৯/১৩. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৫৪৮ - আসর সালাত আগেভাগে আদায়ের প্রমাণ
আসরের ওয়াক্ত।
আসর সালাতের সময়: নবী صلى الله عليه وسلم-এর সঙ্গে পড়ে অন্যদের সালাতে পাওয়া
সহীহ বুখারী : ৫৪৮
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫৪৮
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كُنَّا نُصَلِّي الْعَصْرَ ثُمَّ يَخْرُجُ الإِنْسَانُ إِلَى بَنِي عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ فَنَجِدُهُمْ يُصَلُّونَ الْعَصْرَ.
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সাথে আসরের সালাত আদায় করতাম। সালাতের পর লোকেরা ‘আমর ইনবু আওফ গোত্রের মহল্লায় গিয়ে তাদেরকে সালাত আদায় করা অবস্থায় পেতো।
[১] আধুনিক প্রকাশনীর ৫১৫ নং হাদীসের টীকায় কি একথা বুঝাতে চেয়েছেন যে, তারা আসরের সালাত দেরী করে আদায় করতেন বলেই আমাদের দেশে আসরের সালাত দেরীতে আদায় করা হয়। অথচ এটা উত্তম সময় ছিল না। কারণ উত্তম সময় হল দু’মাইল হাঁটার পূর্বে আদায়কৃত সালাতের সময়। আর আসরের ওয়াক্ত সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত বহাল থাকে, তাই বলে তা উত্তম সময় নয়।
সহীহ বুখারী হাদিস ৫৪৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আসর সালাতের সময় সম্পর্কে একটি বাস্তব ঘটনা এসেছে। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বলেন, তাঁরা আল্লাহর রসূল صلى الله عليه وسلم-এর সঙ্গে আসরের সালাত আদায় করতেন। এরপর কেউ আমর ইবনু আওফ গোত্রের মহল্লায় গেলে, তাদেরকে আসর সালাত আদায়রত অবস্থায় পেত। এই বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, নবী صلى الله عليه وسلم-এর সঙ্গে আসর সালাত এমন সময়ে আদায় করা হতো যে, সালাত শেষে অন্য এলাকায় যাওয়ার মতো সময় থাকত এবং সেখানে গিয়ে অন্যদের আসররত অবস্থায় পাওয়া যেত। হাদিসটি আসর নামাজের সময় নিয়ে খুব সহজ একটি চিত্র দেয়। এখানে কোনো অতিরিক্ত বিধান বলা হয়নি; শুধু সময়ের বাস্তব অবস্থা তুলে ধরা হয়েছে। তাই মূল শিক্ষা হলো, আসর সালাত সময়মতো আদায় করা এবং নবী صلى الله عليه وسلم-এর সালাতের সময় সম্পর্কে সাহাবীদের সরাসরি অভিজ্ঞতা জানা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সাহাবীরা নবী صلى الله عليه وسلم-এর সঙ্গে আসর সালাত আদায় করতেন।
- সালাতের পর অন্য এলাকায় গিয়ে মানুষকে আসররত অবস্থায় পাওয়া যেত।
- এই বর্ণনা আসর সালাতের সময়ের বাস্তব চিত্র দেয়।
- সাহাবীদের অভিজ্ঞতা নববী সালাতের সময় বুঝতে সাহায্য করে।
