৭০/২৮. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৫৪২৫ - দুশ্চিন্তা থেকে আশ্রয়ের দোয়া ও মদিনার বরকত
হায়স প্রসঙ্গে
দুশ্চিন্তা ও ঋণ থেকে আশ্রয়ের দোয়া: নবীজির শেখানো পথ
সহীহ বুখারী : ৫৪২৫
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫৪২৫
قُتَيْبَةُ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ أَبِي عَمْرٍو مَوْلَى الْمُطَّلِبِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ حَنْطَبٍ أَنَّه“ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يَقُوْلُ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لأَ÷بِي طَلْحَةَ الْتَمِسْ غُلاَمًا مِنْ غِلْمَانِكُمْ يَخْدُمُنِي فَخَرَجَ بِي أَبُو طَلْحَةَ يُرْدِفُنِي وَرَاءَه“فَكُنْتُ أَخْدُمُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ كُلَّمَا نَزَلَ فَكُنْتُ أَسْمَعُه“ يُكْثِرُ أَنْ يَقُوْلَ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَالْبُخْلِ وَالْجُبْنِ وَضَلَعِ الدَّيْنِ وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ فَلَمْ أَزَلْ أَخْدُمُه“ حَتّٰى أَقْبَلْنَا مِنْ خَيْبَرَ وَأَقْبَلَ بِصَفِيَّةَ بِنْتِ حُيَيٍّ قَدْ حَازَهَا فَكُنْتُ أَرَاه“ يُحَوِّي لَهَا وَرَاءَه“ بِعَبَاءَةٍ أَوْ بِكِسَاءٍ ثُمَّ يُرْدِفُهَا وَرَاءَه“ حَتّٰى إِذَا كُنَّا بِالصَّهْبَاءِ صَنَعَ حَيْسًا فِي نِطَعٍ ثُمَّ أَرْسَلَنِي فَدَعَوْتُ رِجَالاً فَأَكَلُوا وَكَانَ ذ‘لِكَ بِنَاءَه“ بِهَا ثُمَّ أَقْبَلَ حَتّٰى إِذَا بَدَا لَه“ أُحُدٌ قَالَ هٰذَا جَبَلٌ يُحِبُّنَا وَنُحِبُّه“ فَلَمَّا أَشْرَفَ عَلَى الْمَدِينَةِ قَالَ اللَّهُمَّ إِنِّي أُحَرِّمُ مَا بَيْنَ جَبَلَيْهَا مِثْلَ مَا حَرَّمَ بِه„ إِبْرَاهِيمُ مَكَّةَ اللَّهُمَّ بَارِكْ لَهُمْ فِي مُدِّهِمْ وَصَاعِهِمْ.
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আবূ ত্বলহাকে বললেনঃ তোমাদের ছেলেদের মধ্য থেকে একটি ছেলে খুঁজে আন, যে আমার খিদমত করবে। আবূ ত্বলহা আমাকেই তাঁর সাওয়ারীর পেছনে বসিয়ে নিয়ে আসলেন। তাই আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর খিদমত করতে থাকলাম। যখনই তিনি কোন মনযিলে অবতরণ করতেন, আমি তাকে প্রায়ই বলতে শুনতাম, আয় আল্লাহ! আমি তোমার কাছে, অস্বস্তি, দুশ্চিন্তা, অক্ষমতা, অলসতা, কৃপণতা, ভীরুতা ঋণের ভার এবং মানুষের আধিপত্য থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আর আমি সর্বদা তাঁর খিদমতে নিয়োজিত ছিলাম।এই অবস্থায় আমরা খাইবার থেকে প্রত্যাবর্তন করলাম। তিনি [রাসূল (ﷺ)] গনীমত হিসাবে প্রাপ্ত সফিয়্যা বিন্ত হুয়ায়কে সঙ্গে নিয়ে ফিরলেন। আমি লক্ষ্য করলাম, তিনি তাঁর সাওয়ার করলেন। এভাবে যখন ‘আম্র সাহ্বা নামক স্থানে হাজির হলাম, তখন তিনি চামড়ার দস্তরখানে হাইস তৈরি করলেন। তারপর তিনি আমাকে পাঠালেন। আমি লোকজনকে দাওয়াত করলাম। (তাঁরা এসে) আহার করল। এই ছিল তাঁর সঙ্গে তাঁর বাসর যাপন।তারপর তিনি এগিয়ে চললেন। ওহুদ পর্বত নজরে পড়ল, তিনি বললেনঃ এ পর্বতটি আমাদের ভালবাসে এবং আমরাও তাকে ভালোবাসি। তারপর যখন মাদীনাহ তাঁর নজরে পড়ল, তখন তিনি বললেনঃ আল্লাহ্! আমি এর দু’ পর্বতের মধ্যবর্তী এলাকাকে হরম (সম্মানিত) বলে ঘোষণা করছি, যেভাবে ইবরাহীম بِهِ মাক্কাহকে হরম (সম্মানিত) বলে ঘোষণা করেছিলেন। হ্যাঁ আল্লাহ্! এর অধিবাসীদের মুদ্ ও সা‘ এর মধ্যে বারাকাত দাও।
[১] অনেক ভাবতে পারেন যে, “ আল্লাহর রসূল (ﷺ)-এর কথা ‘উহুদ পাহাড় আমাদের ভালবাসে- এ আবার কেমন কথা? এই মাটি, পাথর ঘরবাড়ি এদের আবার ভালবাসা, ঘৃণা, হাসি-কান্না আছে নাকি? জবাবে বলা যায় অবশ্যই আছে।আল্লাহু সুবহানাহু ওয়া তা’আলা আল-কুরআনে ঘোষণা করেছেনঃ আকাশমন্ডলীতে আর যমীনে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর মহানত্ব বর্ণনা করছে। এবং এমন কিছু নেই যা তাঁর মহানত্ব ও পবিত্রতা আর মহিমা বর্ণনা করে না; কিন্তু তাদের পবিত্রতা ও মহানত্ব বর্ণনা তোমরা অনুধাবন করতে পার না; নিশ্চয়ই তিনি সহনশীল, ক্ষমাপরায়ণ। (সূরা ইসরা ১৭:৪৪)এ আয়াত প্রমাণ করছে যে, এমন কোন কিছু নেই [তা শুকনা হোক আর কাঁচা হোক] যা আল্লাহর তাসবীহ্ পাঠ করে না। আমরা পশু, পাখি, কীট পতঙ্গের ভাষা বুঝতে পারি না, কিন্তু আল্লাহ তা’আলা এ সবগুলোর ভাষা বুঝার ক্ষমতা দিয়েছিলেন সোলায়মান (আঃ)-কে। হুদহুদ পাখি তাঁর নির্দেশে সাবার রাণী বিলকিসের নিকট তাঁর পত্র প্রত্যর্পণ করেছিল। পিঁপড়াদের কথা শুনে সোলায়মান (আঃ) হেসেছিলেন। জড় পদার্থের আবেগ অনুভূতির আরো একটি বড় প্রমাণ এই যে, আমাদের প্রিয় নবী (ﷺ)-এর জন্য একটি নতুন মিম্বর নির্মিত হলে সেটির উপর খুতবা দেয়ার জন্য দাঁড়ালেন। তখন সেই খুঁটিটি ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগল যাতে হেলান দিয়ে রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এতদিন খুতবা দিয়ে আসছিলেন। দুনিয়াতে আমরা মুখ দিয়ে কথা বলছি, কিন্তু হাত, পা, কান চোখ কথা বলতে পারে না। কিয়ামতের দিনে আল্লাহর নির্দেশে আমাদের এই হাত-পাগুলোই কথা বলবে দুনিয়ায় আমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে।
সহীহ বুখারী হাদিস ৫৪২৫-এর সারসংক্ষেপ
এই দীর্ঘ হাদিসে আনাস (রাঃ) নবী صلى الله عليه وسلم-এর খিদমতের স্মৃতি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم প্রায়ই আল্লাহর কাছে অস্বস্তি, দুশ্চিন্তা, অক্ষমতা, অলসতা, কৃপণতা, ভীরুতা, ঋণের ভার এবং মানুষের আধিপত্য থেকে আশ্রয় চাইতেন। এরপর খায়বার থেকে ফেরার পথে সাফিয়া (রাঃ)-এর সঙ্গে তাঁর বাসর, লোকদের দাওয়াত দিয়ে খাওয়ানো, উহুদ পর্বত সম্পর্কে ভালোবাসার কথা এবং মদিনাকে সম্মানিত ঘোষণা করার দোয়া এসেছে। এই হাদিসে ব্যক্তিগত দোয়া, মানুষের সঙ্গে সহজ আচরণ, দাওয়াতের সরলতা এবং মদিনার প্রতি নবী صلى الله عليه وسلم-এর ভালোবাসা একসঙ্গে দেখা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দুশ্চিন্তা, অলসতা ও ঋণের ভার থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া উচিত।
- নবী صلى الله عليه وسلم সাধারণ খাবার দিয়ে মানুষকে দাওয়াত করেছেন।
- উহুদ ও মদিনার প্রতি নবী صلى الله عليه وسلم-এর ভালোবাসা এই বর্ণনায় এসেছে।
- মদিনার মাপ-জোখ ও খাদ্যে বরকতের জন্য দোয়া করা হয়েছে।
