১৫/২১. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৪৫২ - অবৈধ সম্পর্কের হাদিসে সনদ ও মতভেদ
কোন লোক নিজ স্ত্রীর বাঁদীর উপর পতিত হলে (সংগম করলে)
স্ত্রীর দাসীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক: সনদ ও ফিকহি মতভেদ
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৪৫২
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৪৫২
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ سَالِمٍ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، نَحْوَهُ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الْمُحَبَّقِ، . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ النُّعْمَانِ فِي إِسْنَادِهِ اضْطِرَابٌ . قَالَ سَمِعْتُ مُحَمَّدًا يَقُولُ لَمْ يَسْمَعْ قَتَادَةُ مِنْ حَبِيبِ بْنِ سَالِمٍ هَذَا الْحَدِيثَ إِنَّمَا رَوَاهُ عَنْ خَالِدِ بْنِ عُرْفُطَةَ . وَيُرْوَى عَنْ قَتَادَةَ أَنَّهُ قَالَ كَتَبَ بِهِ إِلَىَّ حَبِيبُ بْنُ سَالِمٍ . وَأَبُو بِشْرٍ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ حَبِيبِ بْنِ سَالِمٍ هَذَا أَيْضًا إِنَّمَا رَوَاهُ عَنْ خَالِدِ بْنِ عُرْفُطَةَ .قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدِ اخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي الرَّجُلِ يَقَعُ عَلَى جَارِيَةِ امْرَأَتِهِ فَرُوِيَ عَنْ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ مِنْهُمْ عَلِيٌّ وَابْنُ عُمَرَ أَنَّ عَلَيْهِ الرَّجْمَ . وَقَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ لَيْسَ عَلَيْهِ حَدٌّ وَلَكِنْ يُعَزَّرُ . وَذَهَبَ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ إِلَى مَا رَوَى النُّعْمَانُ بْنُ بَشِيرٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ .
আলী ইবনু হুজর-হুশাইম হতে বর্ণিতঃ
আলী ইবনু হুজর-হুশাইম হতে, তিনি আবূ বিশর হতে, তিনি হাবীব ইবনু সালিম হতে, তিনি নুমান ইবনু বাশীর (রাঃ) হতে (উপরের হাদীসের) একই রকম বর্ণনা করেছেন। -দেখুন পূর্বের হাদীস কাতাদা (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ এ প্রসঙ্গে হাবীব ইবনু সালিমের নিকট লিখা হয়েছিল। আবূ বিশর এ হাদীসটি হাবীব ইবনু সালিমের নিকট হতে শুনেননি। তিনি এটা খালিদ ইবনু উরফুতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এ অনুচ্ছেদে সালামা ইবনুল মুহাব্বাক (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।আবূ ঈসা বলেন, নুমান (রাঃ) বর্ণিত হাদীসের সনদে অস্থিরতা আছে। তিনি আরও বলেন, আমি মুহাম্মাদ (বুখারী)-কে বলতে শুনেছি যে, কাতাদা এ হাদীসটি হাবীব ইবনু সালিম হতে শুনেননি। তিনি খালিদ ইবনু উরফুতা (রহঃ) হতে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। যে ব্যক্তি নিজ স্ত্রীর ক্রীতদাসীর সাথে যেনা করে তার শাস্তি প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞ আলিমদের মাঝে মতের অমিল আছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর একাধিক বিশেষজ্ঞ সাহাবী, যেমন আলী ও ইবনু উমর (রাঃ)-এর মতে, তাকে রজম (পাথর মেরে হত্যা) করতে হবে। ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেন, তার উপর হাদ্দ কার্যকর হবে না, বরং তাকে তাযীরের আওতায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। ইমাম আহ্মাদ ও ইসহাক (রহঃ) নুমান (রাঃ)-এর হাদীসের বক্তব্য অনুযায়ী মত দিয়েছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৪৫২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় আগের বর্ণনার সনদ এবং শাস্তি নিয়ে আলিমদের মতভেদ। এখানে একই ঘটনার আরেকটি সূত্র দেওয়া হয়েছে, কিন্তু আবু ঈসা বলেছেন, নুমান ইবন বশীর (রাঃ)-এর বর্ণনার সনদে অস্থিরতা আছে। ইমাম বুখারীর বক্তব্যও উদ্ধৃত হয়েছে যে, কাতাদা সরাসরি হাবীব ইবন সালিম থেকে এটি শোনেননি। এরপর শাস্তি নিয়ে ভিন্ন মত উল্লেখ করা হয়েছে। আলী ও ইবন উমর (রাঃ)-এর দিকে রজমের মত বর্ণিত হয়েছে। ইবন মাসউদ (রাঃ) বলেছেন, নির্ধারিত হাদ্দ নয়; বরং তা’যীরমূলক শাস্তি হবে। আহমাদ ও ইসহাক নুমান (রাঃ)-এর বর্ণনা অনুযায়ী মত দিয়েছেন। তাই এই হাদিসের বড় শিক্ষা হলো, সনদ ও আলিমদের মতভেদ না জেনে কঠোর সিদ্ধান্ত দেওয়া ঠিক নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বর্ণনাটির সনদে অস্থিরতা আছে বলে আবু ঈসা উল্লেখ করেছেন।
- কাতাদার সরাসরি শ্রবণ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
- শাস্তির ধরন নিয়ে সাহাবি ও আলিমদের মধ্যে ভিন্ন মত ছিল।
- মতভেদের বিষয়কে একমাত্রিকভাবে উপস্থাপন করা ঠিক নয়।
