১১/২৯. অধ্যায়ঃ

সহীহ বুখারী হাদিস ৯২৪ - রাতের সালাতে সহজতার শিক্ষা

খুতবায় আল্লাহর হামদের পর ‘আম্মা বাদু’ বলা।

رَوَاهُ عِكْرِمَةُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ‘ইকরিমা (রহঃ) ইবন ‘আব্বাস (রাঃ)-এর সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন।"

রাতের সালাত ও উম্মতের প্রতি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সহজতার দয়া

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৯২৪

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ، أَنَّ عَائِشَةَ، أَخْبَرَتْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ خَرَجَ ذَاتَ لَيْلَةٍ مِنْ جَوْفِ اللَّيْلِ، فَصَلَّى فِي الْمَسْجِدِ، فَصَلَّى رِجَالٌ بِصَلاَتِهِ فَأَصْبَحَ النَّاسُ فَتَحَدَّثُوا، فَاجْتَمَعَ أَكْثَرُ مِنْهُمْ فَصَلَّوْا مَعَهُ، فَأَصْبَحَ النَّاسُ فَتَحَدَّثُوا فَكَثُرَ أَهْلُ الْمَسْجِدِ مِنَ اللَّيْلَةِ الثَّالِثَةِ، فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَصَلَّوْا بِصَلاَتِهِ، فَلَمَّا كَانَتِ اللَّيْلَةُ الرَّابِعَةُ عَجَزَ الْمَسْجِدُ عَنْ أَهْلِهِ حَتَّى خَرَجَ لِصَلاَةِ الصُّبْحِ، فَلَمَّا قَضَى الْفَجْرَ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ، فَتَشَهَّدَ ثُمَّ قَالَ " أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّهُ لَمْ يَخْفَ عَلَىَّ مَكَانُكُمْ، لَكِنِّي خَشِيتُ أَنْ تُفْرَضَ عَلَيْكُمْ فَتَعْجِزُوا عَنْهَا».تَابَعَهُ يُونُسُ.

'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ) কোন এক রাতের মধ্যভাগে বের হলেন এবং মসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করলেন। তাঁর সঙ্গে সাহাবীগণও সালাত আদায় করলেন, সকালে তাঁরা এ নিয়ে আলোচনা করলেন। ফলে (দ্বিতীয় রাতে) এর চেয়ে অধিক সংখ্যক সাহাবা একত্রিত হলেন এবং তাঁর সঙ্গে সালাত আদায় করলেন। পরের দিন সকালেও তাঁরা এ সম্পর্কে আলোচনা করলেন। ফলে তৃতীয় রাতে মসজিদে লোকসংখ্যা অত্যধিক বৃদ্ধি পেল। আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ) বের হলেন এবং সাহাবীগণ তাঁর সঙ্গে সালাত আদায় করলেন। চতুর্থ রাতে মসজিদে মুসল্লীগণের স্থান সংকুলান হচ্ছিল না।অবশেষে তিনি ফজরের সালাতের জন্য বের হলেন এবং ফজরের সালাত শেষ করে লোকদের দিকে ফিরলেন। অতঃপর আল্লাহ্‌র হামদ ও সানা বর্ণনা করলেন। অতঃপর বললেনঃ আম্‌মা বা’দ (তারপর বক্তব্য এই যে) এখানে তোমাদের উপস্থিতি আমার নিকট গোপন ছিল না, কিন্তু আমার আশংকা ছিল, তা তোমাদের জন্য ফরজ করে দেয়া হয় আর তোমরা তা আদায় করতে অপারগ হয়ে পড়।

সহীহ বুখারী হাদিস ৯২৪-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসের মূল বিষয় হলো রাতের সালাত ও উম্মতের জন্য সহজতা। নবী (صلى الله عليه وسلم) এক রাতে মসজিদে সালাত আদায় করলেন। সাহাবীরা তাঁর সঙ্গে সালাত আদায় করলেন। পরদিন মানুষ এ কথা আলোচনা করল, ফলে আরও বেশি মানুষ এল। তৃতীয় রাতে লোকসংখ্যা আরও বেড়ে গেল। চতুর্থ রাতে মসজিদ ভরে গেল, কিন্তু নবী (صلى الله عليه وسلم) ফজরের আগে বের হলেন না। ফজরের সালাত শেষে তিনি বললেন, তাদের উপস্থিতি তাঁর অজানা ছিল না; বরং তিনি ভয় করেছিলেন, এই সালাত ফরজ হয়ে যেতে পারে, আর তারা তা আদায় করতে অপারগ হয়ে পড়তে পারে। এখানে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর দয়া ও দূরদৃষ্টি দেখা যায়। তিনি ইবাদতের ভালোবাসা শেখালেন, আবার উম্মতের সক্ষমতার কথাও ভাবলেন। তাই নফল ইবাদতে আগ্রহ ভালো, কিন্তু নিজের সামর্থ্য ও স্থায়িত্বও গুরুত্বপূর্ণ।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • রাতের সালাত একটি মূল্যবান ইবাদত, তবে তা সামর্থ্য অনুযায়ী করা দরকার।
  • নবী (صلى الله عليه وسلم) উম্মতের কষ্টের আশঙ্কা করতেন।
  • ইবাদতে আগ্রহ থাকা ভালো, কিন্তু স্থায়ীভাবে চালিয়ে যাওয়ার শক্তিও বিবেচ্য।
  • নেতার উচিত অনুসারীদের সক্ষমতা ও কষ্টের দিক দেখা।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন