১৩/৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৯৫৫ - ঈদুল আজহার সালাতের পর কুরবানীর বিধান
কুরবানির দিন আহার করা।
ঈদুল আজহার সালাতের পর কুরবানী: আবু বুরদা (রাঃ)-এর ঘটনা
সহীহ বুখারী : ৯৫৫
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৯৫৫
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ، قَالَ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ خَطَبَنَا النَّبِيُّ ﷺ يَوْمَ الأَضْحَى بَعْدَ الصَّلاَةِ فَقَالَ «مَنْ صَلَّى صَلاَتَنَا وَنَسَكَ نُسُكَنَا فَقَدْ أَصَابَ النُّسُكَ، وَمَنْ نَسَكَ قَبْلَ الصَّلاَةِ فَإِنَّهُ قَبْلَ الصَّلاَةِ، وَلاَ نُسُكَ لَهُ».فَقَالَ أَبُو بُرْدَةَ بْنُ نِيَارٍ خَالُ الْبَرَاءِ يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَإِنِّي نَسَكْتُ شَاتِي قَبْلَ الصَّلاَةِ، وَعَرَفْتُ أَنَّ الْيَوْمَ يَوْمُ أَكْلٍ وَشُرْبٍ، وَأَحْبَبْتُ أَنْ تَكُونَ شَاتِي أَوَّلَ مَا يُذْبَحُ فِي بَيْتِي، فَذَبَحْتُ شَاتِي وَتَغَدَّيْتُ قَبْلَ أَنْ آتِيَ الصَّلاَةَ. قَالَ «شَاتُكَ شَاةُ لَحْمٍ». قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَإِنَّ عِنْدَنَا عَنَاقًا لَنَا جَذَعَةً هِيَ أَحَبُّ إِلَىَّ مِنْ شَاتَيْنِ، أَفَتَجْزِي عَنِّي قَالَ " نَعَمْ، وَلَنْ تَجْزِيَ عَنْ أَحَدٍ بَعْدَكَ
বারা ইবনু ‘আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) ‘ঈদুল আযহার দিন সালাতের পর আমাদের উদ্দেশে খুত্বা দান করেন। খুত্বায় তিনি বলেনঃ যে আমাদের মত সালাত আদায় করল এবং আমাদের মত কুরবানী করল, সে কুরবানীর রীতিনীতি যথাযথ পালন করল। আর যে ব্যক্তি সালাতের পূর্বে কুরবানী করল তা সালাতের পূর্বে হয়ে গেল, এতে তার কুরবানী হবে না।বারা'আ-এর মামা আবূ বুরদাহ্ ইব্নু নিয়ার (রাঃ) তখন বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমি তো সালাতের পূর্বেই আমার বক্রী যবেহ্ করে ফেলেছি, আমার জানা মতে আজকের দিনটি পানাহারের দিন। তাই আমি পছন্দ করলাম যে, আমার ঘরে সর্বপ্রথম যবেহ্ করা হোক আমার বক্রীই। তাই আমি আমার বক্রীটি যবেহ্ করেছি এবং সালাতে আসার পূর্বে তা দিয়ে নাশ্তাও করেছি। নবী (ﷺ) বললেনঃ তোমার বক্রীটি গোশ্তের উদ্দেশ্যে যবেহ্ করা হয়েছে। তখন তিনি আরয করলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমাদের নিকট এমন একটি ছয় মাসের মেষ শাবক আছে যা আমার নিকট দু’টি বক্রীর চাইতেও পছন্দনীয়। এটি (কুরবানী করলে) কি আমার জন্য যথেষ্ট হবে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, তবে তুমি ছাড়া অন্য কারো জন্য যথেষ্ট হবে না।
সহীহ বুখারী হাদিস ৯৫৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী صلى الله عليه وسلم ঈদুল আজহার দিন সালাতের পর খুতবা দেন। তিনি বলেন, যে তাঁদের মতো সালাত আদায় করল এবং তাঁদের মতো কুরবানী করল, সে কুরবানীর রীতি যথাযথ পালন করল। আর যে সালাতের আগে কুরবানী করল, তার কুরবানী হলো না। তখন আবু বুরদা ইবন নিয়ার (রাঃ) জানান, তিনি সালাতের আগে নিজের বকরী যবেহ করেছেন এবং তা দিয়ে নাস্তা করেছেন। নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, তাঁর বকরীটি গোশতের উদ্দেশ্যে যবেহ হয়েছে। এরপর তিনি ছয় মাসের একটি মেষ শাবকের কথা বলেন, যা তাঁর কাছে দুই বকরীর চেয়েও পছন্দনীয়। নবী صلى الله عليه وسلم তাঁকে বলেন, এটি তাঁর জন্য যথেষ্ট হবে, তবে তাঁর পরে অন্য কারো জন্য যথেষ্ট হবে না। এই হাদিসে কুরবানীর সময়, সালাতের ক্রম এবং একটি বিশেষ অনুমতির সীমা স্পষ্টভাবে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঈদুল আজহার সালাতের পর কুরবানীর কথা বর্ণনায় এসেছে।
- সালাতের আগে যবেহ করলে তা কুরবানী হিসেবে গণ্য হয়নি।
- আবু বুরদা (রাঃ)-এর ছয় মাসের মেষের অনুমতি বিশেষভাবে তাঁর জন্য ছিল।
- কুরবানীর ক্ষেত্রে সময় ও নির্দেশ মানা গুরুত্বপূর্ণ।
