৬৮/৪১. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৫৩২১ - তালাকপ্রাপ্তা নারীর ঘরে থাকার বিধান
ফাতিমা বিনত কায়সের ঘটনা
وَقَوْلِهِ تَعَالَى : ﴾وَاتَّقُوا اللَّهَ رَبَّكُمْ ۖ لَا تُخْرِجُوهُنَّ مِن بُيُوتِهِنَّ وَلَا يَخْرُجْنَ إِلَّا أَن يَأْتِينَ بِفَاحِشَةٍ مُّبَيِّنَةٍ ۚ وَتِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ ۚ وَمَن يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَهُ ۚ لَا تَدْرِي لَعَلَّ اللَّهَ يُحْدِثُ بَعْدَ ذَٰلِكَ أَمْرًا﴿ ﴾أَسْكِنُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ سَكَنتُم مِّن وُجْدِكُمْ وَلَا تُضَارُّوهُنَّ لِتُضَيِّقُوا عَلَيْهِنَّ ۚ وَإِن كُنَّ أُولَاتِ حَمْلٍ فَأَنفِقُوا عَلَيْهِنَّ حَتَّىٰ يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ﴿ إِلَى قَوْلِهِ ﴾بَعْدَ عُسْرٍ يُسْرًا﴿.এবং মহান আল্লাহর বাণী: “তোমরা তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় কর। তাদেরকে তাদের বাসগৃহ থেকে বের করে দিও না, আর তারা নিজেরাও যেন বের হয়ে না যায়, যদি না তারা স্পষ্ট অশ্লীলতায় লিপ্ত হয়। এগুলো আল্লাহর সীমারেখা। যে কেউ আল্লাহর সীমারেখা লঙ্ঘন করে, সে নিজের উপরই যুলুম করে। তোমরা জান না, আল্লাহ হয়তো এরপরও (স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সমঝোতার) কোনো উপায় বের করে দিবেন ... الطَّلَـق... (“ইদ্দতকালে) নারীদেরকে সেভাবেই বসবাস করতে দাও যেভাবে তোমরা বসবাস কর তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী...... আল্লাহ কষ্টের পর আরাম দিবেন।” (সূরা আত-তালাক ৬৫/১-৭)"
তালাকপ্রাপ্তা নারীর বাসস্থান ও ইদ্দতের সতর্ক শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৫৩২১
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫৩২১
إِسْمَاعِيلُ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ يَحْيٰى بْنِ سَعِيدٍ عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ وَسُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ أَنَّه“ سَمِعَهُمَا يَذْكُرَانِ أَنَّ يَحْيٰى بْنَ سَعِيدِ بْنِ الْعَاصِ طَلَّقَ بِنْتَ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ بْنِ الْحَكَمِ فَانْتَقَلَهَا عَبْدُ الرَّحْمٰنِ فَأَرْسَلَتْ عَائِشَةُ أُمُّ الْمُؤْمِنِيِنَ إِلٰى مَرْوَانَ بْنِ الحَكَمِ وَهُوَ أَمِيرُ الْمَدِينَةِ اتَّقِ اللهَ وَارْدُدْهَا إِلٰى بَيْتِهَاقَالَ مَرْوَانُ فِي حَدِيثِ سُلَيْمَانَ إِنَّ عَبْدَ الرَّحْمٰنِ بْنَ الْحَكَمِ غَلَبَنِي وَقَالَ الْقَاسِمُ بْنُ مُحَمَّدٍ أَوَمَا بَلَغَكِ شَأْنُ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ قَالَتْ لاَ يَضُرُّكَ أَنْ لاَ تَذْكُرَ حَدِيثَ فَاطِمَةَ فَقَالَ مَرْوَانُ بْنُ الحَكَمِ إِنْ كَانَ بِكِ شَرٌّ فَحَسْبُكِ مَا بَيْنَ هَذَيْنِ مِنَ الشَّرِّ.
কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) ও সুলাইমান ইবনু ইয়াসার (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
ইয়াহিয়া ইবনু সা’ঈদ ইবনু আস (রহঃ) ‘আবদুর রহমান ইবনু হাকাম এর কন্যাকে তালাক দিলে ‘আবদুর রহমান তাকে উম্মুল মু’মিনীন 'আয়িশা (রাঃ)- এর কাছে নিয়ে গেলে, তিনি মাদীনাহ্র শাসনকর্তা মারওয়ানের কাছে বলে পাঠালেনঃ আল্লাহকে ভয় কর, আর তাকে তার ঘরে ফিরিয়ে দাও। মারওয়ান বলেন, সুলাইমানের বর্ণনায় ‘আবদুর রহমান আমাকে যুক্তিতে হারিয়ে দিয়েছে। কাসিম ইবনু মুহাম্মাদের বর্ণনায় তিনি বলেন, ফাতিমা বিন্ত কায়সের ঘটনা কি আপনার কাছে পৌঁছেনি? তিনি বললেনঃ ('আয়িশা) ফাতিমা বিন্ত কায়সের ঘটনা মনে না রাখলে তোমার কোন ক্ষতি হবে না। মারওয়ান বললেনঃ যদি মনে করেন ফাতিমাকে বের করার পেছনে তার মন্দ আচরণ কাজ করেছে, তবে বলব, এখানে সে মন্দ আচরণ বিদ্যমান আছে।
সহীহ বুখারী হাদিস ৫৩২১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে তালাকপ্রাপ্তা নারীর ঘরে থাকা, পরিবারে হস্তক্ষেপ এবং আল্লাহকে ভয় করার কথা সামনে এসেছে। ইয়াহিয়া ইবনু সাঈদ ইবনু আস আবদুর রহমান ইবনুল হাকামের কন্যাকে তালাক দিলে তাকে ঘর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাঃ) মদীনার শাসক মারওয়ানের কাছে বার্তা পাঠিয়ে বলেন, আল্লাহকে ভয় করো এবং তাকে তার ঘরে ফিরিয়ে দাও। এখানে মূল শিক্ষা হলো, তালাকের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে তাড়াহুড়া বা চাপ নয়; বরং আল্লাহভীতি, ন্যায়বোধ এবং নারীর অধিকার মাথায় রাখা দরকার। ফাতিমা বিনত কাইসের ঘটনার কথা উঠলেও আয়েশা (রাঃ) সেটিকে সাধারণ নিয়ম বানানোর ব্যাপারে সতর্ক করেন। তাই হাদিসটি তালাকপ্রাপ্তা নারীর বাসস্থান ও ইদ্দত বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তালাকের পর নারীর অবস্থান বিষয়ে আল্লাহভীতি ও সতর্কতা জরুরি।
- ব্যক্তিগত বা পারিবারিক সিদ্ধান্তে অন্যায়ের আশঙ্কা থাকলে তা সংশোধনের চেষ্টা করা উচিত।
- কোনো ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সব দিক বিবেচনা করা দরকার।
