১০/৪. অধ্যায়ঃ
বুলুগুল মারাম হাদিস ১২৪২ - মদের হদ্দ ও সাহাবিদের ফায়সালা
মদ্যপানকারীর শাস্তি এবং নিশাজাতীয় দ্রব্যের বর্ণনা - সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে শাস্তির হুকুম
মদ পানকারীর হদ্দ: চল্লিশ ও আশি কোড়ার বর্ণনা
বুলুগুল মারাম : ১২৪২
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ১২৪২
وَلِمُسْلِمٍ: عَنْ عَلِيٍّ - رضي الله عنه - فِي قِصَّةِ الْوَلِيدِ بْنِ عَقَبَةَ - جَلَدَ النَّبِيُّ - ﷺ - أَرْبَعِينَ, وَأَبُو بَكْرٍ أَرْبَعِينَ, وَعُمَرُ ثَمَانِينَ, وَكُلٌّ سُنَّةٌ, وَهَذَا أَحَبُّ - إِلَيَّ. وَفِي هَذَا الْحَدِيثِ: أَنَّ رَجُلًا شَهِدَ عَلَيْهِ أَنَّهُ رَآهُ يَتَقَيَّأْ الْخَمْرَ, فَقَالَ عُثْمَانُ: إِنَّهُ لَمْ يَتَقَيَّأْهَا حَتَّى شَرِبَهَا
আলী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) ৪০ কোড়া মেরেছেন, আবু বাকার (রাঃ) ও ৪০ কোড়া মেরেছেন, উমর (রাঃ) ৮০ কোড়া মেরেছেন, আলী (রাঃ) বলেনঃ এগুলো সবই সুন্নত (সঠিক)। কিন্তু ৮০ কোড়া মারা আমার নিকট অধিক প্রিয় (বুখারীর বর্ণনায় ৮০ কোড়া মারার কথা আছে)। এ হাদীসে আরো আছে কোন একজন লোক তার বিরুদ্ধে সাক্ষী দিয়েছিল, সে মদ বমি করেছিল। ফলে উসমান (রাঃ) বলেনঃ সে মদ খেয়েছে বলেই তো মদ বমি করেছে। [১৩৪৮]
[১৩৪৮] আবু দাউদ ৪৪৮০, ৪৪৮১, ইবনু মাজাহ ২৫৭১, আহমাদ ১০২৭, ১২৩৪, দারেমী ২৩১২, মুসলিম ১৭০৭।
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- শিহাবুদ্দীন আহমাদ বিন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আলী বিন মাহমুদ বিন আহমাদ বিন হাজার বিন আহমাদ আল আসকালানী আল কিনানী
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
বুলুগুল মারাম হাদিস ১২৪২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মদ পানকারীর দণ্ড নিয়ে সাহাবিদের আমল তুলে ধরা হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চল্লিশ কোড়া মেরেছেন, আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুও চল্লিশ কোড়া মেরেছেন, আর উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু আশি কোড়া মেরেছেন। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এগুলো সবই সুন্নত বা সঠিক। তবে তাঁর কাছে আশি কোড়া বেশি প্রিয় ছিল। হাদিসে আরও এসেছে, এক ব্যক্তি কারও বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছিল যে সে মদ বমি করেছে। তখন উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, সে মদ খেয়েছে বলেই মদ বমি করেছে। এখানে মদের হদ্দ, সাক্ষ্য এবং বাস্তব লক্ষণ—সব বিষয় সংক্ষেপে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মদ পানকারীর শাস্তি সাহাবিদের আমলে গুরুত্বের সঙ্গে কার্যকর ছিল।
- চল্লিশ ও আশি—উভয় দণ্ডের বর্ণনা হাদিসে এসেছে।
- সাক্ষ্য ও বাস্তব প্রমাণ বিচারিক বিষয়ে গুরুত্ব পেতে পারে।
- সাহাবিরা শরীয়তের দণ্ড নিয়ে হালকাভাবে সিদ্ধান্ত নিতেন না।
