এই হাদিসে খুলা তালাকের বাস্তব রূপ দেখা যায়: অভিযোগ ছাড়াও দাম্পত্য অমিলের কারণে বিচ্ছেদ হতে পারে, তবে এতে দায়িত্ব ও ফেরত দেওয়ার বিষয়ও আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- খুলার ক্ষেত্রে স্ত্রী নিজের আশঙ্কা ও কষ্ট জানাতে পারে।
- স্বামীর দীন ও চরিত্রে দোষ না থাকলেও পৃথক হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
- বাগান ফেরত দেওয়ার পর স্বামী তাকে পৃথক করে দেয়।
