১৩/৬. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৯৫৬ - ঈদের সালাত আগে, খুতবা পরে
মিম্বার না নিয়ে ঈদমাঠে গমন।
ঈদের সালাত ও খুতবার ক্রম: নবী صلى الله عليه وسلم-এর সুন্নাহর পরিষ্কার বর্ণনা
সহীহ বুখারী : ৯৫৬
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৯৫৬
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي زَيْدٌ، عَنْ عِيَاضِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي سَرْحٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَخْرُجُ يَوْمَ الْفِطْرِ وَالأَضْحَى إِلَى الْمُصَلَّى، فَأَوَّلُ شَىْءٍ يَبْدَأُ بِهِ الصَّلاَةُ ثُمَّ يَنْصَرِفُ، فَيَقُومُ مُقَابِلَ النَّاسِ، وَالنَّاسُ جُلُوسٌ عَلَى صُفُوفِهِمْ، فَيَعِظُهُمْ وَيُوصِيهِمْ وَيَأْمُرُهُمْ، فَإِنْ كَانَ يُرِيدُ أَنْ يَقْطَعَ بَعْثًا قَطَعَهُ، أَوْ يَأْمُرَ بِشَىْءٍ أَمَرَ بِهِ، ثُمَّ يَنْصَرِفُ.قَالَ أَبُو سَعِيدٍ فَلَمْ يَزَلِ النَّاسُ عَلَى ذَلِكَ حَتَّى خَرَجْتُ مَعَ مَرْوَانَ وَهْوَ أَمِيرُ الْمَدِينَةِ فِي أَضْحًى أَوْ فِطْرٍ، فَلَمَّا أَتَيْنَا الْمُصَلَّى إِذَا مِنْبَرٌ بَنَاهُ كَثِيرُ بْنُ الصَّلْتِ، فَإِذَا مَرْوَانُ يُرِيدُ أَنْ يَرْتَقِيَهُ قَبْلَ أَنْ يُصَلِّيَ، فَجَبَذْتُ بِثَوْبِهِ فَجَبَذَنِي فَارْتَفَعَ، فَخَطَبَ قَبْلَ الصَّلاَةِ، فَقُلْتُ لَهُ غَيَّرْتُمْ وَاللَّهِ. فَقَالَ أَبَا سَعِيدٍ، قَدْ ذَهَبَ مَا تَعْلَمُ. فَقُلْتُ مَا أَعْلَمُ وَاللَّهِ خَيْرٌ مِمَّا لاَ أَعْلَمُ. فَقَالَ إِنَّ النَّاسَ لَمْ يَكُونُوا يَجْلِسُونَ لَنَا بَعْدَ الصَّلاَةِ فَجَعَلْتُهَا قَبْلَ الصَّلاَةِ.
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) ‘ঈদুল ফিত্র ও ‘ঈদুল আযহার দিন ‘ঈদমাঠে যেতেন এবং সেখানে তিনি প্রথম যে কাজ শুরু করতেন তা হল সালাত। আর সালাত শেষ করে তিনি লোকদের দিকে মুখ করে দাঁড়াতেন এবং তাঁরা তাঁদের কাতারে বসে থাকতেন। তিনি তাঁদের নসীহত করতেন, উপদেশ দিতেন এবং নির্দেশ দান করতেন। যদি তিনি কোন সেনাদল পাঠাবার ইচ্ছা করতেন, তবে তাদের আলাদা করে নিতেন। অথবা যদি কোন বিষয়ে নির্দেশ জারি করার ইচ্ছা করতেন তবে তা জারি করতেন। অতঃপর তিনি ফিরে যেতেন।আবূ সা’ঈদ (রাঃ) বলেন, লোকেরা বরাবর এ নিয়মই অনুসরণ করে আসছিল। অবশেষে যখন মারওয়ান মদীনার ‘আমীর হলেন, তখন ’ঈদুল আযহা বা ‘ঈদুল ফিত্রের উদ্দেশে আমি তাঁর সঙ্গে বের হলাম। আমরা যখন ‘ঈদমাঠে পৌঁছলাম তখন সেখানে একটি মিম্বর দেখতে পেলাম, সেটি কাসীর ইব্নু সাল্ত (রাঃ) তৈরি করেছিলেন। মারওয়ান সালাত আদায়ের পূর্বেই এর উপর আরোহণ করতে উদ্যত হলেন। আমি তাঁর কাপড় টেনে ধরলাম। কিন্তু তিনি কাপড় ছাড়িয়ে খুত্বা দিলেন।আমি তাকে বললাম, আল্লাহ্র কসম! তোমরা (রাসূলের সুন্নাত) পরিবর্তন করে ফেলেছ। সে বলল, হে আবূ সা’ঈদ! তোমরা যা জানতে, তা গত হয়ে গেছে। আমি বললাম, আল্লাহর কসম! আমি যা জানি, তা তার চেয়ে ভাল, যা আমি জানি না। সে তখন বলল, লোকজন সালাতের পর আমাদের জন্য বসে থাকে না, তাই ওটা সালাতের আগেই করেছি।
সহীহ বুখারী হাদিস ৯৫৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) ঈদের সালাত ও খুতবার নিয়ম বর্ণনা করেছেন। নবী صلى الله عليه وسلم ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিনে ঈদগাহে যেতেন। সেখানে তিনি প্রথম যে কাজ শুরু করতেন তা ছিল সালাত। সালাত শেষ করে তিনি মানুষের দিকে মুখ করে দাঁড়াতেন, আর লোকেরা নিজেদের কাতারে বসে থাকত। তিনি তাদের নসিহত করতেন, উপদেশ দিতেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতেন। যদি কোনো সেনাদল পাঠাতে চাইতেন বা কোনো নির্দেশ দিতে চাইতেন, তাও দিতেন। পরে আবু সাঈদ (রাঃ) মারওয়ানের সময় দেখেন, খুতবা সালাতের আগে দেওয়া হচ্ছে। তিনি এটিকে পরিবর্তন বলে আপত্তি করেন। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো—নবী صلى الله عليه وسلم-এর আমলে ঈদের সালাত আগে, খুতবা পরে ছিল।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী صلى الله عليه وسلم ঈদগাহে গিয়ে প্রথমে সালাত আদায় করতেন।
- সালাতের পর তিনি মানুষের দিকে মুখ করে নসিহত করতেন।
- লোকেরা নিজেদের কাতারে বসে খুতবা শুনত।
- আবু সাঈদ (রাঃ) সালাতের আগে খুতবা দেওয়াকে পরিবর্তন বলেছেন।
