২/১. অধ্যায়ঃ
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِوٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا; أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ - ﷺ - قَالَ: «وَقْتُ الظُّهْرِ إِذَا زَالَتْ الشَّمْسُ, وَكَانَ ظِلُّ الرَّجُلِ كَطُولِهِ مَا لَمْ يَحْضُرِ الْعَصْرُ, وَوَقْتُ الْعَصْرِ مَا لَمْ تَصْفَرَّ الشَّمْسُ, وَوَقْتُ صَلَاةِ الْمَغْرِبِ مَا لَمْ يَغِبْ الشَّفَقُ, وَوَقْتُ صَلَاةِ الْعِشَاءِ إِلَى نِصْفِ اللَّيْلِ الْأَوْسَطِ, وَوَقْتُ صَلَاةِ الصُّبْحِ مِنْ طُلُوعِ الْفَجْرِ مَا لَمْ تَطْلُعْ الشَّمْسُ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
নবী (ﷺ) বলেছেন, ‘যুহরের সময় হচ্ছে, যখন সূর্য পশ্চিমে হেলে পড়ে, আর মানুষের ছায়া তার সমপরিমাণ হওয়া পর্যন্ত, তথা আসরের সময় উপস্থিত হওয়া পর্যন্ত। আসরের সময় হচ্ছে, (কোন বস্তুর ছায়া তার সমান হবার পর হতে) সূর্যের রঙ হালকা বা ফ্যাকাশে হলুদ বর্ণ ধারণ করা পর্যন্ত। মাগরিবের সময় সূর্যাস্ত থেকে আরম্ভ করে পশ্চিমাকাশে লালিমা নিশ্চিহ্ন না হওয়া পর্যন্ত। ইশার সালাতের সময় হলো, (মাগরিবের সময় শেষ হওয়া থেকে শুরু হয়ে) মধ্যরাত অবধি বিদ্যমান থাকে। ফাজ্রের সময়, সুবহ্ সাদিক থেকে আরম্ভ হয়ে সূর্য উদিত না হওয়া পর্যন্ত।’ [১৭৮]
[১৭৮] মুসলিম ১৭৩, ৬১২; পূর্ণাঙ্গ হাদীস হচ্ছে- (আরবী) যখন সূর্য উদিত হয় তখন সালাত থেকে বিরত থাকো। কেননা সূর্য শয়তানের দু’ শিংয়ের মাঝ দিয়ে উদিত হয়।
وَلَهُ مِنْ حَدِيثِ بُرَيْدَةَ فِي الْعَصْرِ: وَالشَّمْسُ بَيْضَاءُ نَقِيَّةٌ
মুসলিমে বুরাইদাহ (রাঃ) -এর হাদীসে আসর সম্পর্কে রয়েছে (সূর্য আলোক উজ্জ্বল থাকা পর্যন্ত)। [১৭৯]
[১৭৯] মুসলিম ৬১৩; ইমাম মুসলিমের মতে (আরবী) এর অর্থ (আরবী) অর্থাৎ স্বচ্ছ ও পরিষ্কার সাদা। তথা তাতে হলদে রঙয়ের কোন মিশ্রণ থাকবে না। আর পূর্ববর্তী হাদীসে রয়েছে- (আরবী) অর্থাৎ যতক্ষণ পর্যন্ত সূর্য হলুদাভ না হয়।
وَمِنْ حَدِيثِ أَبِي مُوسَى: وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ
আর আবূ মূসা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে আছে, ‘এবং সূর্য উঁচুতে থাকা পর্যন্ত’ (আসরের সময় থাকে)। [১৮০]
[১৮০] মুসলিম ৬১৩ এটা বড় একটি হাদীসের অংশ বিশেষ। তাতে আছে- তাকে সলাত আদায়ের নির্দেশ দিলেন। অতঃপর আসরের সলাত আদায় করলেন।
২/১. অধ্যায়ঃ
وَعَنْ أَبِي بَرْزَةَ الْأَسْلَمِيِّ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ - يُصَلِّيَ الْعَصْرَ, ثُمَّ يَرْجِعُ أَحَدُنَا إِلَى رَحْلِهِ فِي أَقْصَى الْمَدِينَةِ وَالشَّمْسُ حَيَّةٌ, وَكَانَ يَسْتَحِبُّ أَنْ يُؤَخِّرَ مِنَ الْعِشَاءِ, وَكَانَ يَكْرَهُ النَّوْمَ قَبْلَهَا وَالْحَدِيثَ بَعْدَهَا, وَكَانَ يَنْفَتِلُ مِنْ صَلَاةِ الْغَدَاةِ حِينَ يَعْرِفُ الرَّجُلُ جَلِيسَهُ, وَيَقْرَأُ بِالسِّتِّينَ إِلَى الْمِائَةِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আসরের সালাত আদায় করতেন তার পর আমাদের কোন ব্যক্তি রওয়ানা হয়ে মদীনার দূর প্রান্তের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার পরও সূর্য জীবিত তথা সূর্যের উজ্জ্বলতা বাকী থাকতো। আর নবী (ﷺ) ইশার সালাত দেরিতে আদায় করা পছন্দ করতেন এবং ইশা সালাতের পূর্বে ঘুমান ও পরে কথাবার্তা বলাকে অপছন্দ করতেন। আর তিনি ফাজ্রের সালাত আদায় করে এমন সময় ফিরতেন যখন লোক তার পাশে বসে থাকা সঙ্গীকে চিনতে পারত। আর ষাট আয়াত থেকে একশো আয়াত তিলাওয়াত করতেন। [১৮১]
[১৮১] বুখারী ৫৪৭; মুসলিম ৬৪৭। শব্দ বিন্যাস বুখারীর। এখানে (আরবী) শব্দটির র (আরবী) অক্ষরে যাবার হা (আরবী) অক্ষরে সাকিন সহ পড়তে হবে। (আরবী) অর্থাৎ স্বচ্ছ পরিষ্কার সাদা যেমন পূর্ববর্তী বর্ণনায় রয়েছে। আর একজন তাবেয়ী হতে তার এ কথাটি সহীহ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে (আরবী) সূর্য জীবিত থাকার অর্থ হচ্ছে সূর্যে উত্তাপ পাওয়া।
وَعِنْدَهُمَا مِنْ حَدِيثِ جَابِرٍ: وَالْعِشَاءُ أَحْيَانًا وَأَحْيَانًا: إِذَا رَآهُمْ اجْتَمَعُوا عَجَّلَ, وَإِذَا رَآهُمْ أَبْطَئُوا أَخَّرَ, وَالصُّبْحَ: كَانَ النَّبِيَّ - ﷺ - يُصَلِّيهَا بِغَلَسٍ
ইশার সালাত কখনও দ্রুত কখনও দেরিতে পড়তেন। যখন দেখতেন লোক একত্রিত হয়ে গেছে তখন তাড়াতাড়ি করতেন। আর তারা বিলম্বে উপস্থিত হলে বিলম্বেই আদায় করতেন। আর তিনি ফাজ্রের সালাত খানিকটা অন্ধকারে আদায় করতেন। [১৮২]
[১৮২] বুখারী ৫৬০; মুসলিম ৬৪৬ শব্দবিন্যাস বুখারীর। মুসলিমের বর্ণনায় আছে- (আরবী) এশার সলাত কখনো বিলম্বে আদায় করতেন আবার কখনো তাড়াতাড়ি পড়ে নিতেন।
وَلِمُسْلِمٍ مِنْ حَدِيثِ أَبِي مُوسَى: فَأَقَامَ الْفَجْرَ حِينَ انْشَقَّ الْفَجْرُ, وَالنَّاسُ لَا يَكَادُ يَعْرِفُ بَعْضُهُمْ بَعْضًا
ঐ সময় ফাজ্রের সালাত আদায় করতেন যখন ফজর প্রকাশ অর্থাৎ সুবহি সাদিক হতো। কিন্তু লোকেরা পরস্পরকে তখনও ভালভাবে চিনতে সক্ষম হতো না।
২/১. অধ্যায়ঃ
وَعَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ قَالَ: كُنَّا نُصَلِّي الْمَغْرِبَ مَعَ النَّبِيِّ - ﷺ - فَيَنْصَرِفُ أَحَدُنَا وَإِنَّهُ لَيُبْصِرُ مَوَاقِعَ نَبْلِهِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
নবী (ﷺ) -এর সাথে আমরা মাগরিবের সালাত আদায় করতাম। অতঃপর সেখান থেকে ফিরার পরও আমাদের লোক তার ‘নিক্ষিপ্ত তীর পতিত হবার দূরবর্তী স্থানটি’ দেখতে পেতেন। [১৮৩]
[১৮৩] বুখারী ৫৫৯; মুসলিম ৬৩৭; হাফিজ ইবনু হাজার তাঁর ফাতহুল বারিতে (২/৪১) বলেনঃ (আরবী) সময় শুরু হওয়ার সাথে সাথেই মাগরিব সালাত আদায় করা কর্তব্য। এমনকি সালাত শেষ হওয়ার পরেও যেন উজ্জ্বলতা অবশিষ্ট থাকে।
২/১. অধ্যায়ঃ
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: أَعْتَمَ رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ - ذَاتَ لَيْلَةٍ بِالْعِشَاءِ, حَتَّى ذَهَبَ عَامَّةُ اللَّيْلِ, ثُمَّ خَرَجَ, فَصَلَّى, وَقَالَ: «إِنَّهُ لَوَقْتُهَا لَوْلَا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
নবী (ﷺ) কোন এক রাতে ইশার সালাত আদায় করতে অনেক বিলম্ব করেছিলেন। এমন কি রাতের বেশ কিছু সময় গত হয়ে গিয়েছিল। তারপর তিনি বের হয়ে সালাত আদায় করে বললেন, এটাই হচ্ছে ইশা সালাত আদায়ের উপযুক্ত সময়, যদি আমি আমার উম্মতের উপর কষ্ট মনে না করতাম তবে এসময়টাকেই নির্ধারণ করতাম। [১৮৪]
[১৮৪] মুসলিম ২১৯, ৬৩৮, (আরবী) অর্থাৎঃ বিলম্ব করতেন এমনকি রাতের অন্ধকার খুব ঘনীভূত হয়ে আসত।
২/১. অধ্যায়ঃ
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ: «إِذَا اشْتَدَّ الْحَرُّ فَأَبْرِدُوا بِالصَّلَاةِ, فَإِنَّ شِدَّةَ الْحَرِّ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, যখন দিনের উত্তাপ খুব বেড়ে যাবে তখন উত্তাপ কমে (আবহাওয়া) ঠাণ্ডা হলে (যুহরের) সালাত পড়বে। কেননা কঠিন উত্তাপ জাহান্নামের আগুনের তীব্রতা থেকে হয়। [১৮৫]
[১৮৫] বুখারী ৫৩৬; মু, ৬১৫০; হাদীসের (আরবী) যুহর সালাতকে ঠাণ্ডা হওয়া সময় পর্যন্ত বিলম্ব করা।
২/১. অধ্যায়ঃ
وَعَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ: «أَصْبِحُوا بِالصُّبْحِ فَإِنَّهُ أَعْظَمُ لِأُجُورِكُمْ». رَوَاهُ الْخَمْسَةُ, وَصَحَّحَهُ التِّرْمِذِيُّ, وَابْنُ حِبَّانَ
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ ফযরের সালাত স্পষ্ট সুবহি সাদিক হলে আদায় কর। কেননা তা তোমাদের জন্য অধিক পুণ্যের কারণ। তিরমিযী ও ইবনু হিব্বান একে সহীহ বলেছেন। [১৮৬]
[১৮৬] আবূ দাঊদ ৪২৪; নাসায়ী ১৭২; তিরমিযী ১৫৪; ইবনু মাজাহ ৬৭২; আহমাদ ৩/১৪০,১৪২,১৪৩,৪৪০,৪৬৫; ইবনু হিব্বান ১৪৯০, ১৪৯১; ইমাম তিরমিযী বলেনঃ রাফে বিন খাদীজ এর হাদিসটি হাসান সহীহ। আর এখানে (আরবী) বলতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) চাঁদনী রাতসমূহের ক্ষেত্রে এ শব্দ প্রয়োগ করেছেন যেহেতু এমন রাতে ফযর উদয়ের উজ্জ্বলতা স্পষ্টভাবে বোঝা যায় না। এটা এজন্য যে, লোকেরা যেন ফযর উদয় হওয়ার দৃঢ় বিশ্বাস না হওয়া পর্যন্ত ফযরের সালাত আদায় না করে। কেননা, হাদীসে আমাদেরকে যে সময় ফযর সালাত আদায়ের বলা হয়েছে সে সময় আদায় করলে অত্যন্ত বেশি সওয়াব পাওয়া যাবে ঐ সময়ের চেয়ে যে সময় ফযর দৃঢ়তা না নিয়েই সালাত আদায় করা হয়।