১১/২৯. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৯২৩ - অমুখাপেক্ষিতা ও বণ্টনের হিকমত
খুতবায় আল্লাহর হামদের পর ‘আম্মা বাদু’ বলা।
رَوَاهُ عِكْرِمَةُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ‘ইকরিমা (রহঃ) ইবন ‘আব্বাস (রাঃ)-এর সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন।"
অমুখাপেক্ষিতা: বণ্টন, ধৈর্য ও অন্তরের সমৃদ্ধির শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৯২৩
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৯২৩
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَعْمَرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنْ جَرِيرِ بْنِ حَازِمٍ، قَالَ سَمِعْتُ الْحَسَنَ، يَقُولُ حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ تَغْلِبَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ أُتِيَ بِمَالٍ أَوْ سَبْىٍ فَقَسَمَهُ، فَأَعْطَى رِجَالاً وَتَرَكَ رِجَالاً فَبَلَغَهُ أَنَّ الَّذِينَ تَرَكَ عَتَبُوا، فَحَمِدَ اللَّهَ ثُمَّ أَثْنَى عَلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ " أَمَّا بَعْدُ، فَوَاللَّهِ إِنِّي لأُعْطِي الرَّجُلَ، وَأَدَعُ الرَّجُلَ، وَالَّذِي أَدَعُ أَحَبُّ إِلَىَّ مِنَ الَّذِي أُعْطِي وَلَكِنْ أُعْطِي أَقْوَامًا لِمَا أَرَى فِي قُلُوبِهِمْ مِنَ الْجَزَعِ وَالْهَلَعِ، وَأَكِلُ أَقْوَامًا إِلَى مَا جَعَلَ اللَّهُ فِي قُلُوبِهِمْ مِنَ الْغِنَى وَالْخَيْرِ، فِيهِمْ عَمْرُو بْنُ تَغْلِبَ». فَوَاللَّهِ مَا أُحِبُّ أَنَّ لِي بِكَلِمَةِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ حُمْرَ النَّعَمِ.تَابَعَهُ يُونُسُ.
‘আম্র ইব্নু তাগলিব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)-এর নিকট কিছু মাল বা কিছু সংখ্যক যুদ্ধবন্দী উপস্থিত করা হলে তিনি তা বণ্টন করে দিলেন। বণ্টনের সময় কিছু লোককে দিলেন এবং কিছু লোককে বাদ দিলেন। অতঃপর তাঁর নিকট সংবাদ পৌঁছলো যে, যাদের তিনি দেননি, তারা অসন্তুষ্ট হয়েছে।তখন আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) আল্লাহ্র প্রশংসা করলেন ও তাঁর মহিমা বর্ণনা করলেন, অতঃপর বললেনঃ ‘আম্মা বা‘দ। আল্লাহ্র শপথ! আমি কোন লোককে দেই আর কোন লোককে দেই না। যাকে আমি দেই না সে, যাকে আমি দেই তাঁর চেয়ে আমার নিকট অধিক প্রিয়। তবে আমি এমন লোকদের দেই যাদের অন্তরে অধৈর্য ও মালের প্রতি লিপ্সা দেখতে পাই; আর কিছু লোককে আল্লাহ্ যাদের অন্তরে অমুখাপেক্ষিতা ও কল্যাণ রেখেছেন, তাদের সে অবস্থার উপর ন্যস্ত করি। তাদের মধ্যে আম্র ইব্নু তাগলিব একজন। বর্ণনাকারী ‘আম্র ইব্নু তাগলিব (রাঃ) বলেন, আল্লাহ্র শপথ! আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)-এর এ বাণীর পরিবর্তে আমি লাল উটও [১] পছন্দ করি না।
[১] তৎকালীন আরবের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ।
সহীহ বুখারী হাদিস ৯২৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো অমুখাপেক্ষিতা ও বণ্টনের হিকমত। নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে কিছু মাল বা বন্দী এলে তিনি কিছু মানুষকে দিলেন, কিছু মানুষকে দিলেন না। যারা পায়নি, তাদের কারও অসন্তোষের কথা পৌঁছালে তিনি আল্লাহর প্রশংসা করে ব্যাখ্যা দিলেন। তিনি জানালেন, যাকে দেন না, সে কখনও তাঁর কাছে বেশি প্রিয়ও হতে পারে। তিনি কিছু লোককে দেন, কারণ তাদের অন্তরে অধৈর্য ও মালের প্রতি টান দেখা যায়। আর যাদের অন্তরে আল্লাহ অমুখাপেক্ষিতা ও কল্যাণ রেখেছেন, তাদের সে অবস্থার উপর ছেড়ে দেন। আমর ইবনু তাগলিব (রাঃ) এই প্রশংসাকে এত মূল্যবান মনে করেছিলেন যে, এর বদলে লাল উটও চাইতেন না। এই হাদিস আমাদের শেখায়, সম্পদ পাওয়া মানেই আল্লাহর কাছে বেশি মর্যাদা নয়। অন্তরের ধৈর্য, সন্তুষ্টি ও ভরসা বড় সম্পদ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সম্পদ পাওয়া বা না পাওয়া মানুষের প্রকৃত মর্যাদার চূড়ান্ত মাপকাঠি নয়।
- অন্তরের অমুখাপেক্ষিতা আল্লাহর দেওয়া বড় কল্যাণ।
- নেতৃত্বে বণ্টনের পেছনে কখনও গভীর বিবেচনা থাকতে পারে।
- প্রশংসা বা স্বীকৃতি কখনও বস্তুগত সম্পদের চেয়েও মূল্যবান মনে হতে পারে।
