১৫/২০. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৪৫০ - সামরিক অভিযানে হাত কাটার দণ্ড স্থগিত
সামরিক অভিযান চলাকালে হাত কাটা যাবে না
সামরিক অভিযানে চুরির দণ্ড স্থগিত রাখার বিধান
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৪৫০
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৪৫০
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ عَيَّاشِ بْنِ عَبَّاسٍ الْمِصْرِيِّ، عَنْ شُيَيْمِ بْنِ بَيْتَانَ، عَنْ جُنَادَةَ بْنِ أَبِي أُمَيَّةَ، عَنْ بُسْرِ بْنِ أَرْطَاةَ، قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ ﷺ يَقُولُ «لاَ تُقْطَعُ الأَيْدِي فِي الْغَزْوِ» .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ . وَقَدْ رَوَى غَيْرُ ابْنِ لَهِيعَةَ بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَ هَذَا . وَيُقَالُ بُسْرُ بْنُ أَبِي أَرْطَاةَ أَيْضًا . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْهُمُ الأَوْزَاعِيُّ لاَ يَرَوْنَ أَنْ يُقَامَ الْحَدُّ فِي الْغَزْوِ بِحَضْرَةِ الْعَدُوِّ مَخَافَةَ أَنْ يَلْحَقَ مَنْ يُقَامُ عَلَيْهِ الْحَدُّ بِالْعَدُوِّ فَإِذَا خَرَجَ الإِمَامُ مِنْ أَرْضِ الْحَرْبِ وَرَجَعَ إِلَى دَارِ الإِسْلاَمِ أَقَامَ الْحَدَّ عَلَى مَنْ أَصَابَهُ . كَذَلِكَ قَالَ الأَوْزَاعِيُّ .
বুসর ইবনু আরতাত (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ সামরিক অভিযান চলা অবস্থায় হাত কাটা যাবে না।
এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা গারীব বলেছেন। এই সনদসূত্রে ইবনু লাহীআ ছাড়া অন্যান্য বর্ণনাকারীগণও একইরকম বর্ণনা করেছেন। বুসর ইবনু আরতাত (রাঃ) বুসর ইবনু আবী আরতাত নামেও পরিচিত। এ হাদীস মোতাবেক কিছু বিশেষজ্ঞ আলিম আমল করেছেন। আওযাঈ তাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত আছেন। তারা মনে করেন, যুদ্ধ চলা অবস্থায় এবং শত্রু বাহিনীর উপস্থিতিতে হাদ্দ কার্যকর করা স্থগিত রাখতে হবে। কেননা অভিযুক্ত লোকটি শাস্তির ভয়ে পালিয়ে শত্রু বাহিনীর সাথে যোগ দিতে পারে। যুদ্ধক্ষেত্র হতে দেশে ফিরার পর ইমাম শাস্তিযোগ্য লোকের উপর হাদ্দ বাস্তবায়ন করবেন। ইমাম আওযাঈ এরকমটিই বলেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৪৫০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় সামরিক অভিযান চলাকালে হাত কাটার দণ্ড কার্যকর না করা। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর বক্তব্য হিসেবে এসেছে, অভিযানের মধ্যে হাত কাটা যাবে না। বর্ণনার ব্যাখ্যায় কিছু আলিম বলেছেন, শত্রুর সামনে শাস্তি দিলে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি শত্রুপক্ষে চলে যেতে পারে—এই আশঙ্কায় যুদ্ধক্ষেত্রে হুদুদ স্থগিত রাখা হয়। তবে মুসলিম ভূখণ্ডে ফিরে এলে অপরাধের বিচার করা হবে। এতে বোঝা যায়, শাস্তি বাতিল করা নয়; সময়, স্থান ও সম্ভাব্য ফল বিবেচনা করে প্রয়োগ স্থগিত রাখার কথা বলা হয়েছে। হাদিসটি বিচারিক দূরদর্শিতা ও পরিস্থিতি মূল্যায়নের শিক্ষা দেয়। ইসলামী স্কলারদের মতে, যুদ্ধ ও দণ্ডবিধির সিদ্ধান্ত অনুমোদিত রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের বিষয়; কোনো ব্যক্তি বা দল নিজে তা প্রয়োগ করতে পারে না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সামরিক অভিযান চলাকালে হাত কাটার দণ্ড কার্যকর না করার নির্দেশ এসেছে।
- এটি শাস্তি বাতিল নয়, বরং পরিস্থিতির কারণে স্থগিত রাখা।
- শত্রুপক্ষে চলে যাওয়ার আশঙ্কা বিবেচনার কথা ব্যাখ্যায় এসেছে।
- যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফেরার পর বিচার কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে।
