১০/৩. অধ্যায়ঃ
বুলুগুল মারাম হাদিস ১২৩২ - খিয়ানত ও ছিনতাইয়ে হাত কাটার বিধান নয়
চুরির দণ্ড - আমানতের খিয়ানতকারী, ছিনতাইকারী এবং লুন্ঠনকারীর হাত কাটা যাবে না
খিয়ানত, ছিনতাই ও লুণ্ঠন: চুরির দণ্ড থেকে পার্থক্য
বুলুগুল মারাম : ১২৩২
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ১২৩২
وَعَنْ جَابِرٍ - رضي الله عنه -، عَنِ النَّبِيِّ - ﷺ - قَالَ: «لَيْسَ عَلَى خَائِنٍ وَلَا مُنْتَهِبٍ، وِلَا مُخْتَلِسٍ، قَطْعٌ». رَوَاهُ أَحْمَدُ، وَالْأَرْبَعَةُ، وَصَحَّحَهُ التِّرْمِذِيُّ، وَابْنُ حِبَّانَ
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেন, আমানতের খিয়ানতকারী ও ছিনতাইকারী, লুণ্ঠনকারীর হাত কাটা যাবে না। [১৩৩৮]
[১৩৩৮] তিরমিযী ১৪৪৮, নাসায়ী ৪৯৭১, ৪৯৭২, ৪৯৭৩, আবু দাউদ ৪৩৯১, ৪৩৯২, ইবনু মাজাহ ২৫৯১, আহমাদ ১৪৬৬২, দারেমী ২৩১০।
বুলুগুল মারাম হাদিস ১২৩২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমানতের খিয়ানতকারী, ছিনতাইকারী এবং লুণ্ঠনকারীর হাত কাটা যাবে না। এখানে মূল শিক্ষা হলো, সব ধরনের অন্যায়ভাবে মাল নেওয়া একই বিচারিক শিরোনামে পড়ে না। খিয়ানত, ছিনতাই, লুণ্ঠন এবং চুরি—এসবের মধ্যে পার্থক্য আছে। হাদিসটি চুরির দণ্ড বুঝতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমারেখা দেয়। এর মানে এই নয় যে খিয়ানত বা ছিনতাই হালকা বিষয়; বরং এই নির্দিষ্ট হাদিসে শুধু বলা হয়েছে, এসব ক্ষেত্রে হাত কাটার দণ্ড নেই। তাই ইসলামী দণ্ডবিধি নিয়ে আলোচনা করলে অপরাধের ধরন ভালোভাবে আলাদা করা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অপরাধের ধরন আলাদা হলে বিচারিক বিধানও আলাদা হতে পারে।
- খিয়ানত, ছিনতাই ও লুণ্ঠন চুরির নির্দিষ্ট দণ্ড থেকে পৃথকভাবে আলোচিত।
- হাদিসের বক্তব্যকে তার নির্দিষ্ট সীমার মধ্যেই বোঝা উচিত।
