১৫/২২. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৪৫৩ - ধর্ষণের শিকার নারীর ওপর হাদ্দ নেই
জোরপূর্বক যে নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে
ধর্ষণের শিকার নারীর দায় নেই, অপরাধীর ওপর শাস্তি
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৪৫৩
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৪৫৩
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، حَدَّثَنَا مُعَمَّرُ بْنُ سُلَيْمَانَ الرَّقِّيُّ، عَنِ الْحَجَّاجِ بْنِ أَرْطَاةَ، عَنْ عَبْدِ الْجَبَّارِ بْنِ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ اسْتُكْرِهَتِ امْرَأَةٌ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَدَرَأَ عَنْهَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ الْحَدَّ وَأَقَامَهُ عَلَى الَّذِي أَصَابَهَا وَلَمْ يُذْكَرْ أَنَّهُ جَعَلَ لَهَا مَهْرًا .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ وَلَيْسَ إِسْنَادُهُ بِمُتَّصِلٍ وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ غَيْرِ هَذَا الْوَجْهِ . قَالَ سَمِعْتُ مُحَمَّدًا يَقُولُ عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ أَبِيهِ وَلاَ أَدْرَكَهُ يُقَالُ إِنَّهُ وُلِدَ بَعْدَ مَوْتِ أَبِيهِ بِأَشْهُرٍ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ وَغَيْرِهِمْ أَنْ لَيْسَ عَلَى الْمُسْتَكْرَهَةِ حَدٌّ .
ওয়াইল ইবনু হুজর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি (ওয়াইল ইবনু হুজর) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে একটি স্ত্রীলোককে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্ত্রীলোকটিকে হাদ্দ (যেনার শাস্তি) হতে মুক্তি দেন, কিন্তু তার ধর্ষণকারীর উপর হাদ্দ (যেনার শাস্তি) কার্যকর করেন। তিনি তার জন্য মোহর নির্ধারণ করেছেন কি-না রাবী তা বর্ণনা করেন নি।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৪৫৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় ধর্ষণের শিকার নারীর নির্দোষতা এবং অপরাধীর দায়। ওয়াইল ইবন হুজর (রাঃ)-এর বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর যুগে এক নারীকে জোর করে ধর্ষণ করা হয়েছিল। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) নারীর ওপর যিনার হাদ্দ কার্যকর করেননি, কারণ সে বাধ্য ও নির্যাতিত ছিল। বরং যে ব্যক্তি তাকে ধর্ষণ করেছে, তার ওপর শাস্তি কার্যকর করা হয়েছে। বর্ণনাকারী জানাননি, নারীর জন্য মাহর নির্ধারণ করা হয়েছিল কি না। হাদিসটি স্পষ্ট করে যে, জোরপূর্বক অপরাধের শিকারকে স্বেচ্ছায় করা অপরাধীর মতো দেখা যাবে না। ভুক্তভোগীর ওপর দোষ চাপানো এই বর্ণনার সঙ্গে মেলে না। একই সঙ্গে এটি বিচার, প্রমাণ ও অপরাধীর দায়ের বিষয়। ইসলামী স্কলারদের মতে, এমন মামলা আইনসম্মত আদালত ও তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জোরপূর্বক ধর্ষণের শিকার নারীর ওপর যিনার হাদ্দ নেই।
- অপরাধীর ওপর দায় ও শাস্তি আরোপ করা হয়েছে।
- বাধ্য হওয়া এবং স্বেচ্ছায় অপরাধ করা এক নয়।
- ভুক্তভোগীর ওপর অপরাধের দায় চাপানো যাবে না।
