১০/৪. অধ্যায়ঃ
বুলুগুল মারাম হাদিস ১২৪৮ - প্রত্যেক নেশাজাতীয় বস্তু হারাম
মদ্যপানকারীর শাস্তি এবং নিশাজাতীয় দ্রব্যের বর্ণনা - মদের প্রকৃত অর্থ
প্রত্যেক নেশাজাতীয় বস্তু হারাম: খামরের সহজ সংজ্ঞা
বুলুগুল মারাম : ১২৪৮
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ১২৪৮
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا; عَنِ النَّبِيِّ - ﷺ - قَالَ: «كُلُّ مُسْكِرٍ خَمْرٌ, وَكُلُّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ». أَخْرَجَهُ مُسْلِمُ
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেনঃ প্রত্যেক নেশা আনয়নকারী বস্তু খামর (মাদক) আর প্রত্যেক নেশা আনয়নকারী বস্তু হারাম। [১৩৫৪]
[১৩৫৪] বুখারী ৫৫৭৫, মুসলিম ২০০৩, তিরমিযী ১৮৬৯, নাসায়ী ৫৬৭১, ৫৬৭৩, ৫৬৭৪, আবূ দাঊদ ৩৬৭৯, ইবনু মাজাহ ৩৩৭৩, ৩৩৯০, আহমাদ ৪৬৩০, ৪৬৭৬, ৪৭১৫, মালেক ১৫৯৭, দারেমী ২০৯০।
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- শিহাবুদ্দীন আহমাদ বিন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আলী বিন মাহমুদ বিন আহমাদ বিন হাজার বিন আহমাদ আল আসকালানী আল কিনানী
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
বুলুগুল মারাম হাদিস ১২৪৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুব পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন, প্রত্যেক নেশা আনয়নকারী বস্তু খামর, আর প্রত্যেক নেশা আনয়নকারী বস্তু হারাম। এটি মদ ও মাদক বিষয়ে একটি সহজ ও শক্তিশালী মূলনীতি। এখানে কোনো নির্দিষ্ট পানীয়ের নাম ধরে কথা বলা হয়নি; বরং নেশা সৃষ্টি করে এমন সব কিছুর ওপর বিধানটি এসেছে। তাই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, নাম বা রূপ বদলালেও যদি বস্তুটি নেশা আনে, তাহলে সেটি খামরের অর্থে পড়ে এবং হারাম। এই বর্ণনা মানুষকে বাহানা থেকে বাঁচায়। নেশা মানুষের বুদ্ধি, আচরণ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে—তাই ইসলামে তা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রত্যেক নেশা সৃষ্টিকারী বস্তু খামরের অন্তর্ভুক্ত।
- নেশাজাতীয় বস্তু হারাম—হাদিসে সরাসরি বলা হয়েছে।
- বস্তুটির নাম নয়, নেশা সৃষ্টির প্রভাব মূল বিষয়।
- মদ ও মাদক বিষয়ে বাহানা করার সুযোগ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
