১১/৩৯. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৯৩৭ - জুমার পর সুন্নত সালাত
জুমার (ফরজ সালাতের) পূর্বে ও পরে সালাত আদায় করা।
জুমার পর দুই রাকাত সালাত: নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর ঘরের আমল
সহীহ বুখারী : ৯৩৭
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৯৩৭
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ كَانَ يُصَلِّي قَبْلَ الظُّهْرِ رَكْعَتَيْنِ، وَبَعْدَهَا رَكْعَتَيْنِ، وَبَعْدَ الْمَغْرِبِ رَكْعَتَيْنِ فِي بَيْتِهِ، وَبَعْدَ الْعِشَاءِ رَكْعَتَيْنِ وَكَانَ لاَ يُصَلِّي بَعْدَ الْجُمُعَةِ حَتَّى يَنْصَرِفَ فَيُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ.
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) যুহরের পূর্বে দু’ রাক’আত ও পরে দু’ রাক’আত, মাগরিবের পর নিজের ঘরে দু’ রাক’আত এবং ‘ইশার পর দু’ রাক’আত সালাত আদায় করতেন। আর জুমু’আর দিন নিজের ঘরে ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত সালাত আদায় করতেন না। (ঘরে গিয়ে) দু’ রাক’আত সালাত আদায় করতেন।
[১] আধুনিক প্রকাশনীর বুখারীর ৮৮৪ নং হাদীসের টীকায় লিখেছেন : জুমু’আর আগে ও পরে ৪/২ রাক’আত সুন্নাত পড়া বিশুদ্ধতর। কিন্তু জুমু’আর পূর্বে দু’রাকআত তাহিয়াতুল মসজিদ ব্যতীত চার রাক’আত বলে নির্দিষ্ট করে কোন সংখ্যার সালাত সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়। বরং এ মর্মে বর্ণিত হাদীসগুলো বাতিল ও অগ্রহণযোগ্য।
সহীহ বুখারী হাদিস ৯৩৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো জুমার পর সুন্নত সালাত। আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) জানান, নবী (صلى الله عليه وسلم) যুহরের আগে দুই রাকাত ও পরে দুই রাকাত, মাগরিবের পর ঘরে দুই রাকাত এবং ইশার পর দুই রাকাত সালাত আদায় করতেন। আর জুমার দিন ঘরে ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত সালাত আদায় করতেন না; ঘরে গিয়ে দুই রাকাত পড়তেন। এই বর্ণনায় নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নফল সালাতের ধারাবাহিকতা দেখা যায়। বিশেষ করে জুমার পর ঘরে গিয়ে দুই রাকাত পড়ার কথা স্পষ্ট এসেছে। এতে ঘরে নফল সালাতের একটি সুন্দর দিক বোঝা যায়। জুমার নামাজ শেষ হলেই ইবাদতের সম্পর্ক শেষ নয়; বরং ঘরেও সালাতের পরিবেশ রাখা যায়। পরিবার ও ঘরকে ইবাদতের আলোয় রাখার শিক্ষাও এতে পাওয়া যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী (صلى الله عليه وسلم) জুমার পর ঘরে গিয়ে দুই রাকাত সালাত আদায় করতেন।
- নফল সালাত নিয়মিত আদায়ের একটি সুন্দর দৃষ্টান্ত এই হাদিসে আছে।
- ঘরেও সালাত আদায়ের পরিবেশ রাখা ভালো।
- জুমার ফরজের পরও ইবাদতের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা যায়।
