৬৮/৪১. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৫৩২৬ - ইদ্দতে ঘর পরিবর্তনের কারণ
ফাতিমা বিনত কায়সের ঘটনা
وَقَوْلِهِ تَعَالَى : ﴾وَاتَّقُوا اللَّهَ رَبَّكُمْ ۖ لَا تُخْرِجُوهُنَّ مِن بُيُوتِهِنَّ وَلَا يَخْرُجْنَ إِلَّا أَن يَأْتِينَ بِفَاحِشَةٍ مُّبَيِّنَةٍ ۚ وَتِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ ۚ وَمَن يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَهُ ۚ لَا تَدْرِي لَعَلَّ اللَّهَ يُحْدِثُ بَعْدَ ذَٰلِكَ أَمْرًا﴿ ﴾أَسْكِنُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ سَكَنتُم مِّن وُجْدِكُمْ وَلَا تُضَارُّوهُنَّ لِتُضَيِّقُوا عَلَيْهِنَّ ۚ وَإِن كُنَّ أُولَاتِ حَمْلٍ فَأَنفِقُوا عَلَيْهِنَّ حَتَّىٰ يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ﴿ إِلَى قَوْلِهِ ﴾بَعْدَ عُسْرٍ يُسْرًا﴿.এবং মহান আল্লাহর বাণী: “তোমরা তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় কর। তাদেরকে তাদের বাসগৃহ থেকে বের করে দিও না, আর তারা নিজেরাও যেন বের হয়ে না যায়, যদি না তারা স্পষ্ট অশ্লীলতায় লিপ্ত হয়। এগুলো আল্লাহর সীমারেখা। যে কেউ আল্লাহর সীমারেখা লঙ্ঘন করে, সে নিজের উপরই যুলুম করে। তোমরা জান না, আল্লাহ হয়তো এরপরও (স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সমঝোতার) কোনো উপায় বের করে দিবেন ... الطَّلَـق... (“ইদ্দতকালে) নারীদেরকে সেভাবেই বসবাস করতে দাও যেভাবে তোমরা বসবাস কর তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী...... আল্লাহ কষ্টের পর আরাম দিবেন।” (সূরা আত-তালাক ৬৫/১-৭)"
ইদ্দতে ঘর পরিবর্তন: ভয় থাকলে বিশেষ অনুমতির শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৫৩২৬
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫৩২৬
عَمْرُو بْنُ عَبَّاسٍ حَدَّثَنَا ابْنُ مَهْدِيٍّ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ بْنِ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِيهِ قَالَ عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ لِعَائِشَةَ أَلَمْ تَرَيْ إِلٰى فُلاَنَةَ بِنْتِ الْحَكَمِ طَلَّقَهَا زَوْجُهَا الْبَتَّةَ فَخَرَجَتْ فَقَالَتْ بِئْسَ مَا صَنَعَتْ قَالَ أَلَمْ تَسْمَعِي فِي قَوْلِ فَاطِمَةَ قَالَتْ أَمَا إِنَّه“ لَيْسَ لَهَا خَيْرٌ فِي ذِكْرِ هٰذَا الْحَدِيثِوَزَادَ ابْنُ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ هِشَامٍ عَنْ أَبِيهِ عَابَتْ عَائِشَةُ أَشَدَّ الْعَيْبِ وَقَالَتْ إِنَّ فَاطِمَةَ كَانَتْ فِي مَكَانٍ وَحْشٍ فَخِيفَ عَلٰى نَاحِيَتِهَا فَلِذ‘لِكَ أَرْخَصَ لَهَا النَّبِيُّ ﷺ.
কাসিম (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রহঃ) 'আয়িশা (রাঃ)- কে জিজ্ঞেস করলঃ আপনি কি জানেন না, হাকামের কন্যা অমুককে তার স্বামী তিন তালাক দিলে, সে (তার পিত্রালয়ে) চলে গিয়েছিল। 'আয়িশা বললেনঃ সে মন্দ কাজ করেছে। ‘উরওয়াহ বললেনঃ আপনি কি ফাতিমার (রাঃ) কথা শোনেননি, তিনি বললেনঃ এ হাদীস বর্ণনায় তার কোন কল্যাণ নেই। ইব্নু আবুয্যিনাদ হিশাম সূত্রে তার (হিশামের) পিতা থেকে আরও বর্ণনা করেন যে, 'আয়িশা (রাঃ) এ কথাকে অত্যন্ত দূষণীয় মনে করেন। তিনি আরও বলেন, ফাতিমা একটা ভীতিকর স্থানে থাকত, তার উপর ভয়ভীতির আশঙ্কা থাকায় নবী (ﷺ) তাকে (স্থান পরিবর্তনের) রুখসত দেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ৫৩২৬-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় আয়েশা (রাঃ) একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক পরিষ্কার করেছেন। এক নারীর তিন তালাকের পর ঘর ছাড়ার প্রসঙ্গ উঠলে তিনি তা ভালো কাজ বলেননি। পরে তিনি জানান, ফাতিমার অবস্থাটি আলাদা ছিল। তিনি এমন স্থানে থাকতেন যেখানে ভয়ভীতির আশঙ্কা ছিল। তাই নবী (صلى الله عليه وسلم) তাকে স্থান পরিবর্তনের অনুমতি দিয়েছিলেন। হাদিসের মূল বিষয় হলো রুখসত বা বিশেষ অনুমতি। অর্থাৎ কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে দেওয়া অনুমতি সব মানুষের জন্য একইভাবে প্রযোজ্য নাও হতে পারে। তালাকপ্রাপ্তা নারীর ইদ্দত, বাসস্থান ও নিরাপত্তা নিয়ে সিদ্ধান্তে এই পার্থক্য বোঝা দরকার। সহজভাবে বললে, হাদিসটি শেখায়—শরিয়তের কথায় তাড়াহুড়া নয়, কারণ বুঝে সতর্কভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ভয় বা নিরাপত্তার আশঙ্কা থাকলে বিশেষ অনুমতির বিষয় আসতে পারে।
- একজনের ঘটনা সবার জন্য একই নিয়ম নয়—এ কথা বুঝতে হবে।
- ইদ্দত ও বাসস্থান নিয়ে কথা বলার সময় সতর্কতা জরুরি।
