১৩/১৭. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৯৭৬ - ঈদুল আজহায় সালাতের পর কুরবানি
ঈদের খুতবা দেয়ার সময় মুসল্লিদের প্রতি ইমামের মুখ করে দাঁড়ানো।
قَالَ أَبُو سَعِيدٍ قَامَ النَّبِيُّ ﷺ مُقَابِلَ النَّاسِ.আবূ সা‘ঈদ (রাঃ) বলেন, নবী (ﷺ) মুসল্লীদের দিকে মুখ করে দাঁড়াতেন।"
ঈদুল আজহায় সালাতের পর কুরবানি করার সহীহ হাদিস
সহীহ বুখারী : ৯৭৬
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৯৭৬
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ طَلْحَةَ، عَنْ زُبَيْدٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنِ الْبَرَاءِ، قَالَ خَرَجَ النَّبِيُّ ﷺ يَوْمَ أَضْحًى إِلَى الْبَقِيعِ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْنَا بِوَجْهِهِ وَقَالَ " إِنَّ أَوَّلَ نُسُكِنَا فِي يَوْمِنَا هَذَا أَنْ نَبْدَأَ بِالصَّلاَةِ، ثُمَّ نَرْجِعَ فَنَنْحَرَ، فَمَنْ فَعَلَ ذَلِكَ فَقَدْ وَافَقَ سُنَّتَنَا، وَمَنْ ذَبَحَ قَبْلَ ذَلِكَ فَإِنَّمَا هُوَ شَىْءٌ عَجَّلَهُ لأَهْلِهِ، لَيْسَ مِنَ النُّسُكِ فِي شَىْءٍ». فَقَامَ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنِّي ذَبَحْتُ وَعِنْدِي جَذَعَةٌ خَيْرٌ مِنْ مُسِنَّةٍ. قَالَ «اذْبَحْهَا، وَلاَ تَفِي عَنْ أَحَدٍ بَعْدَكَ».
বারা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একবার নবী (ﷺ) ঈদুল আযহার দিন বাকী‘তে (নামক কবরস্থানে) যান। অতঃপর তিনি দু’ রাকাত সালাত আদায় করে আমাদের দিকে মুখ করে দাঁড়ালেন এবং তিনি বললেন, আজকের দিনের প্রথম ইবাদত হল সালাত আদায় করা। অতঃপর ফিরে গিয়ে কুরবানী করা। যে ব্যক্তি এরূপ করবে সে আমাদের নীতি অনুযায়ী কাজ করবে। আর যে এর পূর্বেই যবেহ্ করবে তা হলে তার যবেহ্ হবে এমন একটি কাজ, যা সে নিজের পরিবারবর্গের জন্যই তাড়াতাড়ি করে ফেলেছে, এর সাথে কুরবানীর কোন সম্পর্ক নেই।তখন এক ব্যক্তি [আবূ বুরদাহ ইব্নু নিয়ার (রাঃ)] দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি (পূর্বেই) যবেহ্ করে ফেলেছি। এখন আমার নিকট এমন একটি মেষশাবক আছে যা পূর্ণবয়স্ক মেষের চেয়ে উত্তম। (এটা কুরবানী করব কি?) তিনি বললেন, এটাই যবেহ্ কর। তবে তোমার পর আর কারো জন্য তা যথেষ্ট হবে না।
সহীহ বুখারী হাদিস ৯৭৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো ঈদুল আজহার সালাত ও কুরবানির সময়। নবী (صلى الله عليه وسلم) ঈদুল আজহার দিনে বাকীতে যান এবং দুই রাকাত সালাত আদায় করেন। এরপর তিনি মানুষের দিকে মুখ করে বলেন, আজকের দিনের প্রথম ইবাদত হলো সালাত আদায় করা। তারপর ফিরে গিয়ে কুরবানি করা। যে ব্যক্তি এভাবে করবে, সে সুন্নাহর সঙ্গে মিল রেখে কাজ করবে। আর যে এর আগে যবেহ করে, তা পরিবারের জন্য আগেভাগে করা কাজ; কুরবানির সঙ্গে তার সম্পর্ক নেই। এরপর একজন ব্যক্তি তাঁর আগেভাগে যবেহের কথা বলেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে তাঁর মেষশাবক যবেহ করতে বলেন, কিন্তু জানান, তাঁর পর অন্য কারো জন্য তা যথেষ্ট হবে না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঈদুল আজহার দিনের প্রথম ইবাদত সালাত।
- কুরবানি সালাতের পরে করতে হয়।
- সালাতের আগে যবেহ কুরবানি হিসেবে ধরা হয় না।
- বিশেষ অনুমতিকে সাধারণ নিয়ম বানানো ঠিক নয়।
