১০/৪. অধ্যায়ঃ
বুলুগুল মারাম হাদিস ১২৪১ - মদ পানকারীর শাস্তি ও শরীয়তের দণ্ড
মদ্যপানকারীর শাস্তি এবং নিশাজাতীয় দ্রব্যের বর্ণনা - মদ পানকারীর শাস্তি
মদ পানকারীর শাস্তি: হাদ্দ প্রয়োগে নবীজির আমল
বুলুগুল মারাম : ১২৪১
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ১২৪১
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ - رضي الله عنه: أَنَّ النَّبِيَّ - ﷺ - أَتَى بِرَجُلٍ قَدْ شَرِبَ الْخَمْرَ, فَجَلَدَهُ بِجَرِيدَتَيْنِ نَحْوَ أَرْبَعِينَ. قَالَ: وَفَعَلَهُ أَبُو بَكْرٍ, فَلَمَّا كَانَ عُمَرُ اسْتَشَارَ النَّاسَ, فَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ: أَخَفَّ الْحُدُودِ ثَمَانُونَ, فَأَمَرَ بِهِ عُمَرُ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
মদ পানকারী এ ব্যক্তিকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকটে নিয়ে আসা হলো। তিনি তাকে দু’খানা ছড়ি (এক যোগে ধরে তার) দ্বারা চল্লিশের মত কোড়া মারলেন। আনাস (রাঃ) বলেনঃ ১ম খলিফা আবু বাকর (রাঃ) এরূপ কোড়া মেরেছেন, উমর (রাঃ) তার খিলাফতকালে এ ব্যাপারে লোকদের সাথে পরামর্শ করলেন। আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রাঃ) বলেনঃ সর্বাপেক্ষা হালকা শাস্তি হচ্ছে আশি (কোড়া)। ‘উমর (রাঃ) ঐ (৮০-র) আদেশই জারি করলেন। [১৩৪৭]
[১৩৪৭] বুখারী ৬৭৭৩, ৬৭৭৬, মুসলিম ১৭০৬, তিরমিযী ১৪৪৩, আবু দাউদ ৪৪৭৯, ইবনু মাজাহ ২৫৭০, আহমাদ ১১৭২৯, ১২৩৯৪, ১২৪৪৪, দারেমী ২৩১১।
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- শিহাবুদ্দীন আহমাদ বিন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আলী বিন মাহমুদ বিন আহমাদ বিন হাজার বিন আহমাদ আল আসকালানী আল কিনানী
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
বুলুগুল মারাম হাদিস ১২৪১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মদ পানকারীর শাস্তি বা হাদ্দ সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বর্ণনা এসেছে। একজন মদ পানকারীকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আনা হলে তিনি তাকে দুইটি ছড়ি দিয়ে চল্লিশের মতো কোড়া মারেন। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু জানান, আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুও একইভাবে শাস্তি দিয়েছেন। পরে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর খিলাফতকালে মানুষের সঙ্গে পরামর্শ করেন। আবদুর রহমান ইবনু আওফ রাদিয়াল্লাহু আনহু আশি কোড়াকে হালকা হদ্দ হিসেবে উল্লেখ করলে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু সেটিই জারি করেন। এখানে মূল শিক্ষা হলো, মদ পানকে শরীয়ত গুরুতর অপরাধ হিসেবে দেখেছে এবং শাস্তি নির্ধারণে নবীজির আমল ও সাহাবিদের পরামর্শ গুরুত্ব পেয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মদ পানকে শরীয়ত শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে দেখিয়েছে।
- দণ্ড প্রয়োগে নবীজির আমল সাহাবিদের জন্য পথনির্দেশ ছিল।
- গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শাসকের পরামর্শ গ্রহণের দৃষ্টান্ত এখানে আছে।
- শাস্তি প্রয়োগ ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নয়, বরং শরীয়তের নিয়মের অধীন।
