১৫/১৮. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৪৪৮ - আত্মসাৎ ও ছিনতাইয়ে হাত কাটার দণ্ড নেই
আত্মসাৎকারী, ছিনতাইকারী ও লুণ্ঠনকারীদের প্রসঙ্গে
আত্মসাৎ, লুণ্ঠন ও ছিনতাইয়ের দণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৪৪৮
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৪৪৮
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ خَشْرَمٍ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ «لَيْسَ عَلَى خَائِنٍ وَلاَ مُنْتَهِبٍ وَلاَ مُخْتَلِسٍ قَطْعٌ» .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ . وَقَدْ رَوَاهُ مُغِيرَةُ بْنُ مُسْلِمٍ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ نَحْوَ حَدِيثِ ابْنِ جُرَيْجٍ . وَمُغِيرَةُ بْنُ مُسْلِمٍ هُوَ بَصْرِيٌّ أَخُو عَبْدِ الْعَزِيزِ الْقَسْمَلِيِّ كَذَا قَالَ عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ .
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আত্মসাৎকারী, লুণ্ঠনকারী ও ছিনতাইকারীর ব্যাপারে হাত কেটে ফেলার দণ্ড নেই।
এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। বিশেষজ্ঞ আলিমগণ মনে করেন, এ হাদীস মোতাবেক আমল করতে হবে। ইবনু জুরাইজের সূত্রে বর্ণিত হাদীসের মত হাদীস মুগীরা ইবনু মুসলিম-আবূ যুবাইর ও জাবির (রাঃ) হতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সূত্রে বর্ণিত আছে। আলী ইবনুল মাদীনীর বক্তব্য অনুযায়ী মুগীরা ইবনু মুসলিম আল-বাসরী (রহঃ) আবদুল আযীয আল-কাসমালীর ভাই।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৪৪৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো চুরি, আত্মসাৎ, লুণ্ঠন ও ছিনতাইয়ের মধ্যে বিচারিক পার্থক্য। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, আত্মসাৎকারী, লুণ্ঠনকারী এবং ছিনতাইকারীর ওপর হাত কাটার দণ্ড নেই। এর অর্থ এই নয় যে কাজগুলো বৈধ বা শাস্তিহীন; বরং এই নির্দিষ্ট দণ্ডটি তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়—হাদিসে এতটুকুই বলা হয়েছে। তাই ‘হাত কাটা নেই’ কথাকে ‘কোনো অপরাধ নেই’ হিসেবে বোঝা যাবে না। বর্ণনাটি অপরাধের ধরন সঠিকভাবে চিহ্নিত করার গুরুত্ব দেখায়। গোপন চুরি, প্রকাশ্য লুট এবং বিশ্বাসভঙ্গ এক নামে বিচার করা হয়নি। ইসলামী স্কলারদের মতে, কোন অপরাধে কোন দণ্ড হবে তা আদালত প্রমাণ ও আইনি শর্ত দেখে নির্ধারণ করে; ব্যক্তি নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আত্মসাৎ, লুণ্ঠন ও ছিনতাইকে গোপন চুরির সঙ্গে এক করা হয়নি।
- এই তিন ক্ষেত্রে হাত কাটার নির্দিষ্ট দণ্ড নেই বলে হাদিসে এসেছে।
- নির্দিষ্ট দণ্ড না থাকা মানে অপরাধ বৈধ হওয়া নয়।
- অপরাধের ধরন ঠিকভাবে নির্ধারণ করা বিচারিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
