২/১. অধ্যায়ঃ
বুলুগুল মারাম হাদিস ১৫৯ - প্রচণ্ড গরমে যুহরের সালাত
সালাতের সময়সমূহ - যুহরের সালাতকে সূর্যের প্রখরতা ঠাণ্ডা হলে পড়ার বিধান
প্রচণ্ড গরমে যুহরের সালাত: ঠাণ্ডা হলে আদায়ের নির্দেশ
বুলুগুল মারাম : ১৫৯
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ১৫৯
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ: «إِذَا اشْتَدَّ الْحَرُّ فَأَبْرِدُوا بِالصَّلَاةِ, فَإِنَّ شِدَّةَ الْحَرِّ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, যখন দিনের উত্তাপ খুব বেড়ে যাবে তখন উত্তাপ কমে (আবহাওয়া) ঠাণ্ডা হলে (যুহরের) সালাত পড়বে। কেননা কঠিন উত্তাপ জাহান্নামের আগুনের তীব্রতা থেকে হয়। [১৮৫]
[১৮৫] বুখারী ৫৩৬; মু, ৬১৫০; হাদীসের (আরবী) যুহর সালাতকে ঠাণ্ডা হওয়া সময় পর্যন্ত বিলম্ব করা।
বুলুগুল মারাম হাদিস ১৫৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে প্রচণ্ড গরমের সময় সালাত আদায়ের একটি নির্দেশ এসেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, দিনের উত্তাপ খুব বেড়ে গেলে উত্তাপ কমে আবহাওয়া ঠাণ্ডা হলে সালাত পড়বে। কারণ কঠিন উত্তাপ জাহান্নামের আগুনের তীব্রতা থেকে হয়। এখানে সালাত বলতে অনুবাদে যুহরের সালাত বোঝানো হয়েছে। হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, ইবাদতের সময় মানুষের কষ্টের দিকও বিবেচনা করা হয়েছে। প্রচণ্ড গরমে কষ্ট বাড়লে কিছুটা ঠাণ্ডা হওয়ার অপেক্ষা করা যায়—এ দিকটি এসেছে। তবে এই বর্ণনা সালাত অবহেলার অনুমতি নয়; বরং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সহজভাবে আদায়ের নির্দেশ। একই সঙ্গে গরমের তীব্রতা মানুষকে আখিরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রচণ্ড গরমে ঠাণ্ডা হলে যুহর পড়ার নির্দেশ এসেছে।
- ইবাদতে মানুষের কষ্টের দিক বিবেচনা করা হয়েছে।
- কঠিন উত্তাপ জাহান্নামের তীব্রতার কথা স্মরণ করায়।
- সালাত দেরি করা নয়, বরং সময়ের মধ্যে সহজভাবে আদায় করাই উদ্দেশ্য।
