১০/৬৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৭০৯ - শিশুর কান্নায় মায়ের উদ্বেগ
শিশুর কান্নাকাটির কারণে সালাত সংক্ষেপ করা।
শিশুর কান্না ও মায়ের উদ্বেগ: সালাতে দয়ার নববী শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৭০৯
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৭০৯
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، أَنَّ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، حَدَّثَهُ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ " إِنِّي لأَدْخُلُ فِي الصَّلاَةِ وَأَنَا أُرِيدُ إِطَالَتَهَا، فَأَسْمَعُ بُكَاءَ الصَّبِيِّ، فَأَتَجَوَّزُ فِي صَلاَتِي مِمَّا أَعْلَمُ مِنْ شِدَّةِ وَجْدِ أُمِّهِ مِنْ بُكَائِهِ».
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আমি দীর্ঘ করার ইচ্ছা নিয়ে সালাত শুরু করি। কিন্তু পরে শিশুর কান্না শুনে আমার সালাত সংক্ষেপ করে ফেলি। কেননা, শিশু কাঁদলে মায়ের মন যে খুবই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে তা আমি জানি।
সহীহ বুখারী হাদিস ৭০৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) নিজেই তাঁর একটি আমলের কারণ বলেছেন। তিনি সালাত শুরু করতেন দীর্ঘ করার ইচ্ছা নিয়ে। কিন্তু শিশুর কান্না শুনলে সালাত সংক্ষেপ করে ফেলতেন। কারণ তিনি জানতেন, শিশু কাঁদলে মায়ের মন খুব উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। এই কথা থেকে বোঝা যায়, ইমামতি শুধু কিরাত পড়া বা রুকু-সিজদা করানো নয়; ইমামকে মানুষের অবস্থা বুঝতে হয়। একজন মা যখন শিশুর কান্না শুনেন, তখন তাঁর মন সালাতের মধ্যেও ব্যাকুল হতে পারে। নবী (صلى الله عليه وسلم) এই মানবিক দিকটি গুরুত্ব দিয়েছেন। তাই জামা‘আতের সালাতে সহজতা, সহমর্মিতা ও পূর্ণতা একসঙ্গে থাকা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইমাম মানুষের কষ্ট বুঝে সালাত সংক্ষেপ করতে পারেন।
- শিশুর কান্না মায়ের মনে উদ্বেগ সৃষ্টি করে—এ বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
- সালাতে দীর্ঘ করার ইচ্ছা থাকলেও পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার।
- দয়া ও সহমর্মিতা নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর ইমামতির বড় বৈশিষ্ট্য।
