১০/৬৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৭০৮ - নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর হালকা ও পূর্ণ সালাত
শিশুর কান্নাকাটির কারণে সালাত সংক্ষেপ করা।
হালকা কিন্তু পূর্ণ সালাত: নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর ইমামতির দয়ার শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৭০৮
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৭০৮
حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ، قَالَ حَدَّثَنَا شَرِيكُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ مَا صَلَّيْتُ وَرَاءَ إِمَامٍ قَطُّ أَخَفَّ صَلاَةً وَلاَ أَتَمَّ مِنَ النَّبِيِّ ﷺ، وَإِنْ كَانَ لَيَسْمَعُ بُكَاءَ الصَّبِيِّ فَيُخَفِّفُ مَخَافَةَ أَنْ تُفْتَنَ أُمُّهُ.
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি নবী (ﷺ)-এর চেয়ে সংক্ষিপ্ত এবং পূর্ণাঙ্গ সালাত আর কোন ইমামের পিছনে আদায় করিনি। আর তা এজন্য যে, তিনি শিশুর কান্না শুনতে পেতেন এবং তার মায়ের ফিত্নায় পড়ার আশঙ্কায় সংক্ষেপ করতেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ৭০৮-এর সারসংক্ষেপ
আনাস (রাঃ) বলেন, তিনি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর চেয়ে সংক্ষিপ্ত ও পূর্ণাঙ্গ সালাত কোনো ইমামের পিছনে আদায় করেননি। এই কথার মধ্যে সালাতের দুটি দিক আছে—সহজতা এবং পূর্ণতা। নবী (صلى الله عليه وسلم) সালাতকে এমন করতেন, যাতে মানুষ কষ্টে না পড়ে, কিন্তু সালাতের রুকু, সিজদা ও আদবও ঠিক থাকে। হাদিসে আরও এসেছে, তিনি শিশুর কান্না শুনলে সালাত সংক্ষেপ করতেন, কারণ শিশুর মায়ের ফিতনায় পড়ার আশঙ্কা ছিল। এখানে ফিতনা বলতে মায়ের মন অস্থির হয়ে যাওয়া বা কষ্টে পড়ার বিষয় বোঝা যায়, যা হাদিসের ভাষা থেকেই বোঝা যায়। তাই ইমামের জন্য বড় শিক্ষা হলো, সালাতকে সুন্দর ও পূর্ণ রাখা, তবে মানুষের অবস্থাও দেখা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাত হালকা হলেও তা পূর্ণাঙ্গ হওয়া দরকার।
- শিশুর কান্না মায়ের মনে কষ্ট ও উদ্বেগ আনতে পারে।
- ইমামের সালাতে দয়া ও বাস্তবতা বিবেচনা থাকা উচিত।
- নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর আদর্শ হলো সহজ কিন্তু যত্নপূর্ণ সালাত।
