৬৮/১২. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৫২৭৭ - জামীলা ও খুলা ঘটনার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা
খুলার বর্ণনা এবং তালাক হওয়ার নিয়ম।
وَقَوْلُ اللَّهِ تَعَالَى : ﴾وَلَا يَحِلُّ لَكُمْ أَنْ تَأْخُذُوا مِمَّا ءَاتَيْتُمُوهُنَّ شَيْئًا إِلَّا أَنْ يَخَافَا أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ﴿ إِلَى قَوْلِهِ ﴾الظَّالِمُونَ﴿ وَأَجَازَ عُمَرُ الْخُلْعَ دُونَ السُّلْطَانِ وَأَجَازَ عُثْمَانُ الْخُلْعَ دُونَ عِقَاصِ رَأْسِهَا وَقَالَ طَاوُسٌ إِلَّا أَنْ يَخَافَا أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ فِيمَا افْتَرَضَ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا عَلَى صَاحِبِهِ فِي الْعِشْرَةِ وَالصُّحْبَةِ وَلَمْ يَقُلْ قَوْلَ السُّفَهَاءِ لَا يَحِلُّ حَتَّى تَقُولَ لَا أَغْتَسِلُ لَكَ مِنْ جَنَابَةٍ.মহান আল্লাহর বাণী: “তোমাদের পক্ষে তাদেরকে দেয়া মালের কিছুই ফিরিয়ে নেয়া জায়িয হবে না, কিন্তু যদি তারা উভয়ে আশঙ্কা করে যে তারা আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা রক্ষা করে চলতে পারবে না (তাহলে অন্য ব্যবস্থা)। অতঃপর যদি তোমরা (উভয় পক্ষের শালিসগণ) আশঙ্কা কর যে উভয়পক্ষ আল্লাহর আইনসমূহ ঠিক রাখতে পারবে না, তাহলে উভয়ের প্রতি কোনো গুনাহ নেই যদি কোনো কিছুর বিনিময়ে স্ত্রী নিজেকে মুক্ত করতে চায়। এগুলো আল্লাহর আইন, কাজেই তোমরা এগুলোকে লঙ্ঘন করো না, আর যারা আল্লাহর আইনসমূহ লঙ্ঘন করবে, তারাই যালিম।” (সূরা আল-বাকারা ২/২২৯)‘উমার (রাঃ) কাযীর অনুমতি ব্যতীত খুলা‘কে বৈধ বলেছেন। ‘উসমান (রাঃ) মাথার বেণী ব্যতীত অন্য সকল কিছুর পরিবর্তে খুলা‘ করার অনুমতি দিয়েছেন। তাউস (রহঃ) বলেন, যদি তারা উভয়ে আল্লাহর সীমা ঠিক না রাখতে পারার আশঙ্কা করে অর্থাৎ সংসার জীবনে তাদের প্রত্যেকের উপর যে দায়িত্ব আল্লাহ অর্পণ করেছেন সে ব্যাপারে। তিনি বোকাদের মাঝে এ কথা বলেননি যে, খুলা ততক্ষণ বৈধ হবে না, যতক্ষণ না মহিলা বলবে আমি জুনবী হয়ে তোমার জন্য গোসল করব না অর্থাৎ যতক্ষণ না মহিলা তাকে সহবাস থেকে বাধা দান করবে।"
জামীলার খুলা ঘটনা: সংক্ষিপ্ত বর্ণনার শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৫২৭৭
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫২৭৭
سُلَيْمَانُ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ عِكْرِمَةَ أَنَّ جَمِيلَةَ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ.
‘ইকরিমাহ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
যে, জামীলা (রাঃ) (সাবিতের স্ত্রী) এরপর উক্ত হাদীসটি উল্লেখ করেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ৫২৭৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসটি খুব সংক্ষিপ্ত, কিন্তু খুলা তালাকের আলোচনার সঙ্গে জড়িত। এখানে আইয়ুব, ইকরিমা সূত্রে বলা হয়েছে যে, জামীলা উক্ত হাদিসটি উল্লেখ করেন। বর্ণনাটিতে নতুন কোনো বিস্তারিত কথা নেই, বরং আগের খুলা ঘটনার দিকে ইঙ্গিত আছে। সেই ঘটনার মূল বিষয় ছিল, স্ত্রী স্বামীর দীন বা চরিত্রে দোষ না দিলেও তার সঙ্গে সংসার চালাতে না পারার কথা জানায় এবং স্বামীর দেওয়া বাগান ফেরত দেওয়ার বিষয় আসে। তাই এই হাদিসকে খুলা বিষয়ের সহায়ক বর্ণনা হিসেবে দেখা যায়। এর শিক্ষা হলো, সংক্ষিপ্ত বর্ণনাও কখনো একই ঘটনার ধারাকে শক্ত করে। তবে এই নির্দিষ্ট লাইনে যতটুকু বলা হয়েছে, ব্যাখ্যাও ততটুকুর ভেতরে রাখা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- এই বর্ণনা খুলা ঘটনার সংক্ষিপ্ত উল্লেখ বহন করে।
- সব হাদিসে একই ঘটনার সব বিস্তারিত না-ও থাকতে পারে।
- সংক্ষিপ্ত বর্ণনা বুঝতে সংশ্লিষ্ট বর্ণনার মূল বক্তব্য খেয়াল করতে হয়।
