১০/৪৮. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৬৮৪ - সালাতে তাসবীহ ও তালি
কোন ব্যক্তি লোকদের ইমামত করার জন্য অগ্রসর হলে যদি পূর্ব (নির্ধারিত) ইমাম এসে যান তাহলে তিনি পিছে সরে আসুন বা না আসুন উভয় অবস্থায় তাঁর সালাত আদায় হয়ে যাবে।
فِيهِ عَائِشَةُ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ.এ মর্মে ‘আয়িশা (রাঃ) হতে একটি হাদীস বর্ণিত আছে।"
সালাতে ভুল বা প্রয়োজন হলে সুবহানাল্লাহ বলার শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৬৮৪
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৬৮৪
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ أَبِي حَازِمِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ ذَهَبَ إِلَى بَنِي عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ لِيُصْلِحَ بَيْنَهُمْ فَحَانَتِ الصَّلاَةُ فَجَاءَ الْمُؤَذِّنُ إِلَى أَبِي بَكْرٍ فَقَالَ أَتُصَلِّي لِلنَّاسِ فَأُقِيمَ قَالَ نَعَمْ. فَصَلَّى أَبُو بَكْرٍ، فَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَالنَّاسُ فِي الصَّلاَةِ، فَتَخَلَّصَ حَتَّى وَقَفَ فِي الصَّفِّ، فَصَفَّقَ النَّاسُ ـ وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ لاَ يَلْتَفِتُ فِي صَلاَتِهِ ـ فَلَمَّا أَكْثَرَ النَّاسُ التَّصْفِيقَ الْتَفَتَ فَرَأَى رَسُولَ اللَّهِ ﷺ، فَأَشَارَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ أَنِ امْكُثْ مَكَانَكَ، فَرَفَعَ أَبُو بَكْرٍ ـ رضى الله عنه ـ يَدَيْهِ، فَحَمِدَ اللَّهَ عَلَى مَا أَمَرَهُ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مِنْ ذَلِكَ، ثُمَّ اسْتَأْخَرَ أَبُو بَكْرٍ حَتَّى اسْتَوَى فِي الصَّفِّ، وَتَقَدَّمَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَصَلَّى، فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ «يَا أَبَا بَكْرٍ مَا مَنَعَكَ أَنْ تَثْبُتَ إِذْ أَمَرْتُكَ».فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ مَا كَانَ لاِبْنِ أَبِي قُحَافَةَ أَنْ يُصَلِّيَ بَيْنَ يَدَىْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «مَا لِي رَأَيْتُكُمْ أَكْثَرْتُمُ التَّصْفِيقَ مَنْ رَابَهُ شَىْءٌ فِي صَلاَتِهِ فَلْيُسَبِّحْ، فَإِنَّهُ إِذَا سَبَّحَ الْتُفِتَ إِلَيْهِ، وَإِنَّمَا التَّصْفِيقُ لِلنِّسَاءِ ".
সাহল ইবনু সা'দ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমর ইব্নু আওফ গোত্রের এক বিবাদ মীমাংসার জন্য সেখানে যান। ইতিমধ্যে (আসরের) সালাতের সময় হয়ে গেলে, মুয়াজ্জিন আবূ বকর (রাঃ)-এর নিকট এসে বললেন, আপনি কি লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে নেবেন? তা হলে ইক্বামাত দেই? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আবূ বকর (রাঃ) সালাত আরম্ভ করলেন।লোকেরা সালাতরত অবস্থাতেই আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আসলেন এবং তিনি সারিগুলো ভেদ করে প্রথম সারিতে গিয়ে দাঁড়ালেন। তখন সাহাবীগণ হাতে তালি দিতে লাগলেন। আবূ বকর (রাঃ) সালাতে আর কোন দিকে তাকাতেন না। কিন্তু সাহাবীগণ যখন অধিক করে হাতে তালি দিতে লাগলেন, তখন তিনি তাকালেন এবং আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে দেখতে পেলেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাঁর প্রতি ইঙ্গিত করলেন- নিজের জায়গায় থাক। তখন আবূ বকর (রাঃ) দু’হাত উঠিয়ে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নির্দেশের জন্য আল্লাহর প্রশংসা করে পিছিয়ে গেলেন এবং কাতারের বরাবর দাঁড়ালেন। আর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সামনে এগিয়ে সালাত আদায় করলেন।সালাত শেষ করে তিনি বললেন, হে আবূ বক্র! আমি তোমাকে নির্দেশ দেয়ার পর কিসে তোমাকে বাধা দিয়েছিল? আবূ বকর (রাঃ) বললেন, আবূ কুহাফার পুত্রের জন্যে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এর সামনে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করা শোভনীয় নয়। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ আমি তোমাদের অধিক হারে তালি দিতে দেখলাম। কারণ কী? শোন! সালাতের কারো কিছু ঘটলে সুবহানাল্লাহ বলবে। সুবহানাল্লাহ্ বললেই তার প্রতি দৃষ্টি দেয়া হবে। আর হাতে তালি দেয়া তো মহিলাদের জন্য।
সহীহ বুখারী হাদিস ৬৮৪-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: সালাতের আদব। এই হাদিসে নবী صلى الله عليه وسلم আমর ইবন আওফ গোত্রের বিবাদ মীমাংসার জন্য যান। সালাতের সময় হলে আবু বকর রাঃ ইমামত শুরু করেন। পরে নবী صلى الله عليه وسلم এসে প্রথম সারিতে দাঁড়ান। সাহাবীরা আবু বকর রাঃ-কে জানাতে হাতে তালি দিতে থাকেন। আবু বকর রাঃ সাধারণত সালাতে এদিক-সেদিক তাকাতেন না, কিন্তু বেশি তালি শুনে তাকান এবং নবী صلى الله عليه وسلم-কে দেখেন। নবী صلى الله عليه وسلم তাঁকে জায়গায় থাকতে ইঙ্গিত করেন। আবু বকর রাঃ আল্লাহর প্রশংসা করে পিছিয়ে যান, আর নবী صلى الله عليه وسلم সামনে গিয়ে সালাত পড়ান। সালাত শেষে নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, সালাতে কারো কিছু ঘটলে সুবহানাল্লাহ বলবে। এতে দৃষ্টি দেওয়া হবে। হাতে তালি দেওয়া নারীদের জন্য। এই হাদিস সালাতের ভেতরের শৃঙ্খলা শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাতে প্রয়োজন হলে পুরুষরা সুবহানাল্লাহ বলে সতর্ক করবে।
- আবু বকর রাঃ নবী صلى الله عليه وسلم-এর প্রতি গভীর আদব দেখিয়েছেন।
- সালাতের মধ্যে অযথা তালি দেওয়া পুরুষদের জন্য নির্দেশিত পদ্ধতি নয়।
- জামাআতে ইমাম ও মুক্তাদির মধ্যে শৃঙ্খলা থাকা দরকার।
