৬৮/৪১. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৫৩২৫ - তালাকের পর ঘর ছাড়ার বিশেষ অনুমতি
ফাতিমা বিনত কায়সের ঘটনা
وَقَوْلِهِ تَعَالَى : ﴾وَاتَّقُوا اللَّهَ رَبَّكُمْ ۖ لَا تُخْرِجُوهُنَّ مِن بُيُوتِهِنَّ وَلَا يَخْرُجْنَ إِلَّا أَن يَأْتِينَ بِفَاحِشَةٍ مُّبَيِّنَةٍ ۚ وَتِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ ۚ وَمَن يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَهُ ۚ لَا تَدْرِي لَعَلَّ اللَّهَ يُحْدِثُ بَعْدَ ذَٰلِكَ أَمْرًا﴿ ﴾أَسْكِنُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ سَكَنتُم مِّن وُجْدِكُمْ وَلَا تُضَارُّوهُنَّ لِتُضَيِّقُوا عَلَيْهِنَّ ۚ وَإِن كُنَّ أُولَاتِ حَمْلٍ فَأَنفِقُوا عَلَيْهِنَّ حَتَّىٰ يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ﴿ إِلَى قَوْلِهِ ﴾بَعْدَ عُسْرٍ يُسْرًا﴿.এবং মহান আল্লাহর বাণী: “তোমরা তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় কর। তাদেরকে তাদের বাসগৃহ থেকে বের করে দিও না, আর তারা নিজেরাও যেন বের হয়ে না যায়, যদি না তারা স্পষ্ট অশ্লীলতায় লিপ্ত হয়। এগুলো আল্লাহর সীমারেখা। যে কেউ আল্লাহর সীমারেখা লঙ্ঘন করে, সে নিজের উপরই যুলুম করে। তোমরা জান না, আল্লাহ হয়তো এরপরও (স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সমঝোতার) কোনো উপায় বের করে দিবেন ... الطَّلَـق... (“ইদ্দতকালে) নারীদেরকে সেভাবেই বসবাস করতে দাও যেভাবে তোমরা বসবাস কর তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী...... আল্লাহ কষ্টের পর আরাম দিবেন।” (সূরা আত-তালাক ৬৫/১-৭)"
তালাকপ্রাপ্তা নারীর বাসস্থান: বিশেষ অনুমতি ও সতর্কতা
সহীহ বুখারী : ৫৩২৫
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫৩২৫
عَمْرُو بْنُ عَبَّاسٍ حَدَّثَنَا ابْنُ مَهْدِيٍّ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ بْنِ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِيهِ قَالَ عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ لِعَائِشَةَ أَلَمْ تَرَيْ إِلٰى فُلاَنَةَ بِنْتِ الْحَكَمِ طَلَّقَهَا زَوْجُهَا الْبَتَّةَ فَخَرَجَتْ فَقَالَتْ بِئْسَ مَا صَنَعَتْ قَالَ أَلَمْ تَسْمَعِي فِي قَوْلِ فَاطِمَةَ قَالَتْ أَمَا إِنَّه“ لَيْسَ لَهَا خَيْرٌ فِي ذِكْرِ هٰذَا الْحَدِيثِوَزَادَ ابْنُ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ هِشَامٍ عَنْ أَبِيهِ عَابَتْ عَائِشَةُ أَشَدَّ الْعَيْبِ وَقَالَتْ إِنَّ فَاطِمَةَ كَانَتْ فِي مَكَانٍ وَحْشٍ فَخِيفَ عَلٰى نَاحِيَتِهَا فَلِذ‘لِكَ أَرْخَصَ لَهَا النَّبِيُّ ﷺ.
কাসিম (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রহঃ) 'আয়িশা (রাঃ)- কে জিজ্ঞেস করলঃ আপনি কি জানেন না, হাকামের কন্যা অমুককে তার স্বামী তিন তালাক দিলে, সে (তার পিত্রালয়ে) চলে গিয়েছিল। 'আয়িশা বললেনঃ সে মন্দ কাজ করেছে। ‘উরওয়াহ বললেনঃ আপনি কি ফাতিমার (রাঃ) কথা শোনেননি, তিনি বললেনঃ এ হাদীস বর্ণনায় তার কোন কল্যাণ নেই। ইব্নু আবুয্যিনাদ হিশাম সূত্রে তার (হিশামের) পিতা থেকে আরও বর্ণনা করেন যে, 'আয়িশা (রাঃ) এ কথাকে অত্যন্ত দূষণীয় মনে করেন। তিনি আরও বলেন, ফাতিমা একটা ভীতিকর স্থানে থাকত, তার উপর ভয়ভীতির আশঙ্কা থাকায় নবী (ﷺ) তাকে (স্থান পরিবর্তনের) রুখসত দেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ৫৩২৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে তিন তালাকের পর এক নারীর পিত্রালয়ে চলে যাওয়ার ঘটনা এবং সে বিষয়ে আয়েশা (রাঃ)-এর মন্তব্য এসেছে। উরওয়াহ (রহঃ) যখন ফাতিমার ঘটনার কথা উল্লেখ করেন, তখন আয়েশা (রাঃ) বলেন, এ হাদিস বর্ণনায় তার কল্যাণ নেই। পরে বর্ণনায় এসেছে, ফাতিমা একটি ভীতিকর স্থানে থাকতেন এবং তার নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা ছিল; সেই কারণেই নবী (صلى الله عليه وسلم) তাকে স্থান পরিবর্তনের অনুমতি দেন। মূল শিক্ষা হলো, বিশেষ অবস্থার অনুমতিকে সাধারণ নিয়ম বানানো ঠিক নয়। তালাকপ্রাপ্তা নারীর বাসস্থান, নিরাপত্তা ও ইদ্দত—সব বিষয়ে বাস্তব অবস্থা বুঝে কথা বলা দরকার। হাদিসটি আমাদের শেখায়, কোনো একটি ঘটনা শুনে দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিয়ে কারণ ও সীমা বুঝতে হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিশেষ কারণে দেওয়া অনুমতিকে সব অবস্থার সাধারণ নিয়ম বানানো ঠিক নয়।
- তালাকপ্রাপ্তা নারীর নিরাপত্তা একটি বাস্তব বিবেচ্য বিষয়।
- ইদ্দতের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ঘটনার কারণ বোঝা জরুরি।
