৬৮/৪১. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৫৩২৩ - তালাকপ্রাপ্তা নারীর খাদ্য ও বাসস্থান
ফাতিমা বিনত কায়সের ঘটনা
وَقَوْلِهِ تَعَالَى : ﴾وَاتَّقُوا اللَّهَ رَبَّكُمْ ۖ لَا تُخْرِجُوهُنَّ مِن بُيُوتِهِنَّ وَلَا يَخْرُجْنَ إِلَّا أَن يَأْتِينَ بِفَاحِشَةٍ مُّبَيِّنَةٍ ۚ وَتِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ ۚ وَمَن يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَهُ ۚ لَا تَدْرِي لَعَلَّ اللَّهَ يُحْدِثُ بَعْدَ ذَٰلِكَ أَمْرًا﴿ ﴾أَسْكِنُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ سَكَنتُم مِّن وُجْدِكُمْ وَلَا تُضَارُّوهُنَّ لِتُضَيِّقُوا عَلَيْهِنَّ ۚ وَإِن كُنَّ أُولَاتِ حَمْلٍ فَأَنفِقُوا عَلَيْهِنَّ حَتَّىٰ يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ﴿ إِلَى قَوْلِهِ ﴾بَعْدَ عُسْرٍ يُسْرًا﴿.এবং মহান আল্লাহর বাণী: “তোমরা তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় কর। তাদেরকে তাদের বাসগৃহ থেকে বের করে দিও না, আর তারা নিজেরাও যেন বের হয়ে না যায়, যদি না তারা স্পষ্ট অশ্লীলতায় লিপ্ত হয়। এগুলো আল্লাহর সীমারেখা। যে কেউ আল্লাহর সীমারেখা লঙ্ঘন করে, সে নিজের উপরই যুলুম করে। তোমরা জান না, আল্লাহ হয়তো এরপরও (স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সমঝোতার) কোনো উপায় বের করে দিবেন ... الطَّلَـق... (“ইদ্দতকালে) নারীদেরকে সেভাবেই বসবাস করতে দাও যেভাবে তোমরা বসবাস কর তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী...... আল্লাহ কষ্টের পর আরাম দিবেন।” (সূরা আত-তালাক ৬৫/১-৭)"
তালাকপ্রাপ্তা নারীর অধিকার: খাদ্য ও বাসস্থান নিয়ে সতর্কতা
সহীহ বুখারী : ৫৩২৩
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫৩২৩
مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ بْنِ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّهَا قَالَتْ مَا لِفَاطِمَةَ أَلاَ تَتَّقِي اللهَ يَعْنِي فِي قَوْلِهَا لاَ سُكْنٰى وَلاَ نَفَقَةَ.
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
ফাতিমার (রাঃ) কী হল? সে কেন আল্লাহকে ভয় করছে না অর্থাৎ তার এ কথায় যে, তালাকপ্রাপ্তা নারী (তার স্বামীর থেকে) খাদ্য ও বাসস্থান কিছুই পাবে না।
সহীহ বুখারী হাদিস ৫৩২৩-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় আয়েশা (রাঃ) ফাতিমা বিনত কাইসের কথার ব্যাপারে কঠোর আপত্তি প্রকাশ করেছেন। আলোচ্য বাক্যটি ছিল—তালাকপ্রাপ্তা নারী স্বামীর কাছ থেকে খাদ্য ও বাসস্থান কিছুই পাবে না। আয়েশা (রাঃ) এটাকে আল্লাহভীতির আলোকে দেখেছেন এবং বলেছেন, সে কেন আল্লাহকে ভয় করছে না। হাদিসটির মূল বিষয় তালাকপ্রাপ্তা নারীর অধিকার, ভরণ-পোষণ ও বাসস্থান নিয়ে সতর্কতা। এখান থেকে বোঝা যায়, কোনো মাসআলা বা দাবি মানুষের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেললে তা খুব সাবধানে বলতে হয়। বিশেষ করে নারীর বাসস্থান ও খরচের মতো বিষয়ে একতরফা ভাষা ব্যবহার করলে অন্যের ক্ষতি হতে পারে। তাই এই হাদিস সহজভাবে শেখায়—ধর্মীয় কথা বলার আগে ভয়, সতর্কতা এবং ন্যায়বোধ থাকা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তালাকপ্রাপ্তা নারীর খাদ্য ও বাসস্থানের বিষয়টি হালকা করে বলা উচিত নয়।
- ধর্মীয় কথা বলার সময় আল্লাহভীতি ও সতর্কতা দরকার।
- নারীর অধিকার জড়িত বিষয়ে একতরফা দাবি ক্ষতির কারণ হতে পারে।
