১৫/১৩. অধ্যায়ঃ

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৪৪১ - হুদুদ প্রয়োগে মানবিক সতর্কতা

ক্রীতদাসীদের উপর হাদ্দ প্রতিষ্ঠিত করা

হুদুদ প্রয়োগে মানবিক সতর্কতা ও জীবন রক্ষার গুরুত্ব

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৪৪১

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلاَّلُ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا زَائِدَةُ بْنُ قُدَامَةَ، عَنِ السُّدِّيِّ، عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ، قَالَ خَطَبَ عَلِيٌّ فَقَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ أَقِيمُوا الْحُدُودَ عَلَى أَرِقَّائِكُمْ مَنْ أَحْصَنَ مِنْهُمْ وَمَنْ لَمْ يُحْصِنْ وَإِنَّ أَمَةً لِرَسُولِ اللَّهِ ﷺ زَنَتْ فَأَمَرَنِي أَنْ أَجْلِدَهَا فَإِذَا هِيَ حَدِيثَةُ عَهْدٍ بِنِفَاسٍ فَخَشِيتُ إِنْ أَنَا جَلَدْتُهَا أَنْ أَقْتُلَهَا - أَوْ قَالَ تَمُوتَ - فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ " أَحْسَنْتَ " .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ. وَالسُّدِّيُّ اسْمُهُ إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَهُوَ مِنَ التَّابِعِينَ قَدْ سَمِعَ مِنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ وَرَأَى حُسَيْنَ بْنَ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضى الله عنه .

আবূ আবদুর রাহমান আস-সুলামী (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

আলী (রাঃ) তার বক্তৃতায় বলেন, হে মানব মন্ডলী! তোমাদের গোলামদের উপর হাদ্দ প্রতিষ্ঠিত কর, তারা বিবাহিত হোক অথবা অবিবাহিত যেটাই হোক। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর একজন দাসী যিনা করলে তাকে চাবুক পিটানোর জন্য তিনি আমাকে হুকুম করেন। আমি তার নিকট এসে দেখলাম, সে এইমাত্র সন্তান প্রসব করেছে। আমার ভয় হল, আমি যদি তাকে চাবুক পেটা করি তাহলে হয়ত তাকে হত্যা করে ফেলব অথবা বলেছেন, সে মরে যেতে পারে। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট ফিরে এসে বিষয়টি তাঁকে অবহিত করলাম। তিনি বলেনঃ (তার শাস্তি স্থগিত রেখে) তুমি ভালই করেছ।

এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। সুদ্দীর নাম ইসমাঈল, পিতা আবদুর রাহমান, তিনি তাবিঈদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে হাদীস শ্রবণ করেছেন এবং হুসাইন ইবনু আলী ইবনি আবী তালিবকে দেখেছেন।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৪৪১-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসের মূল বিষয় হলো হুদুদ প্রয়োগে সতর্কতা এবং মানুষের জীবন রক্ষা। আলী (রাঃ)-কে একটি দাসীর ওপর যিনার শাস্তি কার্যকর করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি দেখলেন, নারীটি সদ্য সন্তান প্রসব করেছে। এ অবস্থায় চাবুক মারা হলে তার মৃত্যু হতে পারে—এই আশঙ্কায় তিনি শাস্তি কার্যকর না করে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে ফিরে গেলেন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁর সিদ্ধান্তকে ভালো বলেছেন। এতে বোঝা যায়, শাস্তির নির্দেশ থাকলেও ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা উপেক্ষা করা হয়নি। সম্ভাব্য প্রাণহানি এড়াতে শাস্তি স্থগিত রাখা হয়েছিল। হাদিসটি বিচারিক সিদ্ধান্তে তাড়াহুড়া না করা, বাস্তব অবস্থা যাচাই করা এবং ক্ষতি ঠেকানোর গুরুত্ব শেখায়। ইসলামী স্কলারদের মতে, হুদুদ কোনো ব্যক্তির নিজ উদ্যোগে প্রয়োগের বিষয় নয়; এটি বৈধ বিচারিক কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • শাস্তি কার্যকরের আগে অভিযুক্ত ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা যাচাই করা জরুরি।
  • প্রাণহানির আশঙ্কা থাকলে তাড়াহুড়া না করে সিদ্ধান্ত স্থগিত করা যায়।
  • আলী (রাঃ)-এর সতর্ক সিদ্ধান্তকে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ভালো বলেছেন।
  • বিচারিক শাস্তিতে ন্যায়বিচারের পাশাপাশি ক্ষতি এড়ানোর দিকও দেখা হয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন