১৩/৮. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৯৬৫ - কুরবানি সালাতের পরে করার নিয়ম
ঈদের সালাতের পর খুতবা।
কুরবানি কখন করতে হয়: ঈদের সালাতের পর কুরবানির হাদিস
সহীহ বুখারী : ৯৬৫
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৯৬৫
حَدَّثَنَا آدَمُ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا زُبَيْدٌ، قَالَ سَمِعْتُ الشَّعْبِيَّ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ " إِنَّ أَوَّلَ مَا نَبْدَأُ فِي يَوْمِنَا هَذَا أَنْ نُصَلِّيَ، ثُمَّ نَرْجِعَ فَنَنْحَرَ، فَمَنْ فَعَلَ ذَلِكَ فَقَدْ أَصَابَ سُنَّتَنَا، وَمَنْ نَحَرَ قَبْلَ الصَّلاَةِ فَإِنَّمَا هُوَ لَحْمٌ قَدَّمَهُ لأَهْلِهِ، لَيْسَ مِنَ النُّسْكِ فِي شَىْءٍ ".فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ يُقَالُ لَهُ أَبُو بُرْدَةَ بْنُ نِيَارٍ يَا رَسُولَ اللَّهِ، ذَبَحْتُ وَعِنْدِي جَذَعَةٌ خَيْرٌ مِنْ مُسِنَّةٍ. فَقَالَ " اجْعَلْهُ مَكَانَهُ، وَلَنْ تُوفِيَ أَوْ تَجْزِيَ عَنْ أَحَدٍ بَعْدَكَ ".
বারা ইবনু ‘আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আজকের এ দিনে আমাদের প্রথম কাজ হচ্ছে সালাত আদায় করা। অতঃপর আমরা ফিরে আসব এবং কুরবানী করব। কাজেই যে ব্যক্তি তা করল, সে আমাদের নিয়ম পালন করল। যে ব্যক্তি সালাতের পূর্বে কুরবানী করল, তা শুধু গোশ্ত বলেই গণ্য হবে, যা সে পরিবারবর্গের জন্য পূর্বেই করে ফেলেছে। এতে কুরবানীর কিছুই নেই। তখন আবূ বুরদাহ ইব্নু নিয়ার (রাঃ) নামক এক আনসারী বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমি তো যবেহ্ করে ফেলেছি। এখন আমার নিকট এমন একটি মেষ শাবক আছে যা এক বছর বয়সের মেষের চেয়ে উৎকৃষ্ট। তিনি বললেন, সেটির স্থলে এটাকে যবেহ্ করে দাও। তবে তোমার পর অন্য কারো জন্য তা যথেষ্ট হবে না।
সহীহ বুখারী হাদিস ৯৬৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো কুরবানির সময়। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, ঈদুল আজহার দিনে প্রথম কাজ হলো সালাত আদায় করা। এরপর ফিরে এসে কুরবানি করা। যে ব্যক্তি এই নিয়মে কাজ করে, সে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নিয়ম অনুসরণ করে। আর কেউ যদি সালাতের আগে যবেহ করে, তাহলে তা পরিবারের জন্য আগেভাগে করা গোশত হবে; কুরবানি হিসেবে গণ্য হবে না—এ কথা হাদিসে পরিষ্কার এসেছে। আবু বুরদা ইবনু নিয়ার (রাঃ)-এর ঘটনার মাধ্যমে আরও জানা যায়, তাঁর জন্য একটি বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, তাঁর পর অন্য কারো জন্য তা যথেষ্ট হবে না। তাই কুরবানির সময়ের বিষয়ে এই হাদিস খুব স্পষ্ট।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঈদুল আজহার দিনে আগে সালাত, তারপর কুরবানি।
- সালাতের আগে যবেহ করলে তা কুরবানি হিসেবে গণ্য হয় না।
- আবু বুরদা (রাঃ)-এর অনুমতি ছিল বিশেষ ঘটনা।
- ইবাদতের সময় ও নিয়ম মানা কুরবানির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
