৬৮/৪১. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৫৩২৪ - তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর অধিকার
ফাতিমা বিনত কায়সের ঘটনা
وَقَوْلِهِ تَعَالَى : ﴾وَاتَّقُوا اللَّهَ رَبَّكُمْ ۖ لَا تُخْرِجُوهُنَّ مِن بُيُوتِهِنَّ وَلَا يَخْرُجْنَ إِلَّا أَن يَأْتِينَ بِفَاحِشَةٍ مُّبَيِّنَةٍ ۚ وَتِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ ۚ وَمَن يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَهُ ۚ لَا تَدْرِي لَعَلَّ اللَّهَ يُحْدِثُ بَعْدَ ذَٰلِكَ أَمْرًا﴿ ﴾أَسْكِنُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ سَكَنتُم مِّن وُجْدِكُمْ وَلَا تُضَارُّوهُنَّ لِتُضَيِّقُوا عَلَيْهِنَّ ۚ وَإِن كُنَّ أُولَاتِ حَمْلٍ فَأَنفِقُوا عَلَيْهِنَّ حَتَّىٰ يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ﴿ إِلَى قَوْلِهِ ﴾بَعْدَ عُسْرٍ يُسْرًا﴿.এবং মহান আল্লাহর বাণী: “তোমরা তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় কর। তাদেরকে তাদের বাসগৃহ থেকে বের করে দিও না, আর তারা নিজেরাও যেন বের হয়ে না যায়, যদি না তারা স্পষ্ট অশ্লীলতায় লিপ্ত হয়। এগুলো আল্লাহর সীমারেখা। যে কেউ আল্লাহর সীমারেখা লঙ্ঘন করে, সে নিজের উপরই যুলুম করে। তোমরা জান না, আল্লাহ হয়তো এরপরও (স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সমঝোতার) কোনো উপায় বের করে দিবেন ... الطَّلَـق... (“ইদ্দতকালে) নারীদেরকে সেভাবেই বসবাস করতে দাও যেভাবে তোমরা বসবাস কর তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী...... আল্লাহ কষ্টের পর আরাম দিবেন।” (সূরা আত-তালাক ৬৫/১-৭)"
তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর খাদ্য ও বাসস্থান: আয়েশা (রাঃ)-এর সতর্কতা
সহীহ বুখারী : ৫৩২৪
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫৩২৪
مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ بْنِ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّهَا قَالَتْ مَا لِفَاطِمَةَ أَلاَ تَتَّقِي اللهَ يَعْنِي فِي قَوْلِهَا لاَ سُكْنٰى وَلاَ نَفَقَةَ.
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
ফাতিমার (রাঃ) কী হল? সে কেন আল্লাহকে ভয় করছে না অর্থাৎ তার এ কথায় যে, তালাকপ্রাপ্তা নারী (তার স্বামীর থেকে) খাদ্য ও বাসস্থান কিছুই পাবে না।
সহীহ বুখারী হাদিস ৫৩২৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসটি আগের বর্ণনার মতোই তালাকপ্রাপ্তা নারীর অধিকার নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা দেয়। এখানে বলা হয়েছে, ফাতিমার কথায় ছিল—তালাকপ্রাপ্তা নারী স্বামীর পক্ষ থেকে খাদ্য ও বাসস্থান কিছুই পাবে না। আয়েশা (রাঃ) এতে প্রশ্ন তোলেন এবং আল্লাহভীতির কথা স্মরণ করিয়ে দেন। বিষয়টি শুধু একটি মতের আলোচনা নয়; এর সঙ্গে একজন নারীর থাকা, খাওয়া এবং নিরাপত্তার বাস্তব দিক জড়িত। তাই হাদিসটি শেখায়, তালাকের পর নারীর ভরণ-পোষণ ও বাসস্থান নিয়ে কথা বলতে হলে খুব সাবধানে বলতে হয়। কারও কথাকে এমনভাবে ব্যবহার করা উচিত নয়, যাতে কোনো নারীর অধিকার কমে যায় বা তাকে কষ্টে ফেলা হয়। সহজ ভাষায়, এই হাদিস ন্যায় ও আল্লাহভীতির সঙ্গে কথা বলার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তালাকপ্রাপ্তা নারীর অধিকার নিয়ে সতর্ক ভাষা ব্যবহার করা দরকার।
- আল্লাহভীতি শুধু ইবাদতে নয়, পারিবারিক সিদ্ধান্তেও জরুরি।
- অন্যের অধিকার কমিয়ে দেয় এমন কথা থেকে সাবধান থাকা উচিত।
