১১/৪০. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৯৩৯ - জুমার পর কায়লুলা ও আহার
মহান আল্লাহর বাণী : “অতঃপর যখন সালাত সমাপ্ত হবে তখন তোমরা যমীনে ছড়িয়ে পড়বে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ তালাশ করবে।” (সূরা জুমা ৬২/১০)
জুমার পর কায়লুলা: সালাতের পর বিশ্রাম ও আহারের সহজ রীতি
সহীহ বুখারী : ৯৩৯
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৯৩৯
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ سَهْلٍ، بِهَذَا وَقَالَ مَا كُنَّا نَقِيلُ وَلاَ نَتَغَدَّى إِلاَّ بَعْدَ الْجُمُعَةِ.
সাহল (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি আরো বলেছেন, জুমু’আ (সালাতের) পরই আমরা কায়লূলাহ (দুপুরের শয়ন ও হাল্কা নিদ্রা) এবং দুপুরের আহার্য গ্রহণ করতাম।
সহীহ বুখারী হাদিস ৯৩৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো জুমার পর কায়লুলা ও আহার। সাহল (রাঃ) বলেন, তাঁরা জুমার নামাজের পরই কায়লুলা করতেন এবং দুপুরের খাবার গ্রহণ করতেন। এই বর্ণনায় সাহাবীদের দৈনন্দিন জীবনের একটি সহজ ছবি দেখা যায়। জুমার দিন তাদের প্রধান মনোযোগ ছিল সালাত ও খুতবা। এরপর তারা বিশ্রাম ও আহারের দিকে যেতেন। কায়লুলা মানে দিনের বেলায় কিছু সময় বিশ্রাম বা হালকা ঘুম। হাদিসটি কোনো কঠিন নির্দেশের ভাষায় নয়; বরং তাদের অভ্যাসের বর্ণনা। এতে বোঝা যায়, ইবাদতের পরে দেহের প্রয়োজনও স্বাভাবিকভাবে পূরণ করা যায়। ইসলাম মানুষের জীবনকে শুধু আনুষ্ঠানিক ইবাদতে সীমাবদ্ধ করে না; বরং সালাত, খাবার, বিশ্রাম—সবকিছুতে সুন্দর ছন্দ রাখতে শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সাহাবীরা জুমার সালাতের পর কায়লুলা করতেন।
- ইবাদতের পর শরীরের বিশ্রাম ও খাবার গ্রহণ স্বাভাবিক বিষয়।
- জুমার দিন আগে সালাত, পরে আহার ও বিশ্রামের রীতি দেখা যায়।
- দৈনন্দিন জীবনেও ইবাদতের সঙ্গে সুন্দর সময়বিন্যাস রাখা যায়।
