৬৮/৪১. অধ্যায়ঃ

সহীহ বুখারী হাদিস ৫৩২২ - তালাকপ্রাপ্তা নারীর বাসস্থান

ফাতিমা বিনত কায়সের ঘটনা

وَقَوْلِهِ تَعَالَى : ﴾وَاتَّقُوا اللَّهَ رَبَّكُمْ ۖ لَا تُخْرِجُوهُنَّ مِن بُيُوتِهِنَّ وَلَا يَخْرُجْنَ إِلَّا أَن يَأْتِينَ بِفَاحِشَةٍ مُّبَيِّنَةٍ ۚ وَتِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ ۚ وَمَن يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَهُ ۚ لَا تَدْرِي لَعَلَّ اللَّهَ يُحْدِثُ بَعْدَ ذَٰلِكَ أَمْرًا﴿ ﴾أَسْكِنُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ سَكَنتُم مِّن وُجْدِكُمْ وَلَا تُضَارُّوهُنَّ لِتُضَيِّقُوا عَلَيْهِنَّ ۚ وَإِن كُنَّ أُولَاتِ حَمْلٍ فَأَنفِقُوا عَلَيْهِنَّ حَتَّىٰ يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ﴿ إِلَى قَوْلِهِ ﴾بَعْدَ عُسْرٍ يُسْرًا﴿.এবং মহান আল্লাহর বাণী: “তোমরা তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় কর। তাদেরকে তাদের বাসগৃহ থেকে বের করে দিও না, আর তারা নিজেরাও যেন বের হয়ে না যায়, যদি না তারা স্পষ্ট অশ্লীলতায় লিপ্ত হয়। এগুলো আল্লাহর সীমারেখা। যে কেউ আল্লাহর সীমারেখা লঙ্ঘন করে, সে নিজের উপরই যুলুম করে। তোমরা জান না, আল্লাহ হয়তো এরপরও (স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সমঝোতার) কোনো উপায় বের করে দিবেন ... الطَّلَـق... (“ইদ্দতকালে) নারীদেরকে সেভাবেই বসবাস করতে দাও যেভাবে তোমরা বসবাস কর তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী...... আল্লাহ কষ্টের পর আরাম দিবেন।” (সূরা আত-তালাক ৬৫/১-৭)"

তালাকপ্রাপ্তা নারীর ঘরে থাকা: ইদ্দত ও আল্লাহভীতি

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫৩২২

إِسْمَاعِيلُ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ يَحْيٰى بْنِ سَعِيدٍ عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ وَسُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ أَنَّه“ سَمِعَهُمَا يَذْكُرَانِ أَنَّ يَحْيٰى بْنَ سَعِيدِ بْنِ الْعَاصِ طَلَّقَ بِنْتَ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ بْنِ الْحَكَمِ فَانْتَقَلَهَا عَبْدُ الرَّحْمٰنِ فَأَرْسَلَتْ عَائِشَةُ أُمُّ الْمُؤْمِنِيِنَ إِلٰى مَرْوَانَ بْنِ الحَكَمِ وَهُوَ أَمِيرُ الْمَدِينَةِ اتَّقِ اللهَ وَارْدُدْهَا إِلٰى بَيْتِهَاقَالَ مَرْوَانُ فِي حَدِيثِ سُلَيْمَانَ إِنَّ عَبْدَ الرَّحْمٰنِ بْنَ الْحَكَمِ غَلَبَنِي وَقَالَ الْقَاسِمُ بْنُ مُحَمَّدٍ أَوَمَا بَلَغَكِ شَأْنُ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ قَالَتْ لاَ يَضُرُّكَ أَنْ لاَ تَذْكُرَ حَدِيثَ فَاطِمَةَ فَقَالَ مَرْوَانُ بْنُ الحَكَمِ إِنْ كَانَ بِكِ شَرٌّ فَحَسْبُكِ مَا بَيْنَ هَذَيْنِ مِنَ الشَّرِّ.

কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) ও সুলাইমান ইবনু ইয়াসার (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

ইয়াহিয়া ইবনু সা’ঈদ ইবনু আস (রহঃ) ‘আবদুর রহমান ইবনু হাকাম এর কন্যাকে তালাক দিলে ‘আবদুর রহমান তাকে উম্মুল মু’মিনীন 'আয়িশা (রাঃ)- এর কাছে নিয়ে গেলে, তিনি মাদীনাহ্‌র শাসনকর্তা মারওয়ানের কাছে বলে পাঠালেনঃ আল্লাহকে ভয় কর, আর তাকে তার ঘরে ফিরিয়ে দাও। মারওয়ান বলেন, সুলাইমানের বর্ণনায় ‘আবদুর রহমান আমাকে যুক্তিতে হারিয়ে দিয়েছে। কাসিম ইবনু মুহাম্মাদের বর্ণনায় তিনি বলেন, ফাতিমা বিন্‌ত কায়সের ঘটনা কি আপনার কাছে পৌঁছেনি? তিনি বললেনঃ ('আয়িশা) ফাতিমা বিন্‌ত কায়সের ঘটনা মনে না রাখলে তোমার কোন ক্ষতি হবে না। মারওয়ান বললেনঃ যদি মনে করেন ফাতিমাকে বের করার পেছনে তার মন্দ আচরণ কাজ করেছে, তবে বলব, এখানে সে মন্দ আচরণ বিদ্যমান আছে।

সহীহ বুখারী হাদিস ৫৩২২-এর সারসংক্ষেপ

এই বর্ণনায় একই বিষয় আবার এসেছে—তালাকপ্রাপ্তা নারীকে কোথায় রাখা হবে এবং তার ব্যাপারে কীভাবে ন্যায় করা হবে। একজন নারীকে তালাকের পর ঘর থেকে সরিয়ে নেওয়া হলে আয়েশা (রাঃ) তা সহজভাবে মেনে নেননি। তিনি শাসক মারওয়ানের কাছে বলেন, আল্লাহকে ভয় করো এবং তাকে তার ঘরে ফিরিয়ে দাও। এতে বোঝা যায়, তালাক মানে নারীর প্রতি অবহেলা বা চাপ তৈরি করা নয়। ইদ্দত, বাসস্থান এবং পরিবারের ভূমিকা—সবকিছুতে আল্লাহভীতি থাকতে হবে। ফাতিমা বিনত কাইসের ঘটনাকে সামনে আনা হলেও আয়েশা (রাঃ) সতর্ক করেন যে, একটি ঘটনার কথা ধরে সবার জন্য একই সিদ্ধান্ত করা ঠিক নয়। হাদিসটি তালাকপ্রাপ্তা নারীর অধিকারকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে শেখায়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • তালাকের পর নারীর বাসস্থানের বিষয়টি ন্যায়ের সঙ্গে বিবেচনা করতে হয়।
  • আল্লাহভীতি পারিবারিক সিদ্ধান্তের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
  • একটি বিশেষ ঘটনা সব অবস্থার সাধারণ নিয়ম নাও হতে পারে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন