৪/০. অধ্যায়ঃ
عَنِ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا: أَنَّ النَّبِيَّ - ﷺ - بَعَثَ مُعَاذًا - رضي الله عنه - إِلَى الْيَمَنِ ... فَذَكَرَ الْحَدِيثَ, وَفِيهِ: أَنَّ اللَّهَ قَدِ افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ صَدَقَةً فِي أَمْوَالِهِمْ, تُؤْخَذُ مِنْ أَغْنِيَائِهِمْ, فَتُرَدُّ فِي فُقَرَائِهِمْ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ, وَاللَّفْظُ لِلْبُخَارِيِّ
নবী (ﷺ) মু’আয (রাঃ)-কে ইয়ামান দেশে (শাসক হিসেবে) প্রেরণ করেন। অতঃপর পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেন। তাতে রয়েছে, আল্লাহ্ তা‘য়ালা তাদের উপর তাদের সম্পদের মধ্য থেকে সদাকাহ (যাকাত) ফরজ করেছেন। যেটা ধনীদের নিকট থেকে গৃহীত হবে আর দরিদ্রদের মাঝে প্রদান করা হবে। [৬৩৫] শব্দ বিন্যাস বুখারীর। [৬৩৬]
[৬৩৫] বুখারীর বর্ণনায় রয়েছে, নাবী (ﷺ) মু’আয (রাঃ)-কে ইয়ামান দেশে (শাসক হিসেবে) প্রেরণ করেন। অতঃপর বললেন, সেখানকার অধিবাসীদেরকে এ সাক্ষ্য দানের প্রতি আহবান করবে যে, আল্লাহ্ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই এবং আমি আল্লাহর রসূল। যদি সেটা তারা মেনে নেয় তবে তাদেরকে অবগত কর যে, আল্লাহ্ তা’আলা তাদের উপর তাদের সম্পদের মধ্য থেকে সদাকাহ (যাকাত) ফারয করেছেন। যেটা ধনীদের নিকট থেকে গৃহীত হবে আর দরিদ্রদের মাঝে প্রদান করা হবে। যদি সেটা তারা মেনে নেয় তবে তুমি তাদের কেবল ভাল ভাল সম্পদ যাকাত হিসেবে গ্রহণ করা থেকে সাবধান থেকো। আর মাযলুমের ফরিয়াদকে (রাঃ) য় করবে। কেননা, তার ফরিয়াদ এবং আল্লাহর মাঝে কোন পর্দা থাকে না।[৬৩৬] বুখারী ১৪৫৮, ১৪৯৬, ২৪৪৮, মুসলিম ১৯, তিরমিযী ৬২৫, ২০১৪, নাসায়ী ২৪২৫, আবূ দাঊদ ১৫৮৪, ইবনু মাজাহ ১৭৮৩, আহমাদ ২০৭২, দারেমী ১৬১৪।
৪/০. অধ্যায়ঃ
وَعَنْ أَنَسٍ - رضي الله عنه - أَنَّ أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ - رضي الله عنه - كَتَبَ لَهُ - هَذِهِ فَرِيضَةُ الصَّدَقَةِ الَّتِي فَرَضَهَا رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ - عَلَى الْمُسْلِمِينَ, وَالَّتِي أَمَرَ اللَّهُ بِهَا رَسُولَهُ:«فِي أَرْبَعٍ وَعِشْرِينَ مِنَ الْإِبِلِ فَمَا دُونَهَا الْغَنَمُ فِي كُلِّ خَمْسٍ شَاةٌ فَإِذَا بَلَغَتْ خَمْسًا وَعِشْرِينَ إِلَى خَمْسٍ وَثَلَاثِينَ فَفِيهَا بِنْتُ مَخَاضٍ أُنْثَى فَإِنْ لَمْ تَكُنْ فَابْنُ لَبُونٍ ذَكَرٍ، فَإِذَا بَلَغَتْ سِتًّا وَثَلَاثِينَ إِلَى خَمْسٍ وَأَرْبَعِينَ فَفِيهَا بِنْتُ لَبُونٍ أُنْثَى, فَإِذَا بَلَغَتْ سِتًّا وَأَرْبَعِينَ إِلَى سِتِّينَ فَفِيهَا حِقَّةٌ طَرُوقَةُ الْجَمَلِ، فَإِذَا بَلَغَتْ وَاحِدَةً وَسِتِّينَ إِلَى خَمْسٍ وَسَبْعِينَ فَفِيهَا جَذَعَةٌ، فَإِذَا بَلَغَتْ سِتًّا وَسَبْعِينَ إِلَى تِسْعِينَ فَفِيهَا بِنْتَا لَبُونٍ, فَإِذَا بَلَغَتْ إِحْدَى وَتِسْعِينَ إِلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ فَفِيهَا حِقَّتَانِ طَرُوقَتَا الْجَمَلِ, فَإِذَا زَادَتْ عَلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ فَفِي كُلِّ أَرْبَعِينَ بِنْتُ لَبُونٍ, وَفِي كُلِّ خَمْسِينَ حِقَّةٌوَمَنْ لَمْ يَكُنْ مَعَهُ إِلَّا أَرْبَعٌ مِنَ الْإِبِلِ فَلَيْسَ فِيهَا صَدَقَةٌ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ رَبُّهَاوَفِي صَدَقَةِ الْغَنَمِ سَائِمَتِهَا إِذَا كَانَتْ أَرْبَعِينَ إِلَى عِشْرِينَ وَمِائَةِ شَاةٍ شَاةٌ, فَإِذَا زَادَتْ عَلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ إِلَى مِائَتَيْنِ فَفِيهَا شَاتَانِ, فَإِذَا زَادَتْ عَلَى مِائَتَيْنِ إِلَى ثَلَاثمِائَةٍ فَفِيهَا ثَلَاثُ شِيَاهٍ، فَإِذَا زَادَتْ عَلَى ثَلَاثِمِائَةٍ فَفِي كُلِّ مِائَةٍ شَاةٌ، فَإِذَا كَانَتْ سَائِمَةُ الرَّجُلِ نَاقِصَةً مِنْ أَرْبَعِينَ شَاةٍ شَاةً وَاحِدَةً فَلَيْسَ فِيهَا صَدَقَةٌ, إِلَّا أَنْ يَشَاءَ رَبُّهَا وَلَا يُجْمَعُ بَيْنَ مُتَفَرِّقٍ، وَلَا يُفَرَّقُ بَيْنَ مُجْتَمِعٍ خَشْيَةَ الصَّدَقَةِ, وَمَا كَانَ مِنْ خَلِيطَيْنِ فَإِنَّهُمَا يَتَرَاجَعَانِ بَيْنَهُمَا بِالسَّوِيَّةِوَلَا يُخْرَجُ فِي الصَّدَقَةِ هَرِمَةٌ وَلَا ذَاتُ عَوَارٍ, إِلَّا أَنْ يَشَاءَ الْمُصَّدِّقُ، وَفِي الرِّقَةِ رُبُعُ الْعُشْرِ, فَإِنْ لَمْ تَكُنْ إِلَّا تِسْعِينَ وَمِائَةً فَلَيْسَ فِيهَا صَدَقَةٌ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ رَبُّهَا, وَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ مِنَ الْإِبِلِ صَدَقَةُ الْجَذَعَةِ وَلَيْسَتْ عِنْدَهُ جَذَعَةٌ وَعِنْدَهُ حِقَّةٌ, فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ الْحِقَّةُ, وَيَجْعَلُ مَعَهَا شَاتَيْنِ إِنِ اِسْتَيْسَرَتَا لَهُ, أَوْ عِشْرِينَ دِرْهَمًا, وَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ الْحِقَّةِ وَلَيْسَتْ عِنْدَهُ الْحِقَّةُ, وَعِنْدَهُ الْجَذَعَةُ, فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ الْجَذَعَةُ, وَيُعْطِيهِ الْمُصَّدِّقُ عِشْرِينَ دِرْهَمًا أَوْ شَاتَيْنِ». رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
আবূ বাকর (রাঃ) আনাস (রাঃ)-এর কাছে রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আল্লাহ্ তা’আলা যাকাত সম্পর্কে যে বিধান দিয়েছেন সে সম্পর্কে লিখে জানালেন, যা আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর রাসূলকে নির্দেশ দিয়েছেন। তা হচ্ছে, চব্বিশ ও তার চেয়ে কম সংখ্যক উটের যাকাত বকরী দ্বারা আদায় করা হবে। প্রতিটি পাঁচটি উটে একটি বকরী এবং উটের সংখ্যা পঁচিশ হতে পঁয়ত্রিশ পর্যন্ত হলে একটি মাদী বিনতে মাখায। [৬৩৭] ছত্রিশ হতে পঁয়তাল্লিশ পর্যন্ত একটি মাদী বিনতে লাবূন। [৬৩৮]ছয়চল্লিশ হতে ষাট পর্যন্ত ষাড়ের পালযোগ্য একটি হিককা [৬৩৯], একষট্টি হতে পঁচাত্তর পর্যন্ত একটি জাযা’আ [৬৪০], ছিয়াত্তর হতে নব্বই পর্যন্ত দু’টি বিনতে লাবূন, একানব্বইটি হতে একশ’ বিশ পর্যন্ত ষাঁড়ের পালনযোগ্য দু’টি হিককা আর একশ’ বিশের অধিক হলে (অতিরিক্ত) প্রতি চল্লিশটিতে একটি করে বিনতে লাবূন এবং (অতিরিক্ত) প্রতি পঞ্চাশটিতে একটি করে হিককা। যার চারটির বেশি উট নেই, সেগুলোর উপর কোন যাকাত নেই, তবে মালিক স্বেচ্ছায় কিছু দিতে চাইলে দিতে পারবে। [৬৪১]আর বকরীর যাকাত সম্পর্কেঃ গৃহপালিত বকরী চল্লিশটি হতে একশ’ বিশটি পর্যন্ত একটি বকরী। এর বেশি হলে দু’শটি পর্যন্ত দু’টি বকরী। দু’শর অধিক হলে তিনশ’ পর্যন্ত তিনটি বকরী। তিনশ’র অধিক হলে প্রতি একশ’-তে একটি করে বকরী। কারো গৃহপালিত বকরীর সংখ্যা চল্লিশ হতে একটিও কম হলে তার উপর যাকাত নেই। তবে স্বেচ্ছায় দান করলে তা করতে পারে।যাকাতের (রাঃ) য়ে বিচ্ছিন্ন পশুকে (পালের বকরীকে) একত্র করা যাবে না আর (যাকাত না দেয়ার বা কম দেয়ার উদ্দেশে) একত্রিত দলকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। পশুপালের শরীকদের মধ্যে হলে নায্যভাবে যাকাত আদায়ের হিসাব আপোষে মিল করে নিবে। যাকাতে দাঁত পড়া [৬৪২], বয়স্ক পশু দেয়া চলবে না। ত্রুটিযুক্ত পশু ও পাঠা যাকাত দেয়া যাবে না, তবে যদি সদাকাহ গ্রহণকারী সেচ্ছায় নেয় তবে ভিন্ন কথা। চাঁদির জন্য ওশরের চারভাগের একভাগ (অর্থাৎ চল্লিশ ভাগের একভাগ)। যদি একশত নব্বই দিরহাম বা তার কম থাকে তবে-তবে যাকাত দিতে হবে না, তবে মালিক ইচ্ছা করে দিতে পারে।যদি কারো উট এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যাকে একটি জাযা’আহ (পঞ্চম বর্ষে পতিত উটনী) সদাকাহ দিতে হবে, আর যদি তার নিকট না থাকে বরং হিক্কা থাকে তাহলে তার নিকট হতে হিক্কা নেওয়া হবে আর তার সাথে দুটি ছাগল গ্রহণ করা হবে। যদি কারো উট এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যাকে একটি হিক্কা (চতুর্থ বর্ষে পতিত উটনী) সদাকাহ দিতে হবে, অথচ যদি তার নিকট না থাকে বরং জাযা’আহ থাকে তাহলে তার নিকট হতে জাযা’আহ নেয়া হবে আর আদায়কারী তাকে কুড়িটি দিরহাম অথবা দুটি ছাগল ফিরিয়ে দিবে। [৬৪৩]
[৬৩৭] যে উটনীর বয়স এক বছর পূর্ণ হয়ে দ্বিতীয় বছরে পদার্পণ করেছে।[৬৩৮] যে উটনীর দু’বছর পূর্ণ হয়ে তৃতীয় বছরে পড়েছে।[৬৩৯] হিক্কাহ বলা হয় এমন উটনীকে যার তিন বছর পূর্ণ হয়ে চতুর্থ বছরে উপনীত হয়েছে।[৬৪০] যে উটনীর চার বছর পূর্ণ হয়ে পঞ্চম বছরে প্রবেশ করেছে তাকে “জাযায়া” বলা হয়।[৬৪১] এর অর্থ হচ্ছেঃ এখানে এর দ্বারা যাকাতদাতাকে বুঝানো হচ্ছে।[৬৪২] শব্দের অর্থ যার দাঁত পড়ে যায়। অর্থাৎ শেষ বয়সে উপনীত হওয়া জন্তু যাকাতের মাল হিসেবে দেয়া যাবে না।[৬৪৩] বুখারী ১৪৪৮, ১৪৫০, নাসায়ী ২৪৪৭, ২৪৫৫, ৫২০১, আবূ দাঊদ ১৫৬৭, ইবনু মাজাহ ১৮০০, আহমাদ ১১৬৭৮, ১২২২৬, ১২২০৯।
৪/০. অধ্যায়ঃ
وَعَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ - رضي الله عنه: أَنَّ النَّبِيَّ - ﷺ - بَعَثَهُ إِلَى الْيَمَنِ, فَأَمَرَهُ أَنْ يَأْخُذَ مِنْ كُلِّ ثَلَاثِينَ بَقَرَةً تَبِيعًا أَوْ تَبِيعَةً, وَمِنْ كُلِّ أَرْبَعِينَ مُسِنَّةً, وَمِنْ كُلِّ حَالِمٍ دِينَارًا أَوْ عَدْلَهُ مُعَافِرَ. رَوَاهُ الْخَمْسَةُ, وَاللَّفْظُ لِأَحْمَدَ, وَحَسَّنَهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَشَارَ إِلَى اِخْتِلَافٍ فِي وَصْلِهِ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ, وَالْحَاكِمُ
নবী (ﷺ) তাঁকে ইয়ামানে পাঠিয়েছিলেন এবং তাঁকে প্রতি ৩০টি গরুর জন্য ১টি তাবী’ (১ বছর বয়সের বকনা বাছুর) গ্রহণ করতে আর প্রতি ৪০টি গরুতে একটি মুসিন্না বা দু-বছরের গাভী অথবা বলদ গ্রহণ করতে বলেছেন। আর প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক অমুসলিমের নিকট হতে এক দিনার বা তার সমমূল্যের মু’আফিরী কাপড় নিতে আদেশ দিয়েছেন। -পাঁচজনে (আহমাদ, আবূ দাঊদ, নাসায়ী, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ), শব্দ বিন্যাস আহমাদের, তিরমিযী এটিকে হাসান বলেছেন এবং এর মাওসুল হওয়ার ব্যাপারে মতভেদের কথা ইঙ্গিত করেছেন; ইবনু হিব্বান ও হাকিম একে সহীহ বলেছেন। [৬৪৪]
[৬৪৪] ইবনু মাজাহ ২০২৭, তিরমিযী ৬২৩, নাসায়ী ২৪৫০, ২৪৫১, ২৪৫৩, ইবনু মাজাহ ১৮০৩, আহমাদ ২১৫০৫, ২১৫২২, ২১৫৭৯, মুওয়াত্তা মালেক ৫৯৮, দারেমী ১৬২৩, ১৬২৪।
৪/০. অধ্যায়ঃ
وَعَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ, عَنْ أَبِيهِ, عَنْ جَدِّهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ: «تُؤْخَذُ صَدَقَاتُ الْمُسْلِمِينَ عَلَى مِيَاهِهِمْ». رَوَاهُ أَحْمَدُ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন-“মুসলমানের (পশু সম্পদের) সদাকাহ আদায় করা হবে পশুর পানি পানের স্থান থেকে। [৬৪৫]
[৬৪৫] আহমাদ ৬৭৪১, ৬৭৪২, ৬৮৯৩, তিরমিযী ১১৮১, নাসায়ী ৩৭৯৪, আবূ দাঊদ ২১৯০, ইবনু মাজাহ ২০৪৭।
وَلِأَبِي دَاوُدَ: «وَلَا تُؤْخَذُ صَدَقَاتُهُمْ إِلَّا فِي دُورِهِمْ
আর আবূ দাউদে আছে “মুসলমানদের যাকাত তাদের ঘর থেকেই গ্রহণ করা হবে। [৬৪৬]
[৬৪৬] আবূ দাঊদ ১৫৯১, আহমাদ ৬৬৯১, ৬৯৭৩, ৫৯৮৫।
৪/০. অধ্যায়ঃ
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ: «لَيْسَ عَلَى الْمُسْلِمِ فِي عَبْدِهِ وَلَا [فِي] فَرَسِهِ صَدَقَةٌ». رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ. وَلِمُسْلِمٍ: لَيْسَ فِي الْعَبْدِ صَدَقَةٌ إِلَّا صَدَقَةُ الْفِطْرِ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ মুসলিমের উপর তার গোলাম ও ঘোড়ার কোন যাকাত নেই। [৬৪৭]
[৬৪৭] বুখারী ১৪৬৩, ১৪৬৪, মুসলিম ৬১৯, ৯৮২, তিরমিযী ৬২৮, নাসায়ী ২৪৬৭, ২৪৬৮, আবূ দাঊদ ১৫৯৪, ১৫৯৫, ইবনু মাজাহ ১৮১২, আহমাদ ৭২৫৩, ৭২৪৯, ৭৪০৫, দারেমী ১৬৩২। মুসলিমে আছেঃ সদাকাতুল্ ফিতর ব্যতীত দাসের কোন সদাকাহ (যাকাত) নেই।
৪/০. অধ্যায়ঃ
وَعَنْ بَهْزِ بْنِ حَكِيمٍ, عَنْ أَبِيهِ, عَنْ جَدِّهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ: «فِي كُلِّ سَائِمَةِ إِبِلٍ: فِي أَرْبَعِينَ بِنْتُ لَبُونٍ, لَا تُفَرَّقُ إِبِلٌ عَنْ حِسَابِهَا, مَنْ أَعْطَاهَا مُؤْتَجِرًا بِهَا فَلَهُ أَجْرُهُ, وَمَنْ مَنَعَهَا فَإِنَّا آخِذُوهَا وَشَطْرَ مَالِهِ, عَزْمَةً مِنْ عَزَمَاتِ رَبِّنَا, لَا يَحِلُّ لِآلِ مُحَمَّدٍ مِنْهَا شَيْءٌ». رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَأَبُو دَاوُدَ, وَالنَّسَائِيُّ, وَصَحَّحَهُ الْحَاكِمُ, وَعَلَّقَ الشَّافِعِيُّ الْقَوْلَ بِهِ عَلَى ثُبُوتِهِ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, মাঠে প্রতিপালিত প্রতি ৪০টি উটের জন্য একটি দু’বছরের উটনী (বিনতু লাবুন)। যাকাতের হিসাবের সময় কোন উট পৃথক করা যাবে না। যে ব্যক্তি সওয়াবের আশায় যাকাত দিবে তার জন্যে রয়েছে নেকী। আর যে অস্বীকৃতি জানাবে তার নিকট হতে আমরা অবশ্যই তা আদায় করে নেব এবং তার সম্পদের একটি বিশেষ অংশও নিব যা আমাদের প্রতিপালকের সম্পদ বলে পরিগণিত। মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর বংশধরের জন্য সে সম্পদ হতে বিন্দুমাত্রও হালাল করা হয়নি। আহমাদ, আবূ দাঊদ ও নাসায়ী। হাকীম একে সহীহ বলেছেন। শাফি’ঈ (রহঃ) বিষয়টিকে প্রামাণিকতা ভিত্তিতে তার পক্ষাবলম্বন করবেন বলে বলেছেন। [৬৪৮]
[৬৪৮] আবূ দাউদ ১৫৭৫, নাসায়ী ২৪৪৪, ২৪৪৯, দারেমী ১৬৭৭। আবূ দাঊদ সুনানু আবী দাঊদে (১৫৭৫) সাকাতা আনহু বলেছেন, এবং তিনি বলেন প্রত্যেক সাকাতু আনহু সহীহ। ইবনু হাযাম মুহাল্লা (৬/৫৭) গ্রন্থে সহীহ নয় বলেছেন। আল খাতীবুল বাগদাদী তারীখুল বাগদাদ (৯/৪৫৪) গ্রন্থে তাতে আব্দুল্লাহ ইবনু হাযির রয়েছেন, দারাকুতনী বলেন, শক্তিশালী নয়। যাহাবী তানকীহুত তাহকীক (১/৩৫৭) গ্রন্থে বাহায নামক রাবীকে মুনকার বলেছেন। আল আইনী উমদাতুল কারী (৯/১৯) গ্রন্থে তাঁর সানাদ সহীহ বলেছেন। শাওকানী নাইলুল আওতার (৪/১৭৯) গ্রন্থে তাতে বাহায নামে একজন রাবী আছে, তার মধ্যে ইখতিলাফ রয়েছে। আহমাদ শাকির মুহাল্লা (৬/৫৭) গ্রন্থে বলেন, তাতে বাহায ইবনু হাকীম রয়েছে, তার পিতা হতে বর্ণনা করেছেন, ইবনু হাযাম বলেন, বাহায ইবনু হাকীম আদালতের ক্ষেত্রে মাশহুর নয় এবং তার পিতা হাকীম অনুরূপ, (আমি বলছি) বরং বাহয ও তার পিতা সিকাহ। আলবানী নাকদুন নুসূস (৫৯) গ্রন্থে বলেছেন তার সানাদ হাসান। আলবানী সহীহ আল জামি’ (৪২৬৫) গ্রন্থে হাসান বলেছেন।
৪/০. অধ্যায়ঃ
وَعَنْ عَلِيٍّ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ: «إِذَا كَانَتْ لَكَ مِائَتَا دِرْهَمٍ - وَحَالَ عَلَيْهَا الْحَوْلُ - فَفِيهَا خَمْسَةُ دَرَاهِمَ, وَلَيْسَ عَلَيْكَ شَيْءٌ حَتَّى يَكُونَ لَكَ عِشْرُونَ دِينَارًا, وَحَالَ عَلَيْهَا الْحَوْلُ, فَفِيهَا نِصْفُ دِينَارٍ, فَمَا زَادَ فَبِحِسَابِ ذَلِكَ, وَلَيْسَ فِي مَالٍ زَكَاةٌ حَتَّى يَحُولَ عَلَيْهِ الْحَوْلُ». رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ, وَهُوَ حَسَنٌ, وَقَدِ اخْتُلِفَ فِي رَفْعِهِ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন-তোমার নিকট দুইশত দিরহাম জমা হবার পর গচ্ছিত থাকার মেয়াদ বছর পূর্ণ হলে তার জন্য-পাঁচ দিরহাম (যাকাত)। আর বিশটি দিনার এক বছর যাবত জমা থাকলে তার জন্য অর্ধ দিনার (যাকাত)। তার চেয়ে কম যাকাত নেই। আর বেশি হলে তার হিসাব অনুপাতে (যাকাত) দিতে হবে। নিসাব পরিমাণ কোন সম্পদের (গচ্ছিত থাকার) মেয়াদ এক বছর অতিবাহিত না হলে যাকাত নেই। -এটার সানাদ হাসান। এর সানাদের মারফূ‘ হওয়া সম্বন্ধে ইমামগণের মতানৈক্য রয়েছে। [৬৪৯] (স্বর্ণমুদ্রা হচ্ছে দিনার আর রৌপ্যমুদ্রা হচ্ছে দিরহাম) [৬৫০]
[৬৪৯] হাদীসটি ইমাম দারাকুতনী স্থগিত করার দ্বারা দুর্বল বলে আখ্যায়িত করলেও ইমাম বুখারী তা সহীহ বলেছেন।[৬৫০] আবূ দাঊদ ১৫৭৩, ১৫৭৪, তিরমিযী ৬২০, নাসায়ী ২৪৭৭, ২৪৭৮, ইবনু মাজাহ ১৭৯০, আহমাদ ৭১৩, ৯১৫, ১২৭০, দারেমী ১৬২৯।
وَلِلتِّرْمِذِيِّ; عَنِ ابْنِ عُمَرَ: «مَنِ اسْتَفَادَ مَالًا, فَلَا زَكَاةَ عَلَيْهِ حَتَّى يَحُولَ الْحَوْلُ». وَالرَّاجِحُ وَقْفُهُ
তিরমিযীতে আছে-কারো কোন সম্পদ সঞ্চিত হলে তার গচ্ছিত অবস্থার উপর একটি বছর অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তার জন্য যাকাত ফরজ হয় না। এর সানাদের মাওকুফ হওয়াটাই অগ্রগণ্য। [৬৫১]
[৬৫১] তিরমিযী ৬৩১, ৬৩২, মুওয়াত্তা মালেক ৬৫৭।
৪/০. অধ্যায়ঃ
وَعَنْ عَلِيٍّ - رضي الله عنه - قَالَ: «لَيْسَ فِي الْبَقَرِ الْعَوَامِلِ صَدَقَةٌ». رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ, وَالدَّارَقُطْنِيُّ, وَالرَّاجِحُ وَقْفُهُ أَيْضًا
কাজে নিয়োজিত গরুর কোন যাকাত নেই। -আবূ দাঊদ, দারাকুৎনী। এরও মাওকূফ হওয়াটা অগ্রগণ্য। [৬৫২]
[৬৫২] আবূ দাঊদ ১৫৭৩, ১৫৭৪, তিরমিযী ৬২০, নাসায়ী ২৪৭৭, ২৪৭৭৮, ইবনু মাজাহ ১৭৯০, আহমাদ ৯১৩, ৯১৫, দারেমী ১৬২৯।